কেন বাড়ছে রড সিমেন্টের দাম?

iron-cement1-108519.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

লাগামহীন হয়ে উঠেছে দেশের রড-সিমেন্টের বাজার। দুইমাসের ব্যবধানে প্রতিটন রডে দাম বেড়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতিব্যাগ সিমেন্টের দর বেড়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রধান দুই নির্মাণ সামগ্রীর দাম এতটা বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। আর রড ও সিমেন্ট প্রস্ততকারকরা বলছেন, দাম বেড়েছে কাঁচামাল ও বাজারজাতের বাড়তি খরচের প্রভাবে।

মাস দুয়েক আগে প্রতিটন রডে মানভেদে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা দাম বাড়ার পর কয়েক ধাপে আবারো বেড়েছে রডের দাম। বর্তমানে বাজারে সবচে ভালোমানের রডের দাম পড়ছে টনপ্রতি ৭০ থেকে ৭২ হাজার টাকা আর মধ্যম মানের রডের দাম ৬১ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। সেইসাথে একমাসের ব্যবধানে প্রতিব্যাগ সিমেন্টের দামও চারবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা বলেন, সিমেন্টের দাম প্রতি সপ্তাহে ৮০ থেকে ১২০ টাকা বেড়েছে। সামনে আরও ২০ টাকা বাড়বে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। লোহার দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

শুকনো মৌসুমে নির্মাণকাজের চাপ থাকায় চাহিদা বাড়ে রড ও সিমেন্টের। সাধারণত মোট নির্মাণ ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশী হয় এ দুই সামগ্রীতে। দফায় দফায় রড সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন রিহ্যাবের প্রথম সহ-সভাপতি লিয়াকত।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে আবাসন শিল্পের উপকরণগুলোর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের পণ্যগুলোর দাম বেড়ে যাবে। অন্যান্য সময়ে যে পরিমাণে বৃদ্ধি পায় সেই তুলনায় এবারের মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক হয়নি বলে মনে হয়।

অন্যদিকে প্রস্তুতকারকরা বলছেন, ডলারের দাম ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে বেড়েছে রড-সিমেন্টের দাম।

বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং স্টিল মিলস্ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোয়ার হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম পোর্টই আমাদের পণ্যের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। এছাড়া এফওবি প্রাইস এবং ফ্রেইট কস্টও বেড়েছে। যেই কন্টেইনারগুলো ক্যারি করতে ২০ হাজার টাকার খরচ হতো সেটা এখন ৩৭ থেকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতির সহ-সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, বিক্রির পরিমাণ ৩০ মিলিয়ন টন হলেও আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ৪৫ মিলিয়ন টন। উৎপাদন বেশি হওয়ায় আমাদের পক্ষ থেকে ইচ্ছা করে দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণেই বেড়েছে সিমেন্টের দাম।

দেশে বর্তমানে-বেশ কয়েকটি সরকারি মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান আছে, তাই শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৎপরতায় চলতি সপ্তাহে রডের দাম টনপ্রতি মোট ৩ হাজার টাকা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রস্তুতকারকরা।

Top