খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ১০ টাকার চাল পাচ্ছে সাড়ে ৮৭ হাজার পরিবার

images-2.jpg

এম. বেদারুল আলম :
বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির কারনে অসহায় দরিদ্রদের জন্য সরকার প্রতিশ্রুত খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি চালু করেছে। সাধারণ মানুষের খাদ্য কষ্ট লাগবে খাদ্য মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন হতদরিদ্রদের জন্য কেজি মাত্র ১০ টাকায় চাল বিক্রির কর্মসূচি গ্রহন করেছে। খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় কক্সবাজারে ইতোমধ্যে ১০ টাকার চাল বিক্রির জন্য ১৮৩ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি ১০ টাকা করে মাসে এক পরিবার ৩০ কেজি চাল ডিলারদের কাছ থেকে কিনতে পারবে। সারা দেশের ন্যায় জেলায় মার্চ ও এপ্রিল মাস পর্যন্ত উক্ত খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি চলবে বলে জানা গেছে।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ তাহসিনুল হক জানান, কক্সবাজারের ৮ উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে। চাল বিক্রির জন্য ইতোমধ্যে ১৮৩ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে ৮৭ হাজার ৭শ ২৩ পরিবারের জন্য ২৬৩১.৬৯০ মে.টন চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাজারে চালের দাম গড়ে ৩৯ টাকা কেজি হওয়ার প্রেক্ষিতে সরকার দরিদ্রদের জন্য ১০ টাকায় চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। ডিলারদের জন্য সরকার কেজি প্রতি সাড়ে ৮ টাকায় বিক্রি করছে আর ডিলাররা সুবিধাভোগিদের কেজিতে ১০ টাকায় বিক্রি করছে। শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত কার্ডধারীরা ১০ টাকার চালের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য কর্মকর্তা।
জেলা খাদ্য অফিসসূত্রে জানা যায়, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় জেলায় সাড়ে ৮৭ হাজার পরিবারের জন্য ১৮৩ জন ডিলারকে ২৬৩১.৬৯০ মে.টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক ডিলার , উপকারভোগি পরিবার এবং বরাদ্দের পরিমান হলো কক্সবাজার সদরে ৬৪৯৮ পরিবারের জন্য ২২ ডিলারকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৮৪.৯৪০ মে.টন। চকরিয়ায় ১৩১২৫ পরিবারের জন্য ২৮ জন ডিলারকে ৩৯৩.৭৫০ মে.টন। পেকুয়ায় ১০৫৪১ পরিবারের জন্য ১৯ ডিলারকে ৩১৬.২৩০ মে.টন। কুতুবদিয়ায় ৩৯৯৩ পরিবারের জন্য ৯ ডিলারকে ১১৯.৭৯০ মে.টন। মহেশখালীতে ১৩২৬২ পরিবারের জন্য ২৫ ডিলারকে ৩৯৭.৮৬০ মে.টন। উখিয়ার ১০৩২৯ পরিবারের জন্য ২২ ডিলারকে ৩০৯.৮৭০ মে.টন। টেকনাফের ১৬১৫৯ পরিবারের জন্য ৩১ ডিলারকে ৪৮৪.৭৭০ মে.টন। রামুতে ১০৮১৬ পরিবারের জন্য ৭ ডিলারকে ৩২৪.৪৮০ মে.টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের বরাদ্দ ডিলাররা খাদ্য অফিস থেকে ক্রয় করে নিজেদের গুদামজাত করার পর উপকারভোগিদের বিতরণ চলছে বলে জানা গেছে।
এদিকে উপকারভোগিদের তালিকা প্রনয়নে ব্যাপক অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। তালিকা প্রনয়ন করার সময় প্রকৃত দরিদ্র পরিবার কিন্তু ভোটের সময় উক্ত জনপ্রতিনিধিদের ভোট দেয়নি সেই অজুহাতে অনেক অসহায় পরিবার বাদ পড়েছে বলে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অপরদিকে ১০ টাকার চাল বিক্রির সময় অনেক ডিলার গোপনে চাল কালোবাজারে বিক্রি করে গুদামে আটা এবং নি¤œমানের ময়দা দরিদ্র পরিবারকে কিনতে বাধ্য করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাঠ তদারকির জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি থাকলেও অজ্ঞাত কারনে তদন্ত কর্মকর্তারা মাঠে না যাওয়ায় চালের পরিবর্তে আটা বিক্রি করছে ডিলাররা এমন অভিযোগ করছেন উপকারভোগিরা।
ফলে সরকারের অত্যান্ত দরিদ্র ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি তদারকির অভাবে সুফলবঞ্চিত হচ্ছে দরিদ্র পরিবারগুলো। প্রকল্পটি যথাযত এবং সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ণ হলে সরকারের ১০ টাকার চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি সফলভাবে সম্পন্ন হবে যা সরকারের নির্বাচনি ওয়াদা পুরনের শামিল। এ ব্যাপারে মাঠে তদারকি জোরদার প্রয়োজন।

Top