সালমানের দুই বছরের কারাদণ্ড

Salman_khan20180405131944.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় সালমান খানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যরা এ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। যোধপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেব সিং খাতরি বৃহস্পতিবার এ রায় প্রদান করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রায়কে সামনে রেখে আদালতের নির্দেশ মতো উপস্থিত ছিলেন এ মামলার অভিযুক্ত অভিনেতা সালমান খান, সাইফ আলী খান, অভিনেত্রী টাবু, সোনালী বেন্দ্রে, নীলম ও দুশ্যন্ত সিং। এছাড়া ছিলেন সালমানের বোন আলভিরা ও অর্পিতা। মামলার রায় শুনে ভেঙে পড়েন সালমান। তবে খুব শিগগির এ অভিনেতা জামিন পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৯৮ সালে হিন্দি সিনেমা হাম সাথ সাথ হ্যায়’র  শুটিং চলাকালীন যোধপুরের কাছে কঙ্কনী গ্রামে বিরল প্রজাতির কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে সালমানের বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে মামলাও দায়ের হয়। সিনেমাটিতে সালমান খানেরসহ অভিনয়শিল্পী সাইফ আলী খান, সোনালী বেন্দ্রে, টাবু ও নীলমকেও এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।

প্রায় দুই দশক ধরে চলে আসছিল এ মামলা। ভারতের বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী বিরল প্রজাতির কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ এই হরিণকে ভক্তি করেন এবং এটি রক্ষায় কাজ করে থাকেন। জানা যায়, সিনেমার শুটিং চলাকালীন নিজেই গাড়ি চালিয়ে শিকারে বেরিয়েছিলেন সালমান। সেই গাড়িতে ছিলেন টাবু, সাইফসহ অন্যান্যরা। গাড়ির মধ্য থেকেই গুলি করে হরিণ হত্যা করেন সালমান। গুলির আওয়াজ শুনে দৌড়ে এসেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃত হরিণটিকে পড়েও থাকতে দেখেন তারা। পাশাপাশি জিপসি গাড়িটি যে সালমান চালাচ্ছিলেন সেটিও দেখতে পান। তারা গাড়ির পেছনে ধাওয়া করেন। কিন্তু গতি বাড়িয়ে এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান তারকারা।

এরপরই অস্ত্র আইন ও কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার মামলা দায়ের হয়। সালমানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের ৫১ ধারা এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ৫১ ও ১৪৯ ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। যদিও বারবার নিজেকে নির্দোষ বলে আসছেন সালমান। এমনকী তার আইনজীবীর দাবি ছিল, বন্দুক দিয়েই যে হরিণটিকে হত্যা করা হয়েছে এরকম কোনো প্রমাণ মেলেনি। মিথ্যা সাক্ষী ও কাগজপত্র দিয়ে মামলায় সালমানকে ফাঁসানো হচ্ছে।

এর আগে ২০০৬ সালে এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল সালমানকে। কয়েকদিন জেলেও ছিলেন এ অভিনেতা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি পান তিনি। একই বছর সালমানকে দেয়া আদালতের সাজা স্থগিত করেন রাজস্থান আদালত। ২০১৬ সালে রাজস্থান উচ্চ আদালত এ মামলা থেকে এই অভিনেতাকে অব্যাহতি দেন। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সালমানের বন্দুকের গুলিতেই যে হরিণগুলোর মৃত্যু হয়েছে তার কোনো প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু রাজস্থান সরকার এ বিষয়ে আপিল করলে সালমানকে পুনরায় আদালত থেকে নোটিশ পাঠানো হয়।

গত বছর ১৩ সেপ্টেম্বর এ মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। বাদি পক্ষের আইনজীবী প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য তুলে ধরেন। ২৩ অক্টোবর বাদি পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর সালমানের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয় এবং তা শেষ হয় চলতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। গত ২৪ মার্চ এটি শেষ হয়।

 

Top