পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন ধর্ষিতার পক্ষে যাওয়ায় হামলা স্বামী-স্ত্রী আহত

download-2.png

বার্তা পরিবেশক :

ধর্ষনের অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বাদীর পক্ষে যাওয়ায় মামলার অভিযুক্ত আসামীরা আবারও ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী ও তার স্বামীর ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সকাল ৮ টার দিকে চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নের মগনামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত স্বামী-স্ত্রীকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলাটির (সিপি মামলা নং-৫৮৩/১৭) দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৬ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত প্রতিবেদনে চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নের শাহরিয়া পাড়ার মৃত আবু তালেবের ছেলে জয়নাল আবেদিন ও মনগানামাপাড়ার মৃত রশিদ আহামদের ছেলে ছমি উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই এর পরিদর্শক পুলক বড়–য়া আদালতে তাঁর দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘আমার তদন্তকালে, স্বাক্ষ্য প্রমাণে, ভিকটিমের ডাক্তারী সনদ পর্যালোচনা এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় বাদীনির অভিযোগে বর্ণিত ০১ নং আসামী জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে বাদীনিকে জোরপূর্বক ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন করার অপরাধ এবং ০২ নং আসামী ছমি উদ্দিন কর্তৃক ১ নং আসামীকে ওই অনৈতিক ও আইন বহির্ভূত কাজে সহায়তা করার অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতিয়মান হয়।’
ধর্ষিতার স্বামীর অভিযোগ, পিবিআই কর্তৃক আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্দ হয়ে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সকালে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন, ছমি উদ্দিন ও মো: হোসেন লোহার রড, হাতুড়ি, দা ও কিরিচ নিয়ে তার বসতঘরে হামলা চালায়। তারা বাদী ও বাদীর স্বামীকে লোহার রড দিয়ে প্রচুর মারধর করে। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে জীবন নিয়ে শংকায় ভুগছেন তিনি। অভিযুক্ত আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ন্যায় বিচার পাবেন কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। এ অবস্থার নিজের ও স্ত্রী সন্তানের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নালিশী দরখাস্তে ধর্ষিতা অভিযোগ করে জানান, ছমি উদ্দিনের বসতবাড়ি তার বসতবাড়ির সাথে লাগোয়া। তাঁর স্বামী টমটম চালক এবং তিনি প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হয়ে গভীর রাতে বাড়িতে ফিরেন বলে পুরো দিন তিনি বাড়িতে একা থাকতেন। জয়নাল আবেদিন ও ছমি উদ্দিন বন্ধু হওয়ায় প্রায় সময় জয়নাল ছমি উদ্দিনের বাড়িতে আসত এবং তাকে একা পেয়ে বিভিন্ন যৌন উত্তেজনামূলক কথাবার্তা বলে উত্যক্ত করত। ২০১৭ সালের ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রমজান মাস হওয়ায় লোকজন তারাবির নামাজে যায়। এ সুযোগে তাকে একা পেয়ে অভিযুক্তরা তাঁর ছোটভাই নুরুল আমিনকে অন্যান্য বন্ধুদের সহায়তায় হাত, পা ও মুখ বেধে আটকে রাখে। পরে ছমি উদ্দিন গামছা দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে এবং জয়নাল আবেদিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। পরে তার শোর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে মামলা করা হলে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটির তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দেন।

Top