দায়িত্বপালনে অবহেলা, ১০ আইনজীবীকে অব্যাহতি

Nihad-News-PIc-1.jpg

আজিম নিহাদ :
জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা লিগ্যাল এইড কক্সবাজারের আইনজীবী প্যানেল থেকে ১০ জনকে বাদ দিয়েছে জেলা কমিটি। দায়িত্বপালনে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে তাদেরকে লিগ্যাল এইডের আইনজীবী প্যানেল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বিষয়ক সমন্বয় সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান।
জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয় সূত্র জানায়, অসহায় দরিদ্র মানুষেরা বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা নিতে লিগ্যাল এইডের দ্বারস্থ হন। তাদের মামলা পরিচালনা করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় লিগ্যাল এইডের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের। কিন্তু কিছু কিছু আইনজীবী তাদের সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি। একারণে লিগ্যাল এইডের জেলা কমিটি ১০ জন আইনজীবীকে প্যানেল থেকে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদেরকে বাতিল করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, কক্সবাজারে লিগ্যাল এইডের প্যানেলভুক্ত আইনজীবী রয়েছেন ৪৬ জন। যারা লিগ্যাল এইডের মামলা পরিচালনা করেন। এদের মধ্য থেকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ১০ জনকে বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া আইনজীবীরা হলেন- মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, মো. আহসান উল্লাহ, মোক্তার আহমদ (৩), মো. ফিরোজ আলম, একেএম এরশাদ উল্লাহ, ফাহিমা আক্তার, হারুন অর রশিদ, মো. ফারুক ইকবাল, সেলিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান।
১০ জন আইনজীবীকে প্যানেল থেকে বাতিলের বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম বলেন, যাদেরকে প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বপালনে চরম অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। এমনও আছে যে, একজন আইনজীবী বিগত আট বছরেও লিগ্যাল এইডের মামলা পরিচালনায় একবারও উপস্থিত হননি। যারা দায়িত্বপালনে অবহেলা করছে, তাদেরকে একাধিক বার নোটিশ করা হয়েছে। কিন্তু তারা নিজেদের ভুল সংশোধন করেননি। একারণে তাদেরকে বাতিল করা হয়েছে। তাদের স্থলে নতুন ১০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়াও বাকি যারা আছেন, তারাও তাদের দায়িত্বপালনের বিষয়ে সতর্ক হবেন।
সমন্বয় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গণি, চীফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তৌফিক আজিজ, পাবলিক প্রসিকিউটর মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সরকারি আইন কর্মকর্তা মো. ইসহাক, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ইকবালুর রশিদ আমিন সোহেল প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ সহকারি জজ তাওহিদা আক্তার।
সভায় গত ফেব্রুয়ারী থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম তুলে ধরেন লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ সহকারি জজ তাওহিদা আক্তার। সেখানে বলা হয়, উল্লেখিত সময়ে লিগ্যাল এইডে আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন জমা পড়ে ১৯২ টি। এরমধ্যে কারাগার থেকে পাঠানো হয় ৪৭ টি ও সহায়তা প্রার্থীরা সরাসরি আবেদন করেছেন ১৪৫ টি।
১৯২ টি আবেদনের মধ্যে ৮০ টি আবেদনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ করা করা হয়েছে। চারটি মামলায় সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। আর ১০৮ টিতে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।
সভায় জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম লিগ্যাল এইডের আইনজীবী অ্যাড. খায়রুল আমিনের কার্যক্রম নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অ্যাড. খায়রুল আমিন একটি মামলায় ১১ বার জামিন আবেদন করেও জামিন নিতে ব্যর্থ হন। আর তিনি ওই ১১ বার জামিন আবেদনের জন্য লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে ১১ হাজার টাকার একটি বিল পাঠান। ওই বিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেন জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এই বিলের বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ১১ বার জামিন আবেদন করেও যদি ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি করেছেন কি? এছাড়াও অ্যাড. খায়রুল আমিন লিগ্যাল এইড অফিস কর্তৃক পূরণীয় ৬টি আবেদন অন্যায়ভাবে পূরণ করেছেন। যেটা মারাত্মক অসুন্দর কাজ।

Top