সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অভিযোগ শামীম গেস্ট হাউজের মালিকই হোসেন আলীকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়েছে

Coxs-News555.doc-2-e1523391305529.jpg

বার্তা পরিবেশক :
কক্সবাজার শহরের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থিত শামীম গেস্ট হাউজের মালিক সেলিম কোম্পানি হোসেন আলীকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী ছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা সবাই সংসার নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়া পালং ইউনিয়নের মোহাম্মদ শফিরবিল গ্রামে বসবাস করে আসছি। পরে কর্মসংস্থানের জন্য আমি পাড়ি জমাই সৌদিআরবে। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে মাতৃভুমি বাংলাদেশে ফেরত আসি। বিদেশে আমার কষ্টার্জিত টাকা ও আমার বড় ভাই হোসেন আলীর জমি ব্যবসার টাকা নিয়ে কক্সবাজার শহরে হোটেল ব্যবসা করার জন্য মনস্থির করি এবং পরে পিতার সম্পত্তি বাবদ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ক্ষতিপূরণের টাকাসহ গত ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর কক্সবাজার শহরের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টে দুই বছরের জন্য এক কোটি টাকার বিনিময়ে ‘শামীম গেস্ট হাউস’ নামের আবাসিক হোটেলটি ভাড়া চুক্তিনামা সম্পাদন করে ব্যবসা শুরু করি। এতে প্রথম পক্ষ হিসাবে সেলিম কোম্পানি ও দ্বিতীয় পক্ষ হিসাবে আমার বড় ভাই হোসেন আলী চুক্তিনামাটিতে স্বাক্ষর করেন। পরে বড় ভাই হোটেলটির পরিচালনাসহ সব দায়িত্ব আমাকে (মোহাম্মদ আলী) কক্সবাজার নোটারির মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন।
মোহাম্মদ আলী আরো বলেন, হোটেলটি নেয়ার পর দীর্ঘ ৪মাস ধরে সুনামের সাথে ব্যবসা করার সুবাধে হোটেলটি লাভজনক হয়। এতে প্রথম পক্ষ শামীম গেস্ট হাউসের মালিক সেলিম কোম্পানির লোলুভ দৃষ্টি পড়ে। এরপর থেকে হোটেলটি ছেড়ে দিতে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় হোটেলটি ছেড়ে দিতে অপারগতা প্রকাশ করি আমরা।
মোহাম্মদ আলী বলেন, সম্প্রতি এক লাখ পিস ইয়াবাসহ ঢাকায় সেলিম কোম্পানির ৩জন বিশ্বস্ত লোক র‌্যাবের হাতে আটক হয়। হোটেল ছেড়ে না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঢাকায় অবস্থানরত সেলিম কোম্পানির অন্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হোসেন আলীকে জড়িয়ে দেয় এবং আটক সেলিম কোম্পানির লোকজন হোসেন আলীকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত আছে বলে র‌্যাবকে জানায়। পরে আমার বড় ভাই হোসেন আলী জমি ব্যবসার কাজে ঢাকায় অবস্থানকালে হোটেল থেকে তাকে খালি হাতে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাব। পরে আটক ওই ৩জনের সাথে সম্পৃক্ত দেখায়। অন্যদিকে চুক্তিনামা ভঙ্গ করে আমার (মোহাম্মদ আলী) হাতে থাকা হোটেল দখলে নিতে তার বিরুদ্ধে একের পর মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করাতে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী আরো অভিযোগ করেন, একদিকে বড় ভাই হোসেন আলী ঢাকা কারাগারে। অন্যদিকে হোটেলটি কেড়ে নিতে সেলিম কোম্পানির নানা ষড়যন্ত্রে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। দু:খের বিষয় ৯ এপ্রিল রাতে ভাড়াটিয়া একদল অস্ত্রধারি সন্ত্রাসী দিয়ে হোটেলটিতে ভাংচুর চালায় এবং লাখ লাখ টাকার মুল্যবান আসবাবপত্র ভাংচুর করে হোটেল থেকে তাদের বের করে দেয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো দাবি করেন, ইয়াবা কি জিনিষ কোন সময় দেখেননি মোহাম্মদ আলীর পরিবার। অথচ পুরো পরিবারকে ইয়াবা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তিনি সেলিম কোম্পানিই ইয়াবার গডফাদার বলে দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের নাগরিক সেলিম অবৈধ কালো টাকায় কক্সবাজারের টেকনাফে এসে কৌশলে বাংলাদেশী নাগরিকত্ব লাভ করে ইয়াবা ব্যবসা করে আজ কক্সবাজার শহরের কোটিপতির খাতায় নাম লেখিয়েছে। ইয়াবা ব্যবসাসহ অবৈধ আয় করে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে শামীম গেস্ট হাউস নামে আবাসিক হোটেলটি গড়ে তোলে। ওই হোটেলটিতে দীর্ঘদিন পতিতা ব্যবসা করে কাড়ি কাড়ি টাকা আয় করেন।

Top