কাজ ভাল হওয়ায় ৪৮ ইউপিকে আড়াই কোটি টাকা পুরস্কার

DSC09390g.jpg

এম. বেদারুল আলম ॥
কাজের মান ভালো হওয়ায় জেলার ৪৮ টি ইউনিয়ন পরিষদকে আড়াই কোটি টাকা পুরস্কার দিয়েছে স্থানিয় সরকার মন্ত্রণালয়। আগের বছরের বরাদ্দে চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ কাজের যে দক্ষতা বা মান বজায় রেখেছে কিংবা সরকারের নির্দেশনা অনূযায়ি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে কিনা তা তদন্ত করে এ পুরস্কার দিয়ে থাকে মন্ত্রণালয়। এ পুরস্কারকে দক্ষতা ভিত্তিক বরাদ্দ বলা হয়ে থাকে। প্রাপ্ত বরাদ্দ ও ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে ।

৮ উপজেলার ৭১ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ এ পুরস্কার পেয়েছে বলে জানিয়েছেন এলজিএসপি প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলেটর আহসান উল্লাহ চৌধুরী মামুন। তিনি জানান ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে দেওয়া বরাদ্দের টাকা যথাযত ব্যবহার এবং প্রকল্প সমুহ সুচারুরুপে বাস্তবায়নকারি ইউনিয়নকে উক্ত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে গ্রামিন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ,শিক্ষাখাতের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, নারীর ক্ষমতায়ণ, পরিবেশগত উন্নয়ন, পয়নিস্কাশন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন প্রদানসহ বিভিন্ন প্রকার সামাজিক অবকাঠামোগত সংস্কারে দেওয়া প্রকল্প সমুহ বাস্তবায়নকারি ৪৮টি ইউনিয়ন এ বরাদ্দ পেলো ।

জানাযায়, এ প্রকল্পে তদারকি এবং প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের অর্থছাড় দেওয়া। কাজের মান যথাযথ না হলে তদারকি কর্মকর্তাগণ অভিযোগ প্রদান করলে বরাদ্দ সরাসরি আটক রাখা হয় এবং পরের বছর শাস্তিস্বরুপ বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া। ফলে দূর্ণীতি করার সুযোগ কম থাকে। কাজের দক্ষতা ভিত্তিক মূল্যায়নের জন্য স্থানিয় সরকার পর্যায়ে গ্রামে উন্নয়ন কার্যত দৃশ্যমান হয়। পুরস্কারের আশায় জনপ্রতিনিধিগণ দূর্নীতি অনেকাংশে কম করে থাকে।জেলায় এ প্রকল্পের দেখভালের জন্য কর্মকর্তাকে প্রতিমাসে ৮ দিন কাজের মান পরিদর্শনে মাঠে যেতে হয় কর্মকার্তাদের।

জেলার পুরস্কার প্রাপ্ত ৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ ও টাকার পরিমান হলো হলো চকরিয়ার যথাক্রমে বমুবীলছড়ি ২৭৫৮৩৭ টাকা, বড়ইতলী ৯১৪২৮৯ টাকা, ভেউলা মানছড় ৪২৫৯৩৮ টাকা, পূর্ব বড় ভেউলা ৩৭০১০৪ টাকা, চিরিংগা ৫৩৮৩৫০ টাকা, দোলাহাজাড়া ১০৮৫৪২৯ টাকা, ফাঁসিয়াখালী ৩৪৮০৬৯ টাকা, হারবাং ৮০২২৯৪টাকা, কাঁকরা ৫২২০১৭টাকা, খুটাখালী ৩৩৩০৯৪ টাকা, লক্ষারচড় ২৫৬১৪২ টাকা, শাহারবীল ৬৩৬২৯৭ টাকা, পশ্চিম বড় ভেউলা ৩৯০৫০৭টাকা, কোনাখালী ৫৪৪১৫৫টাকা, সোরাজপুর-মানিকপুর ২১৪৫২৭ টাকা। কক্সবাজার সদরে চৌফলদন্ডী ৩৮০৮২৬ টাকা, ঈদগাঁও ৬৮২১১৮টাকা, ইসলামপুর ৪২৭৯৯৯ টাকা, জালালাবাদে ২৬১১৭২ টাকা, ঝিলংজায় ৭৯০৩৬২ টাকা, খুরুশকুলে ৭৬৪৯২১ টাকা, পিএমখালীতে ৭০০৫৪৫ টাকা, পোকখালীতে ৩১৫৭০৫ টাকা।
কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইলে ৪৭৩৯৯৬ টাকা, বড়খোপে ৪৪০৬৬০ টাকা, দ. ধুরুং ৫২২৩৫০ টাকা, উত্তর ধুরুং ৩৭০৫৯৩ টাকা ।

মহেশখালীর ধলঘাটায় ২১৪৮২৪ টাকা, হোয়ানকে ৬২২৩৫৩ টাকা, রামুর চাকমারকুলে২৫৪১৪৯ টাকা, ফতেষারকুলে ৭৮৭৪১৪ টাকা, গর্জনিয়ায় ৬৫৫৬১৮ টাকা, ঈদগড়ে ৩১২৪১২টাকা, জোয়ারীনালায় ৫৭৫৬৯৮টাকা, খুনিয়াপালংয়ে ৫০৯৫২৭ টাকা, কাউয়ারখোপে ৩৪৩৩৫৬ টাকা, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ৩৭৬৯৯৬ টাকা।

টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় ৯০৮১৯১ টাকা, টেকনাফে ৬৪১৯০৮টাকা, হোয়াইক্ষং ৬৯৬৩০৭ টাকা।

উখিয়ার হলদিয়াপালং ৬০৯৪০৮ টাকা, জালিয়াপালং ১১৪৮৬০৭ টাকা, রাজাপালং ১০১৩৭৭৬টাকা, রত্নাপালং ৪৮৭৮৪৫ টাকা পেকুয়ার বারবাকিয়ায় ৪১৯২৯৬ টাকা, উৎানটিয়া ২৫৩৩৬৬টাকা, পেকুয়া ৫৫৪২১৫ টাকা, টৈটং ৩৯০৫৫৩ টাকা।

স্থানিয় সরকার সহায়তা প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলেটেটর আহসান উল্লাহ চৌধুরী মামুন জানান, বাংলাদেশের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এলজিএসপি , গ্রামিন চেহারা আজ পাল্টে যাচ্ছে এ প্রকল্পের বাস্তবায়নের কারনে। এটি যেহেতু সরকারি – বেসরকারি ভাবে আলাদা তদন্ত হয় তাই এখানে দূর্নীতি হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। তবু কোন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় যা জেলার অনেক ইউনিয়নে বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছিল।

Top