পহেলা বৈশাখকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা সূর্যাস্ত উপভোগ করতে সৈকতে লাখো পর্যটক

COX-BOISHAKH-.doc.jpg-1.jpg

মুহিববুল্লাহ মুহিব :
বাংলা বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। শুক্রবার বিকেলে সৈকতে আসতে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা। গতকাল সৈকতের ১০টি পয়েন্টে লাখো পর্যটক বিদায় জানায় বছরের শেষ সূর্যাস্তকে। আর তারা প্রত্যাশা করেন পুরাতন বছরের সমস্ত জরা ও গ্লানি ভুলে গিয়ে সুখ, শান্তি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত উন্নয়নশীল বাংলাদেশ। এদিকে লাখো পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন স্পটগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
প্রতি বছরের মতো এবছরও পহেলা বৈশাখ উদযাপনে সৈকত নগরী কক্সবাজারে আসছে বিপুল সংখ্যক পর্যটক। আর পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে তারকা মানের হোটেলগুলো আয়োজন করেছে নানা অনুষ্ঠানের। আর ট্যুরিস্ট পুলিশও নিরাপত্তায় নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
কোন উপলক্ষ বা ছুটি হলেই এখানে আসেন হাজার হাজার পর্যটক। আর পহেলা বৈশাখ হলে তো কথাই নেই। তাই পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে নানা রঙে সাজানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে উৎসবের নগরীতে রূপ নেবে পর্যটন শহর। ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং হওয়া চার শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে আসতে শুরু করেছেন পর্যটকরা।
কক্সবাজারে বেড়াতে আসা নবদম্পতি পুরান ঢাকার বাসিন্দা পারভেজ চৌধুরী ও সায়মা চৌধুরী জানান, কক্সবাজারের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। ইতিমধ্যে হিমছড়ি, পাথুয়ারটেক, ইনানী ও রামুর বৌদ্ধবিহারগুলো দেখা হয়েছে। তবে বাংলা বছরের শেষ সুর্যাস্ত দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান তারা।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে কথা হয় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী দম্পতি সোহেল আরমান ও শাহেনা আক্তারের সাথে। তারা জানিয়েছেন, বাংলা বছরের শেষ সুর্যাস্ত দেখে মুগ্ধ। নতুন বাংলা বছরে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট যাতে স্থিতিশীল থাকে এটাই তাদের প্রত্যাশা।
কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির মুখপাত্র আবু তালেব জানান, ভিন্ন মাত্রিক আয়োজনের কারণে এবারও পহেলা বৈশাখে আগত পর্যটকরা আনন্দ আর হৈ-হুল্লোড়ে মাতোয়ারা থাকবে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফজলে রাব্বি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে আসছে। বিশেষ করে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আরও বেশি পর্যটক আসা শুরু করেছে। সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ। সাদা পোশাকের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট (পর্যটন সেল) সাইফুল ইসলাম জয় জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা সার্বক্ষণিক মাঠে আছি। সৈকতের প্রতিটি মোড়ে পুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশ মেতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আমি নিজেও মাঠে রয়েছি।

Top