প্রত্যাবাসন নয়, পরিবারটি ফিরেছে নিজ ইচ্ছায়

Ukhiya-Cox.-Rafique.-15.04.2018.doc-e1523938557574.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :
মিয়ানমার-বাংলাদেশের তমব্রু সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে ৫ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন হয়েছে বলে প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স। তবে রোহিঙ্গা পরিবারটি দেশে ফেরার বিষয়টি প্রত্যাবাসন পক্রিয়ায় পড়েনা বলে দাবী করেছেন, শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ আবুল কালাম।
গতকাল রবিবার দুপুরে কক্সবাজারে অবস্থিত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কমিশনার কার্যালয়ে তিনি এ কথা জানান সাংবাদিকদের। তিনি বলেন, গতকাল রাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তমব্রু’র কোনার পাড়া শূন্য রেখায় অবস্থান করা ৫ সদস্যের একটি পরিবার মিয়ানমারে ফেরত গেছে। ওই শূন্য রেখাটি মিয়ানমারের অংশ বিশেষ। তাই এটি কোনভাবেই প্রত্যাবাসন পর্যায়ে পড়েনা। তারা তাদের দেশে আসা-যাওয়া করতেই পারে। সুতরাং এটি প্রত্যাবাসন নয়।
তিনি আরো জানান, ওই শূন্য রেখায় প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। শূন্য রেখায় থাকা রোহিঙ্গা যদি তাদের দেশে চলে যায় বা তাদের সরকার তাদের নিয়ে যায় এটি খুবই ইতি বাচক। আর এই পক্রিয়ার মাধ্যমেই পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ হবে।
এ ব্যাপারে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল জানান, শূন্য রেখার কোনারপাড়া জায়গাটি হচ্ছে মিয়ানমারের। সুতরাং ওদের সীমান্ত থেকে কেউ ওদের দেশে গেলে ওটাকে চলে যাওয়া বা প্রত্যাবাসন বুঝায়না। কারন ওই জায়গা’ত তাদেরই। তবে চলে যাওয়া শুরু হলে ভাল হবে। আমরাও চাই রোহিঙ্গারা তাদের দেশে চলে যাক।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গতকাল শনিবার তুমব্রু সীমান্তের কোনার পাড়া জিরো পয়েন্ট থেকে আখতার কামাল নামের এক রোহিঙ্গা ব্যক্তি তার পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে গোপনে মিয়ানমারে চলে গেছেন। আর সে দেশের পৌছার পর পরই দেশটির কর্মকর্তা তাদের স্বাগত জানিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
ওই জিরো পয়েন্টে’র রোহিঙ্গা মাঝি দিল মোহাম্মদ জানান, আখতার কামাল মিয়ানমারের মংড়– জেলার বলিবাজারের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি গোপনে মিয়ানমার সরকারের সাথে যোগাযোগ করে রাতের আধারে সবার অজান্তে নিজ দেশে পাড়ি দেয়। তাদের মধ্যে ১ জন পুরুষ ৩ জন নারী ও ১ জন শিশু রয়েছে।
এ ব্যাপারে ওই শূন্য রেখার আরিফ নামে এক রোহিঙ্গা ব্যক্তি জানান, আখতার কামাল দীর্ঘদিন মিয়ানমার সরকারের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতেন। এই অবস্থায় তার দেশে ফিরা এবং সে দেশ তাকে স্বাগত জানানোর বিষয়টি প্রত্যাবাসনের সহজ প্রক্রিয়াকে জটিল করার একটি অংশ।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আর রাখাইনদের নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ১১ লাখ রোহিঙ্গা। ইতিমধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাংলাদেশ সরকারের সাথে চুক্তি করেছে। সে অনুযায়ী রাখাইনে অস্থায়ী শিবির গড়ে তোলার কথা বললেও জাতিসংঘ বলছে এখনো রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার মত পরিবেশ তৈরী হয়নি।

Top