বেতুয়াবাজার-বাঘগুজারা সড়কটি ঝুকির কবলে মাতামুহুরী নদী থেকে ড্রেজিং দিয়ে বালু উত্তোলন

স্টাফ রিপোর্টার, চকরিয়া :
মাতামুহুরী নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উত্তোলনকৃত বালু মজুদ না রেখে বাহিরে অবৈধভাবে বিক্রি করে আসছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সচেতনমহল।
জানা গেছে, মাতামুহুরী নদীর নাব্যতা ফেরাতে পাউবোর পক্ষ থেকে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে চকরিয়া উপজেলার বেতুয়াবাজার ব্রীজ পয়েন্ট থেকে উপরে-নীচের অংশ মিলিয়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় খনন কাজ চলছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ড্রেজিংয়ের নামে সরকারি টাকা খরচ করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও বেশির ভাগ বালু ফের পানির সাথে নদীতে নেমে যাচ্ছে। অপরদিকে তীর এলাকায় শক্তিশালী মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারনে নদীর একাধিক পয়েন্টে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের ফসলি জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসির অভিযোগ করে জানান, উত্তোলনকৃত বালু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রতিদিন ৫০-৬০টি ডাম্পার ট্রাকে করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বালু বিক্রি করে আসছে। ফলে বালু ভর্তি ভারী ট্রাক চলাচলের কারনে বর্তমানে বেতুয়াবাজার-বাঘগুজারা সড়ক ভেঙ্গে একাধিক খানা-খন্দেক ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনগনের স্বাভাবিক চলাচল বিঘিœত হচ্ছে।
জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অধীনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৫টি বালু মহাল রয়েছে। তারমধ্যে উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে চারটি, ডুলাহাজারা ইউনিয়নে তিনটি, পাগলিরবিলে একটি, ফুলছড়িতে একটি, ফাসিয়াখালীতে দুইটি ও কোনাখালীতে একটি।
প্রতিবছর জেলা প্রশাসন এই ১৫টি বালু মহাল ইজারা দিয়ে অন্তত কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করেন। অনুরূপভাবে গতমাসে এসব বালু মহাল নতুনভাবে ইজারা দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
চকরিয়া উপজেলার একাধিক বালু মহালের ইজারদার অভিযোগ করেছেন, সরকারি টাকায় মাতামুহুরী নদীর ড্রেজিং করার বিষয়টি একটি ভাল উদ্যোগ। উত্তোলনকৃত বালু বাহিরে বিক্রি করার জন্য কার্যাদেশে কোন ধরণের নির্দেশনা না থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা অমান্য করে চলছেন। উল্টো ঠিকাদারের প্রতিনিধি বর্তমানে প্রতিদিন ৫০-৬০টি ট্রাকে করে উত্তোলনকৃত বালু বাহিরে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ অবস্থার কারনে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সয়লাভ হয়ে পড়েছে মাতামুহুরী নদীর উত্তোলনকৃত বালু।
ভুক্তভোগী বালু মহাল ইজারদাররা দাবি করেছেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বালু বাণিজ্যের কারনে জেলা প্রশাসন কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তোলনে তাঁরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বালু বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমান বলেন, পাইলট প্রকল্পের আওতায় মাতামুহুরী নদীর তিন কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিং করতে প্রায় ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কার্যাদেশ প্রাপ্তি সাপেক্ষে গতমাস থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু করেছে।
তিনি বলেন, উত্তোলনকৃত বালু অন্যত্র বিক্রি করার কোন নির্দেশনা নেই কার্যাদেশে। তবে উত্তোলনকৃত বালু ফের যাতে নদীতে নেমে না যায় সেইজন্য অনুকুলস্থল থেকে সরিয়ে অন্যত্র মজুদ করার কথা বলা হয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সয়লাব হোসেন বলেন, বালু উত্তোলনের পর বাহিরে বিক্রি করতে কার্যাদেশে কোন ধরণের নির্দেশনা নেই একথা সত্য। তবে উত্তোলনকৃত বালু গুলো যাতে ফের নদীতে নেমে না যায় সেইজন্য আমরা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছি। কিছু কিছু বালু বাইরে বিক্রিও করা হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা কিছু অনিয়ম করছি। এছাড়াও কোন উপায় নেই।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরউদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, মাতামুহুরী নদীতে ড্রেজিংখাতে কাজ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে তাতে আমাদের বলার কিছুই নেই। কিন্তু কার্যাদেশ লঙ্ঘন করে উত্তোলনকৃত বালু বাহিরে বিক্রি করে সরকারি বালু মহালের ক্ষতি করবে তা মেনে নেয়া যাবেনা। তাই তাদের অনৈতিক বালু বাণিজ্য বন্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Top