টেকনাফের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী আরমানকে খুঁজছে পুলিশ

Md-Arman.jpg

বার্তা পরিবেশক : 
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং এর শাহপরীর দ্বীপের উত্তর পাড়ার মৌলভি আরমান (২৮) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইয়াবা ব্যবসায়ী আরমান রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে তার বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসি। এদিকে পুলিশ হন্য হয়ে খুঁজছে আরমানকে। সে ওই এলাকার মৃত নুরুল হক মেম্বারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মৌলভি আরমান ছিলেন একজন সাধারণ ব্যক্তি। যার কোনভাবে দিন কাটত। তিনি রাতারাতি কোটি পতি বনে যান। বিভিন্ন ব্যাংকে তার কোটি কোটি টাকা। তার উঠাবসা চিহ্নিত ও প্রভাবশালী ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে। এছাড়া টেকনাফ সহ বিভিন্ন স্থানে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
এলাকাবাসির কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যখন তার নাম চলে আসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায়।
সাম্প্রতিক সময়ে মৌলভি আরমান ও তার লোকজন এলাকায় ত্রাস শুরু করেছে। সে বেপরোয়াভাবে চালাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। তার অত্যাচারে অতিষ্ট এবং আতংকিত এলাকাবাসি। মৌলভি আরমানের ব্যাপারে টেকনাফ থানার ওসি বলছেন, আরমান চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার গাছবাড়িয়া এলাকায় ৬৪ ভরি স্বর্ণ নিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল একই এলাকার নবী হোসনের পুত্র মোহাম্মদ ইউনুছ। আটক মোহাম্মদ ইউনুছ হচ্ছেন মৌলভী আরমানের আপন চাচাত ভাই। আর আরমানই তাকে কয়েক মাস পরে জামিনে মুক্ত করিয়ে নেয়। আর প্রকাশ পায় ওই স্বর্ণ ব্যবসার মূলহোতা হলেন মৌলভি আরমান।
এছাড়া গত বছরের ১৯ মার্চ শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া ঘাটে মৌলভী আরমানের ১৭ লাখ ইয়াবার চালান নিয়ে একটি ট্রলার মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসে। ওসব ইয়াবা আনলোড করার সময় স্থানীয় লোকজন তাড়া করে স্থানীয় নুর আহমদের পুত্র মাহমুদু, আবু শামার পুত্র ফিরোজ, হেলাল, মৃত মোহাম্মদ শফির পুত্র নজির আহমদ, আবু শামার পুত্র আবু তাহের, মৃত সব্বির আহমদের পুত্র মৌলভী এমদাদকে। তারা সবাই ছিল মৌলভি আরমানের লোকজন।
পরে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা এসে কিছু ইয়াবা উদ্ধার করে। যদিও কিছু ইয়াবা মৌলভী আরমান সিন্ডিকেট’র সদস্যরা স্থানীয় মৃত দিল মোহাম্মদ প্রকাশ দিলিচ্ছা’র স্ত্রী নুর নাহারের ঘরে জমা রাখে। নুর নাহার বেগম বেগমন হলেন মৌলভী আরমানের আপন খালা।
আর ঘটনার তিনদিন পর ডিবি পুলিশের সদস্যরা এসে বড় দুটি ইয়াবার চালান নুর নাহার বেগমের ঘর থেকে উদ্ধার করে। শুধু তাই নয় মৌলভী আরমানের নির্দেশনায় মাহমুদুকে দিয়ে স্থানীয় ফজলুর রহমানের তিন ভাইয়ের জমি দখল করে রাখে। একই দিন সাবরাং কচুবনিয়ার রশিদ আহমদের ছেলে আমান উল্লাহ’র (২৪) ঘর থেকে তিন হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। মামলা নং (৫৩-২০৫)। এই মামলায় মৌলভী আরমান পলাতক আসামী। এই ইয়াবা ব্যবসায়ী আরমানের মিয়ানমারের পার্টনার হিসেবে কাজ করছেন, মন্ডু এলাকার শামসুল আলম।
স্থানীয়রা আরো জানান, এক সময় খুবই দরিদ্র অবস্থায় থাকা মৌলভি আরমান সীমান্ত উপজেলার ব্যস্ততম করিডোরটি ৪১ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা নেন। আর ওই ঘাট দিয়েই তিনি চোরাচালান, ইয়াবা ও মানবপাচারের জন্য ব্যবহার করেন। আর এই অপকর্ম করার জন্য মৌলভী আরমান ঘাটের পুরাতন শ্রমিকদের বাদ দিয়ে নতুন লোকজন নিয়োগ দিয়েছে।
মৌলভি আরমানের এসব অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছেন, ওই এলাকার মৃত নুর আহমদের ছেলে, মাহমুদু, লেটু’র ছেলে জায়তুল্লাহ, মৃত সব্বির আহমদের ছেলে এমদাদ ও আবদুল মজিদের পুত্র আবদুস সালাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসি জানান, টেকনাফ থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তার চালান পৌঁছানোর দায়িত্বে থাকেন এমদাদ এবং আবদুস সালাম।
তার এই অনৈতিক কর্মকান্ডের ফলে তাকে শাহপরীরদ্বীপ হুফ ফাজদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হুন্ডি ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে মৌলভী আরমানকে গ্রেফতার করে তার সিন্ডিকেটের নির্যাতন থেকে নিরীহ মানুষদের বাঁচানো হোক।
আরমানের ব্যাপারে সাবরাং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম রেজু’র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ২০১৫ সালে একটি স্থানীয় পত্রিকায় দেখেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইয়াবার তালিকায় মৌলভি আরমানের নাম রয়েছে। এছাড়া তিনি যে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তা এলাকাবাসি আরো ভাল করে জানেন।
এ ব্যাপারে মৌলভি আরমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় তার নাম আছে কিনা তিনি জানেননা। তবে তিনি কোন অপরাধের সাথে জড়িত নন।
এব্যাপারে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়–য়া জানান, মৌলভি আরমান চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাকে পুলিশ খুঁজছে। খুব শীগ্রিই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Top