টেকনাফের চাঞ্চল্যকর শিশু আলী উল্লাহ হত্যা মামলায় ইয়াবা ডন দিদার কারাগারে

teknaf-news-16-04-2018.doc.jpeg

বার্তা পরিবেশক :
কক্সবাজারের টেকনাফের আলোচিত শিশু আলী উল্লাহ আলো হত্যা মামলার আসামি ও স্বরাষ্টমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন দিদার মিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে কক্সবাজার বিচারিক আদালতের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (টেকনাফের দায়িত্বপ্রাপ্ত) তামান্না ফারাহ এই আদেশ দেন।
জানা যায়, সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি দিদার মিয়া বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে। তার পিতা এক সময় টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বিএনপি সরকারের আমলে পুরো টেকনাফের ত্রাস হিসেবেও তার পরিচিতি ছিল। পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামীলীগে যোগ দেন। তবে এখনো পুরোপুরি ভাবে বিএনপির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি তার পরিবার। ক্ষমতার পালাবদল হলে অস্তিত্ব ঠিকিয়ে রাখতে জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোঃ হাশেম মেম্বারের কন্যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে বিএনপি প্রীতিও অটুট রেখেছেন। স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইয়াবা তালিকায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ তার তিন ছেলের নাম রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর শিশু পুত্র আলী উল্লাহ আলো (৭) কে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। পরে নিহতের পিতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পরে ওই মামলায় সিআইডির তদন্তে দিদার মিয়া ও মুহিবুল্লাহকে উক্ত মামলায় অন্তর্ভূক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আমিন উদ্দিন বলেন, মুহিবুল্লাহ পলাতক থাকলেও দিদার মিয়া জামিনে ছিলেন। সোমবার দুপুরে হাজিরা দিতে আসলে আদালত দিদার মিয়াকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
আইনজীবী আরও বলেন, আলোচিত এই মামলায় এখনও দুইজন আসামী জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে।
মামলার বাদী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, উপজেলার চেয়ারম্যানের ছেলেসহ তারা আমার শিশু সন্তানকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করেছিল। অবশেষে ওই মামলার আসামি ও স্বরাষ্টমন্ত্রালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন দিদার মিয়াকে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে আমার শিশু সন্তান হত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আমাকে ও ভগ্মিপতিকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি ও শিশু আলো হত্যা মামলার আসামী দিদার মিয়াকে জামিন না মঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর খবরে দিনভর সীমান্ত জুড়ে নানান আলোচনার ঝড় উঠে। সীমান্তের ওই ইয়াবা কারবারি দিদার মিয়া ইয়াবা কারবারের মাধ্যমে খুব কম সময়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যান। তার বিপুল অর্থ সম্পদ এবং বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি চোখে পড়ার মতো।

Top