রোগীর স্বজনদের হামলায় ২ চিকিৎসক আহত, চিকিৎসা বন্ধ

Coxs-News-2.jpg

ওমর ফারুক হিরু :
কক্সবাজার সদর হাসাপাতালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকে ঘুষি মারার ঘটনায় অভ্যন্তরিন বিভাগে বন্ধ রয়েছে চিকিৎসা সেবা। এতে ভোগান্তির শেষ থাকছেনা হাসাপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও অভিভাবকদের। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দাবী তুলেছে ৭ দফা। তাদের দাবী পূরণ না হলে হাসপাতালের অভ্যন্তরিন চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখা হবে।
এদিকে লোকজন সদর হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে ছুটছে চট্টগ্রাম-ঢাকা সহ বিভিন্ন হাসপাতালে। এ বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলছেন, তাদের দেওয়া ৭ দফা দাবী মেনে না নিয়ে অভ্যন্তরিন বিভাগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবেনা। যদিও জরুরী ও বর্হিবিভাগের চিকিৎসা চলছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রোগীর অভিভাবকদের হামলায় আহত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা হলেন, ডাঃ শেফায়েত হোসেন আরাফাত ও তাওহীদ ইবেনে আলাউদ্দিন। তারা দুই জন’ই কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক। তাদের শরীরে কিল-ঘুষি মারা হয়েছে বলে জানান তারা।
এদিকে হামলার ঘটনার ২ ঘন্টা পর হাসান মাহমুদ (৩০) নামে এক রোগীকে আটক করেছে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। ওই রোগীকেই কেন্দ্র করে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটে। আটক হাসান মাহমুদ হলেন শহরের লাইট হাউস এলাকার ইসমাইলের ছেলে।
বিষয়টাকে একটু বাড়াবাড়ি বলে জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর অনেক অভিভাবক। তারা বলছেন, ঘুষি মারার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের আশ^াস দেওয়া হয়েছে। এর পরেও যদি চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখা হয় এটি বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারন রোগী’ত বাচাঁতে হবে।
সাত দফা দাবীর ব্যাপারে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মোসাব্বীর হোসেন তানিম জানান, তাদের দাবীগুলো চিকিৎসকদের অধিকার আদায়ের দাবী। পাশাপাশি রোগীদের যথাযথ সেবা প্রদানের জন্য এই দাবীগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
রোগীর স্বজনদের হামলায় আহত শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ডাঃ শেফায়েত হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে হাসান মাহবুব নামে এক রোগী মুখে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসেন। রোগীর চাপের মধ্যে তাকে চিকিৎসা দিতে দেরি কেন বলেই মারধর শুরু করে ৪-৫ জন যুবক। মারার পরে তারা রোগীকে সাথে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এর পরই হাসপাতালে সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয় এবং হাসপাতালে ৩ টি গেইটও বন্ধ করে দেয়। এর ফলে রোগীরা আসা-যাওয়া করতে পারছিলনা। অনেক রোগী ভিতরে এবং বাইরে আটকা পড়েছিল। আর ভোগান্তিতে পড়েছে মারাত্বকভাবে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ পু চ নু জানান প্রায়ই চিকিৎসকের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এটি খুবই খারাপ। যারা সেবা প্রদান করবে তাদেরকেই কারনে অকারনে মারধর করা হচ্ছে। এটা কোনভাবে মেনে নেওয়া যায়না। চিকিৎসদের নিরাপত্তা প্রদানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে পড়েছে। রোগীদের ভোগান্তির ব্যাপারে তিনি জানান, দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে। তবে তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কখন সেবা প্রদান শুরু হবে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকীদের আটকের চেষ্টা চলছে।

Top