জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মুকুল গ্রেফতার

Bikkovv.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক :
কক্সবাজার জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি, জাতীয় ভলিবল ফেডারশনের সদস্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আমিনুল ইসলাম মুকুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি মামলায় রবিবার রাত ১ টার দিকে শহরের পুরান পন বাজার রোড়ের কক্সবাজার জেলা রেস্তুরাঁ বাবুর্চি সমিতি’র আয়োজিত তাফসীরুল কুরআন মাহফিল শেষে বাড়ী ফেরার পথে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সদর থানা সূত্র জানায়, গত ১৭ মার্চ আদালতের নিষেধজ্ঞা অমান্য করে আমিনুল ইসলাম মুকুল সহ তার আতœীয়স্বজনরা একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করছিল। এই খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর থানার এসআই দীপক কুমার সিংহ ও এসআই ফরহাদ ঘটনাস্থলে যায়। তখন মুকুল পুলিশের উপস্থিতিতে ওবাইদুল হক নামের একজনকে মারধর করে। ওই ঘটনার ওবাইদুল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে সেই মামলায় আমিনুল ইসলাম মুকুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার সিংহ বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ওবায়দুল সহ আরো কয়েকজনকে মারধরের দায়ে একটি মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী আমিনুল ইসলাম মুকুল। তিনি আরো বলেন, ১৭ মার্চ মুকুল পুলিশের সামনেই বাদীকে মারধর করেছে।
তবে ঘটনার প্রত্যেক্ষর্দশীরা জানান, যে জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছিল সেখানে আদালতের নিষেধজ্ঞা নেই। পুলিশকে ভুল বুঝিয়ে ওবায়দুল এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
পুলিশের উপস্থিতিতে ওবায়দুলই প্রথম দ্রুত বিচার আদালতের এপিপি এডভোকেট বখতিয়ার ও তার স্ত্রী লাভলী আকতারকে মারধর করেছে। পরে উত্তেজিত জনতা ওবায়দুলকে ঘেরাও করলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে দ্রুত বিচার আদালতের এপিপি এডভোকেট বখতিয়ার বলেন, ওবায়দুল চিহ্নিত ভুমিদূস্য। সেদিন সে আমার এবং আমার স্ত্রীকে প্রথমে মারধর করেছে।
তবে কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন সুনির্দিস্ট মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী হিসাবে আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কিন্তুজেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড, মোহাম্মদ তারেক বলেন, আমিনুল ইসলামকে ৩২৬ ও ৩০৭ ধারার মারামারি মামলায় আটক দেখানো হয়েছে ্এটা সম্পূনূ মিথ্যা মামলা। তবুও আমরা আইনী ভাবে তা মোকাবেলা করবো।
এদিকে মুকুলকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় গ্রেফতার করার প্রতিবাদে গতকাল বিকেল ৪ টা পর্যন্ত শহরের সাড়ে ৩শতাধিক দোকান বন্ধ ছিল। সেসময় তারা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও করেছে।
সোমবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেট। বিক্ষোভে যোগ দেয় প্রায় ৫৩টি ব্যবসায়ী সমিতি। এ সময় সাধারণ ক্রেতাদের মারাতœক দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। দোকান বন্ধ পেয়ে ফেরত গেছে অনেকেই।
গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাধারণ ব্যবসায়ী, দোকান মালিক, সুশীল সামাজের বিক্ষোভ মিছিল বের করে। প্রতিবাদ মিছিলটি আদালতপাড়ায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি শেষের দিকে জনসভায় পরিণত হয়। বিক্ষোভকালে পথে পথে যোগ হয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন।মিছিল শেষে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা।
কক্সবাজার ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি ও রয়েল টেইলার্সের মালিক মাওলানা নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজারস্থ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সমিতির সহ-সভাপতি রফিক মাহমুদ, নুরপাড়ার বিশিষ্ট মুরব্বি আলহাজ্ব ডা. মোহাম্মদ আমিন, কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, কক্সবাজার ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও এ.ছালাম মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরহাদ, ফিরোজা শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মন্নান, হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম-আহবায়ক নাসির উদ্দিন সুমন, সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, জুয়েলারী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ঝন্টু ধর, ক্রোকারিজ সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী, মেট্রেস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তাক আহমদ, পাদুকা সমিতির সভাপতি নুরুল আলম প্রমুখ।
এছাড়া ব্যবসায়ী নেতা মুকুলের মুক্তি চেয়ে শহরের প্রায় সাড়ে তিনশাতধিক দোকান মালিক, শ্রমিক-কর্মচারী ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। দোকানে তালা লাগিয়ে অর্ধ দিবস বিক্ষোভ করে। সবার দাবী একটাই, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অনতিবিলম্বে আমিনুল ইসলাম মুকুলের নিঃশর্ত মুক্তি।

Top