পেশকার পাড়ায় জমি দখল ও সন্ত্রাসি হামলায় আমিন গ্রেফতার

Amin-1-e1521544670811.jpg

বার্তা পরিবেশক :

শহরের পেশকার পাড়ায় এক ব্যবসায়ির জমি দখলে নিতে অর্ধ-শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসি নিয়ে হামলা ও বেধড়ক মারধরের ঘটনায় জেলা যুবদলের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও সালাউদ্দিন মুক্তি পরিষদের আহবায়ক আমিনুল ইসলাম মকুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মামলার এজাহারে প্রকাশ, পেশকার পাড়ার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি ওবাইদুল হোছাইনের মালিকানাধীন সাড়ে ১০ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা চালায় আমিনের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসি গ্রুপ। পরে আমিনের বেপরোয়া সন্ত্রাসি কর্মকান্ডের কারনে জমির মালিক অসহায় ব্যবসায়ি আদালতের আশ্রয় নেয়। আদালত কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে উক্ত জমিতে ১৪৪ ধারা জরি করেন। কিন্তু ১৪৪ ধরা ভঙ্গ করে গত ১৭ মার্চ আমিন তার অর্ধ-শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসি নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এসময় ব্যবসায়ি ওবাইদুল হোছাইন আদালতের আদেশসহ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিত্বে পুলিশসহ ওবাইদুল হোছাইন জমিতে গেলে পুলিশের সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ব্যবসায়িকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক আঘাত করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ি ওবাইদুল হোছাইনের আত্মীয় স্বজন এগিয়ে গেলে তারাও হামলা ও মারধরের শিকার হন। পরে আহত ব্যবসায়ি ওবাইদুল, মানিক ও ফয়সাল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। চিকিৎসা শেষে জমির মালিক ওবাইদুল হোছাইন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ১৮ মার্চ রাতে আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ব্যবসায়ি ওবাইদুল হোছাইন বলেন, নুরপাড়ার যুবদল নেতা আমিন দীর্ঘদিন ধরে আমার (ওবাইদুল) কাছ থেকে গন্ডা প্রতি ৫ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবী করে আসছিল। পরে আদালতের আশ্রয় নিই। কিন্তু তার পরেও সে আমার মালিকানাধীন জমি দখলে নিতে সন্ত্রাসিদের দিয়ে হামলা চালায়। পাশাপাশি পুলিশের সামনে আমাকে বেধড়ক কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। এছাড়া আত্মীয় স্বজন বাঁচাতে আসলে তাদেরকে গুরুতর জখম করে। মামলার বাদী বলেন, পেশকার পাড়ায় আমার জমির আশে পাশে শুধু আমিনের নয়, তার বাপ-দাদারও কোন জমি নেই। পেশী শক্তি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সে জমি দখলের চেষ্টা ও আমাকে অসহায় পেয়ে গন্ডা প্রতি চাঁদা দাবী করে আসছিল। সর্বশেষ চাঁদা দিতে না পারায় আমিন বাহিনীর সন্ত্রাসিদের হাতে হামলার শিকার হয়েছি। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, নিজের অপকর্ম ঢাকাতে ব্যবসায়িদের ব্যবহার করছে যুবদল নেতা আমিন। তিনি আরো বলেন, আমিন যদি অপকর্ম করে, অন্যের জমি দখল করে, সাধারণ মানুষের উপর হামলা করে, তাহলে কেন তার বিচার হবেনা। এই অপকর্মের ভাগ কেন ব্যবসায়ি মহল নিচ্ছে। ব্যবসায়িদের এটা কোন ধরনের দাবী। বরং আমিনের সন্ত্রাসি কর্মকান্ড ও অন্যের জমি দখল-বেদখলের ব্যাপারে তার শাস্তি চেয়ে মিছিল করা দরকার। পানবাজার রোড এলাকার এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি বলেন, আমিন কিসের ব্যবসা করে আমরা জানিনা। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম কি তাও জানিনা। সে মূলত সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত কিছু ব্যবসায়ি নামধারি জামাত শিবিরের নেতা। না হয় আমিন জমি দখল করবে। সন্ত্রাসি কর্মকান্ড করবে সেই অপকর্মের দায়-দায়িত্ব ব্যবসায়িরা নিবে কেন। এখানেতো ব্যবসায়িক কোন সমস্যা হয়নি। যা নিয়ে ব্যবসায়িদের আন্দোলন করতে হবে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, ব্যবসায়িক কোন ঘটনা নিয়ে মামলা হয়নি বা ওই অভিযোগে আমিন আটকও হয়নি। সে আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে স্ব-শরীরে জমি দখল-বেদখল নিয়ে হামলা ও মারধরের মামলায় আটক হয়েছে। তাছাড়া এই মামলায় তার পরিবারের আরো অনেকেই আসামী হয়েছে। সুতারাং এলাকা ভিত্তিক নিজেদের স্বার্থ নিয়ে মারামারি বা জমি দখল-বেদখলের ঘটনায় ব্যবসায়িরা কেন হস্তক্ষেপ করছে বুঝতে পারছিনা। যে কেউ অপরাধ করলে শাস্তির আওতায় আসবে এটাই স্বাভাবিক।

Top