শেখ হাসিনাকে নিয়ে যা লেখা আছে ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায়

pm-110316.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক ॥

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ‘টাইম ম্যাগাজিন’ প্রতিবছর এ তালিকা করে। বৃহস্পতিবার এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

১০০ জনকে নিয়ে লিখেছেন আরো ১০০ ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লিখেছেন নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী। তাঁর লেখাটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো :

‘১৯৯০-এর দশকে প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, সে সময় তিনি বাংলাদেশ সামরিক শাসনের অবসানে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। আমাদের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৮ সালে, যখন তিনি আরেক সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলেন। এর পরের বছর তিনি নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী হন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বাবার উত্তরসূরি হিসেবে হাসিনা কখনই লড়াইয়ের ভয়ে ভীত নন। সুতরাং গত আগস্টে মিয়ানমারের নির্যাতন থেকে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করলে তিনি এই তিনি মানবিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। অতীতে অনুন্নত বাংলাদেশ কখনই বিপুল শরণার্থীকে স্বাগত জানায়নি। কিন্তু তিনি জাতিগত নিধনের ভয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাননি।

এ কারণে প্রশংসা পেলেও হাসিনা মানবাধিকার নিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন। তাঁর সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুমের নেতৃত্ব দিয়েছে (বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে) এবং সমালোচনা বা ভিন্নমত বরদাশত করে না। ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে লড়াই করা শেখ হাসিনার এই কর্তৃত্বপরায়ণতার প্রবণতা সংযত করা দরকার এবং মিয়ানমার ও অন্যদের কাছে উদাহরণ সৃষ্টি করে বোঝানো উচিত যে গণতন্ত্রে দ্বিমত ও বৈচিত্র্য থাকে।’

তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নামও রয়েছে।

নেতা ক্যাটাগরির তালিকায় ২৭ জনের মধ্য আছেন শেখ হাসিনা। তিনি আছেন ২১ নম্বরে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা এর আগেও নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’, ‘জাতিসংঘের সাউথ সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড’, জাতিসংঘ ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’-এর মতো পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন শেখ হাসিনা।

Top