জমে উঠছে বই মেলা ১৫ দিন করার দাবি

book-mala.doc7_.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
সাহিত্যমোদি, কবি, লেখক, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষজনের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের বই মেলা। প্রাকৃতিক পরিবেশ ভাল থাকলে সামনের দিন গুলোতে আরো ভীড় এবং বিক্রি বাড়বে বলে মনে করেন বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসা প্রকাশনা সংস্থার কর্মকর্তারা। গতকাল ছুটির দিনে বই মেলাতে দর্শনার্থীদের ভীড় আরো বেশি ছিল। ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া জাতীয় গন্থকেন্দ্রের সহযোগিতায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কতৃক আয়োজিত ৭ দিন ব্যাপী পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে আয়োজিত বই মেলা চলবে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত। বই মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব এড. তাপস রক্ষিত জানান,প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও কক্সবাজারে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই বই মেলা হচ্ছে, এখানে দেশের ৪৩ টি খ্যাননামা প্রকাশনী সংস্থা তাদের বই নিয়ে স্টল দিয়েছে,এছাড়া কক্সবাজারের স্থানীয় অনেক কবি সাহিত্যিকদের বই আছে কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর স্টলে। সব স্টলে ছোট বড় সবার জন্য সব ধরনের বই আছে। তিনি বলেন, প্রতি বছর মার্চের প্রথম সপ্তাহে বই মেলা হলে ভাল হয়। তাতে মানুষের মনে থাকবে যে বছরের এই মাসে বই মেলা হবে। আর ৭ দিনের বদলে ১৫ দিন বই মেলা করা দরকার।
বই মেলাতে কক্সবাজার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টলে গিয়ে কর্মরত আবদুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা গেছে বই মেলাতে এখানো মানুষ তেমন বেশী নাই। আর বিক্রি বলতে ১৮ এপ্রিল বিক্রি কিছু কম হলেও ১৯ এপ্রিল ভাল হয়েছে,গতকাল শুক্রবার বেশ ভাল হয়েছে। সামনের মৌসুম যদি ঠিক থাকে তাহলে বিক্রি বাড়বে। আমাদের স্টলে ছোটদের হাদিস,নবী রাসুলের জীবনী থেকে শুরু করে বড়দের জন্য সব ধরনের বই আছে। এসময় আহমদ পাবলিশিং হাউজ এর সহকারী ম্যানেজার শাহ আলম বলেন,গত বছর আমরা ৭ দিনে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছিলাম,তবে এবার দর্শনার্থীর ভীড় থাকলেও বিক্রি খুব কম তিনি জানান গত বছর জেলা প্রশাসন থেকে বেশির ভাগ স্কুল কলেজ কে বাধ্যতা মুলত কিছু বই কিনতে বলা হয়েছিল সেটা এবারে করা হয়নি যার ফলে বই বিক্রি কমে গেছে। কারন সাধারণ মানুষের এখন বইয়ের প্রতি আগ্রহ নেই স্কুল কলেজ বা প্রতিষ্টান গুলোই বই কিনে।
এ সময় বই মেলাতে আসা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুল আলম কুতুবী বলেন,আমি প্রতি বছর বই মেলা থেকে বেশ কিছু পছন্দের বই কিনি। এবার দেখছি ভাল মানের কিছু বই পাওয়া যায় কিনা। এখন আমি দেখছি কক্সবাজারের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে লেখা বই সম্ভবত এটাই কিনবো।
পুরু মেলা প্রাঙ্গনে সব চেয়ে বেশি ভীড় দেখা গেছে কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর স্টলের সামনে এখানেই স্থানীয় অনেক সাহিত্যমোদিরা বই হাতে নিয়ে আলাপচারিতায় ব্যাস্ত, এ সময় আলাপ কালে শিক্ষক নাছির উদ্দিন,কবি শামিম আকতার,কবি রুহুল কাদের বলেন,বই মেলা আমাদের প্রাণের মেলা এখানে এসে সাহিত্য একাডেমীর স্টলের সামনে বিভিন্ন মানুষ জনের সাথে দেখা হওয়া কথা বলাটাই আমাদের কাছে ভাললাগার বিষয়। কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর সভাপতি মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান,আমাদের একাডেমীর নিজস্ব ভাবে প্রকাশিত ৭০ টির মত বই এখানে আছে। এছাড়া আমার নিজের লেখা বই আছে ১৬ টি, বই কত বিক্রি হলো সেটা মোটেও মুখ্য বিষয় না,এখানে মানুষ এসে বই দেখছে বা পড়ছে সেটাই বড় পাওয়া,তিনি দাবী করেন প্রতি বছরের মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বই মেলা হলে ভাল হয় আর ১৫ দিনের জন্য করা উচিত, কারন ৭ দিন মানুষ জানতেই সময় চলে যায়। তিনি বলেন, সন্তানের হাতে ভিডিউ গেম বা দামী মোবাইলের বদলে বই উপহার দিলে তার ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারবে অভিবাবক। তাই আগে অভিবাবকদের বেশি সচেতন হতে হবে।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম ফজলুল করিম বলেন,বর্তমান সময়ে পাঠবই শেষ করতেই ছেলে মেয়েদের কাহিল অবস্থা হয়ে পড়ে। আর সব অভিবাবকদের সন্তানকে প্রথম করার মানসিকতায় প্রাইভেট কোচিং নিয়ে দৌড়ঝাপ করতেই সময় চলে যায়। এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে পাঠ্য বইয়ের বাইরে যে একটি বিশাল জগত আছে সেটা অনেকে জানেনা। অনেক ডিগ্রি বা অনার্স পড়–য়া শিক্ষার্থীরা দেশের কয়েক জন কবি সাহিত্যিকের নাম বলতে পারে না। এটা খুবই দুঃখ জনক। তাই বেশি করে বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। সবার এখন তাড়াতাড়ি সব কিছু চায় সেই মানসিকতা পরিহার করে ধৈর্য্য ধরে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এর জন্য অভিবাবকদের বেশি এগিয়ে আসতে হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন,জ্ঞান অর্জন ছাড়া পৃর্থীবিতে কেউ সফল হতে পারে নি পারবেও না,আর জ্ঞান অর্জনের এক মাত্র পথ বই পড়া,পাঠ্য বইয়ের সাথে বাইরের জ্ঞান অর্জন করাটা খুবই জরুরী না হলে অনেক পিছিয়ে পড়বে। তিনি বলেন,সন্তানদের বিশেষ দিনে ভাল জামা কাপড়ের সাথে একটি বই উপহার দিন যাতে সে বই পড়তে অভ্যস্ত হয়। এবং আগামীতে বই মেলাকে আরো ব্যাপক আকারে করা হবে বলে জানান তিনি।

Top