অতিথি কলাম : নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের প্রতি কক্সবাজারবাসীর আবেদন

1-2.jpg

॥ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর,এডভোকেট ॥

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, রোহিঙ্গা সংকট সরেজমিনে দেখতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ২৮ এপ্রিল। দলটি একটি বিশেষ বিমানে সরাসরি কক্সবাজারে পৌছেন। প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজারে পৌছানোর পর শরণার্থী শিবিরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের দেখবেন, তাদের সাথে কথাও বলবেন। প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও দেখা করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সফর শেষে একই ইস্যুতে ৩০ এপ্রিল দুই দিনের সফরে মিয়ানমারের ঘটনাস্থল রাখাইন রাজ্যে যাবেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এই প্রতিনিধি দলটি। এ দলে রয়েছেন জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি। এ ছাড়া এই দলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সের মতো নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিও রয়েছেন। প্রতিনিধি দলে আরো থাকছেন নেদারল্যান্ড, কুয়েত, বলিভিয়া, ইথিওপিয়া, কাজাখাস্তান, পেরু, পোলান্ড, সুইডেন এবং আইভরি কোস্টের প্রতিনিধিও।
বিশ্বজনমতের চাপে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার বাংলাদেশের সাথে চুক্তি সই করলেও আমরা অতি উদ্বেগের সাথে দেখছি সেই প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়নে বিভিন্ন টাল বাহানায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। চীনের অতি সক্রিয় আগ্রহে গত নভেম্বর মাসে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ মাস হয়ে গেলেও শরণার্থী প্রত্যাবাসনে কোন কার্যকর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বরং মিয়ানমারের তাড়িয়ে দেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়া না নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কুটকৌশলের মাধ্যমে প্রতারণা করতেই দেখা যাচ্ছে। যাচাই বাচাই এর নামে, রোহিঙ্গাদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের নামে সব ষড়যন্ত্র। তোমাদের গণহত্যা,গণধর্ষণ,বাড়ীঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার মুখে আমাদের দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সময়মত যথাযথভাবে তালিকাভুক্ত করে অস্থায়ী শিবির তৈরী করে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা করে এক সাথে রাখা হয়েছে। বিশ্ববাসী তা দেখেছে। এখানে অত যাচাই বাচাই এর কি আছে? তাদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের কথা বলার অর্থ রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ী জ্বালিয়ে দেওয়ার স্বীকারোক্তি নয় কি? তা আন্তর্জাতিক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ নই কি? মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানকারী তাদের পক্ষে লাগাতার গোয়েন্দা সোর্স হিসেবে কর্মরত পাঁচজনের একটি পরিবারকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এজেন্ট হিসেবে গোপন পরিচয় ফাঁস হওয়ায় আশ্রয় গ্রহনকারী রোহিঙ্গাদের রোষানল থেকে বাচাঁনোর জন্য গোপনে রাখাইনে ফিরিয়ে নিয়ে প্রত্যাবাসন শুরু হয়েছে মর্মে সরকারীভাবে মিয়ানমার মিডিয়ায় প্রচার করছে। যদিও বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসী তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এটা মিয়ানমারের অসততা ও আন্তর্জাতিক প্রতারণা নয় কি?
জাতিসংঘসহ বাংলাদেশের সব বন্ধুরাষ্ট্রের তরফে ক্রমাগত আমরা আশ্বাস পেয়ে আসছি যে রোহিঙ্গা সংকটে তারা বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে জাতিগত নিধন থেকে বাচাঁর জন্য কক্সবাজারে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসাও করছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই সংকট সমাধানে বিশেষ করে শরণার্থীদের যথাযথভাবে নিরাপদে,সসম্মানে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর ভুমিকা পালন করছে না। আমরা অতি মর্মবেদনা ও হতাশা নিয়ে দেখছি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার ’ভেটো’ ক্ষমতার চাপে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ভুমিকা রাখতে নিরাপত্তা পরিষদও বার বার ব্যর্থ হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ সময় মত যথাযথ কার্যকরী ভুমিকা রাখতে পারলে হয়তো কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে গণহত্যা,গণধর্ষণ ও বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বসতবাড়ী থেকে জোরপূর্বক বিতাড়ন প্রক্রিয়া অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যেত। অতি অল্প সময়ের মধ্যে ৭ লাখ এবং পুরাতন ৪ লাখ, সব মিলিয়ে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হত না। এটা জাতিসংঘের চরম ব্যর্থতা নয় কি?
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ’ভেটো’ ক্ষমতার অধিকারী চীনের নতুন রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জুয়ো ঢাকায় প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসে সম্প্রতি বাংলাদেশের এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ রোহিঙ্গা সংকটটি নিয়ে তার দেশের মনোভাবের কথা জানান। তিনি বলেন,”আমরা আপনাদের অবস্থান সম্পর্কে জানি,আপনাদের উদ্বেগও বুঝি। আমরা আশা করি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে এর একটা সমাধান খুঁজে নেবে। রোহিঙ্গা সংকটে চীনের কোন স্বার্থ নাই। তবে আমরা দেখছি যে রাখাইন রাজ্যের সমস্যা সমাধানের আশু কোন উপায় নাই। কারণ এটা একটা জটিল সমস্যা,ঐতিহাসিক,জাতিগত এবং ধর্মীয় বিষয় এতে জড়িত।”
২৫ এপ্রিল ২০১৮ প্রথমআলো পত্রিকায় প্রকাশিত মিজানুর রহমান খান কর্তৃক গৃহীত রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুসলিম দেশবিষয়ক রাষ্ট্রদূত(অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ) কনস্তানতিন শুভালভ ২৩ এপ্রিল ক্রিমিয়ার ইয়াল্টায় কৃঞ্চসাগরের তীরবর্তী হোটেল মৃয়ায় এক সাক্ষ্যৎকারে বলেছেন, সংকটের সমাধান খুঁজে পেতে আপনাদের সঙ্গে মিয়ানমারের যে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগগুলো রয়েছে,তা ব্যবহার করা উচিত। রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকটের একটি সম্পূর্ণ সমাধান আশা করছে।
এটা ঐতিহাসিক সত্য যে রোহিঙ্গা সংকটটি বর্মী দখলদার সেনা শাসকদের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার ফল। বাংলাদেশে বর্তমানে লাখ লাখ রাখাইন সম্প্রদায়ের লোক বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সসম্মানে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অনেকে সরকারের উচ্চ পদে,ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,সেনা কর্মকর্তা,শিক্ষক,অধ্যক্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায়ও প্রচুর উপজাতীয় সম্প্রদায়ের লোক বিভিন্ন নামে শত শত বছর ধরে রাখাইনদের মত বসবাস করছেন। বাংলাদেশে বসবাসকারী রাখাইন সম্প্রদায়ের একজন সরকারী কর্মচারী ও জনপ্রিয় লেখক মং বা অং বাংলাদেশে রাখাইন সম্প্রদায়ের ইতিহাস,ঐতিহ্য ও জীবনধারা ইত্যাদি নিয়ে ৬টি বই প্রকাশ করেছেন। কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্য থিং অং ’লুন্ঠিত সভ্যতা’ নামে একটি বই লিখেছেন। বইগুলো পড়লে পরিস্কার বুঝা যাবে বর্মীরা আরাকান দখল করে একই ধর্মাবলম্বী রাখাইনদের হত্যা,নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে নৃ-জাতিগোষ্ঠী রাখাইনসহ অন্যান্যরা ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে মাতৃভুমি আরাকান থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলায় আশ্রয় গ্রহন করেন। যারা নৌকাযোগে পালিয়ে এসেছিলেন তারা বাংলার বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে এবং যারা পায়ে হেটে পাহাড়ী পথ দিয়ে এসেছিলেন তারা পাহাড়ী এলাকায় বসবাস শুরু করেন এবং আজ পর্যন্ত বসবাস করছেন।
বর্মী সেনা শাসকরা/জেনারেলরা আরাকান রাজ্যে তাদের দখলদারিত্ব বহাল রাখার কুউদ্দেশ্যেই বার্মার নাম বদলে মিয়ানমার করেছে,আরাকানের নাম বদলে রাখাইন করেছে। রোহিঙ্গা মুসলমানরা মিয়ানমারের নাগরিক নয় মর্মে আইন তৈরী করে উগ্রপন্থী-বৌদ্ধদের সাথে সাম্প্রদায়িক বিরোধ উসকে দিয়ে তা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। যদিও সামরিক শাসনের আগে রোহিঙ্গা মুসলমান নেতারা বার্মার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার অনেক নজির আছে। বর্মী জেনারেলরা এখন শত বছর পূর্বে বিতাড়িত এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী উপজাতীয়দের বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে আবার আরাকানে তথা রাখাইন রাজ্যে নিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা বসতবাড়ীতে পুনবাসন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বর্তমানে মিয়ানমার সরকারকর্তৃক বিতাড়িত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য শুধু খাদ্য সাহায্য বাবদ বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে ২৪৩ মিলিয়ন ডলার চেয়েছিল। কিšু— এ পর্যন্ত সাহায্য পাওয়া গেছে মাত্র ৪৫ মিলিয়ন ডলার যা চাহিদার ১৮ শতাংশ মাত্র। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহানুভুতি ও উদ্বেগের মাত্রা খুব উচু হলেও সাহায্যের পরিমাণ খুব কম, হতাশাজনক।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই করার পাঁচ মাস পরও মিয়ানমার সরকার বিতাড়িত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের রাখাইনে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না নিয়ে নতুন নতুন অজুহাতে সৃষ্টি করলেও বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় ভুমিধস, সাইক্লোন, অতিবৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশংকা বেড়েছে। এ অবস্থায় পাহাড় কেটে,নিচু জায়গা ভরাট করে, নতুন করে বনভুমি এলাকা বরাদ্দ দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখার জায়গা করা হচ্ছে। এতে এক ঝুঁকি থেকে বাঁচতে আরেক ঝুঁকি তৈরী করা হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে প্রকৃতির,পরিবেশের। সবার চোখের সামনে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা নতুন করে সৃষ্টি হচ্ছে।
বর্মী জেনারেলরা বৈশ্বিক সমালোচনা ও চাপ থেকে কৌশলে বাঁচার জন্য তাদের পুতুল সরকারকে দিয়ে বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবসন চুক্তি করিয়েছে। এখন মিয়ানমারের প্রধান বিরোধী দল ইউনিয়ন সলিডারিটি এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে দিয়ে ইয়াঙ্গুনে সংবাদ সম্মেলন করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিরোধীতা করাচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে নিরাপদে,সসম্মানে,স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কোন সম্ভাবনা নাই। বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা বসতবাড়ী,জমিসম্পত্তি উন্নয়নের নামে চীন,রাশিয়া ও ভারত দখলে নিচ্ছে বিধায় তারা অর্থনৈতিক স্বার্থে মিয়ানমারের পক্ষে,রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবসনের বিরুদ্ধে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের রাশিয়ার প্রত্যাশা ও আশু সমাধানের কোন রাস্তা চীনের না দেখাতে প্রমাণ হয় উভয় ’ভেটো’ক্ষমতাধারী দেশ চায় রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশেই থেকে যাক।
তৃতীয় বিশ্বের মানুষ আগে বিশ্বাস করতো বিশ্বের নির্যাতিত,নিপীড়িত মানুষের পক্ষে আছে রাশিয়া ও চীন। সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও তার দোসর রাষ্ট্রগুলো নির্যাতনকারীরদের পক্ষে। কিন্তুু অবাক হয়ে আমরা দেখছি বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত রাষ্ট্রহীন অসহায় রোহিঙ্গা মুসলামানদের নির্যাতনকারী মিয়ানমারের জেনারেলদের পক্ষে পরিস্কার ও নিলজ্জ অবস্থান নিয়েছে চীন ও রাশিয়া। নির্যাতনকারীদের পক্ষে ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে তাদের প্রভাব,প্রতিপত্তি ও ভেটো ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করছে দেখে বিশ্ববাসীর মত আমরাও হতবাক,মর্মাহত।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের এই সফর নিশ্চিতভাবেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করবে এবং রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে নতুন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরী হবে। আমরা কক্সবাজাবাসী তথা বাংলাদেশে মানুষ চাই সরে জমিনে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে,নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে,মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ও বাড়ীঘরের ধ্বংসস্তুপ দেখে চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের বিরুদ্ধে ’ভেটো’ ক্ষমতা অপপ্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকবে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গারা অতি দ্রুত তাদের জন্মভুমি রাখাইনে তথা আরাকানে নিজস্ব বাড়ীভিটিতে ফিরে যাওয়ার জন্য আনান কমিশনের সুপারিশগুলো অনতি বিলম্বে বাস্তবায়ন, কার্যকরী করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে মিয়ানমারকে বাধ্য করা হবে। সাত জন সেনা সদস্যকে দশ বছর করে শাস্তি দিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার জন্য গণহত্যা চালানো হয়েছে। মিয়ানমারের সকল দায়ী জেনারেলদের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতে বিচারের ব্যবস্থা করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হউক।
লেখকঃ একজন কলামিষ্ট, সাবেক সভাপতি কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি, সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটার, বহু বইয়ের প্রণেতা এবং কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন সিনিয়ার আইনজীবী।

Top