দেশের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত: হাসিনা

PM-CTG.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য বাবার মতো যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত তিনি। বুধবার চট্টগ্রামের পটিয়ায় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় একথা বলে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চান তিনি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, “যেভাবে আমার পিতা আপনাদের জন্য জীবন দিয়ে গেছে প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়েও আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে আপনাদের সুন্দর জীবন দেব। আপনাদের জন্য আমি যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।” পাকিস্তানি শোষণের নিগড় থেকে বাঙালিকে মুক্ত করার সংগ্রামে জীবনের এক-চতুর্থাংশ সময় কারাগারেই কাটাতে হয়েছিল জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার তিন বছরের মধ্যে নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। তখন বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বড় মেয়ে শেখ হাসিনা পরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন।

জনসভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমার জীবনের কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। “আমার একটাই লক্ষ্য; আমার বাংলার মানুষ একেবারে শহর থেকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত যে মানুষগুলো বসবাস করে, তারা সুন্দর জীবন পাবে, উন্নত জীবন পাবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে; সেটাই আমার লক্ষ্য।” একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বচানকে সামনে রেখে অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মতো চট্টগ্রামের এই জনসভা থেকেও নৌকা প্রতীকে ভোট চান তিনি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আপনারা নৌকায় ভোট দেন। আমরা আপনাদের উন্নয়ন দিতে পারব।” উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার উপর জোর দিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হাসিনা বলেন, “আমরা যদি নৌকায় ভোট পাই, আমরা যদি আগামীতে ক্ষমতায় আসি, আমাদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকবে।” ‘একমাত্র নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশের উন্নতি হবে’- বলার পর নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে এবং এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধু করতে জনসভায় উপস্থিত সবার ওয়াদা নেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই; আপনারা একথা পৌঁছে দেবেন যে, আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করবেন।” প্রধানমন্ত্রী ‘হাত তুলে ওয়াদা’ করার আহ্বান জানালে জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ দু’হাত তুলে ধরেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা এখন কারাগারে।
শেখ হাসিনা বলেন, “এতিমখানার জন্য টাকা আসে “আপনারা চিন্তা করে দেখেন কোরআন শরিফে লেখা আছে, এতিমের হক কেড়ে নিও না, এতিমের সম্পদ লুট করো না, এতিমকে এতিমের ন্যায্য হক দিয়ে দাও। “কোরআন শরিফের নিন্দেশ না মেনে এতিমের নামে টাকা এসেছে একটা টাকাও এতিমখানায় যায় নাই। সব নিজেরা আত্মসাৎ করেছে।” এই মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রায় সরকারের গায়ের জোরে হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির।

শেখ হাসিনা বলেন, “মামলা দিয়েছে কে? আওয়ামী লীগ সরকার তো দেয়নি। দিয়েছে তো সেই তত্ত¦াবধায়ক সরকার। আজকে সেই মামলায় সে শাস্তি পেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করেছে, কোর্ট রায় দিয়েছে। “কোর্টের রায় তারা মানে না, কোর্টকে মানতে চায় না; এমনই তাদের চরিত্র। তারা আইন মানবে না, কানুন মানবে না, কিছুই মানবে না। “তারা জনগণের সম্পদ কেড়ে খাবে। এতিমের টাকা মেরে খাবে। আর সেটার জন্য শান্তি দিল কেন তার জন্য হুমকি-ধমকি-আন্দোলন।” তবে দেশের মানুষ আর দুর্নীতিবাজ-জঙ্গিবাদীদের প্রশ্রয় দেবে না বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি পাওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অনেক কষ্ট ভোগ করেছে। দীর্ঘদিন এদেশে কোনো উন্নয়ন হয় নাই। “আমরা আওয়ামী লীগ দেশে শান্তি চাই, মানুষের উন্নতি চাই। একটা দেশের উন্নতি করতে হলে শান্তির প্রয়োজন। এই দেশ শান্তিপূর্ণ হোক ; সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ কাজ করে।” “আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। বিশ্বসভায় আমরা মাথা উচু করে চলতে পারি, কারো কাছে হাত পেতে নয়,” বলেন তিনি।

॥ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে: প্রধানমন্ত্রী ॥
সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চললেও মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সরকার প্রধান মুক্তিযোদ্ধাদের গুরুত্ব তুলে ধরে এই কোটা বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বিধায় তাদের অধিকার সবার আগে। মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি সবাই সর্বাগ্রে অধিকার ভোগ করবে। সে কারণে চাকরিতে আমরা কোটার ব্যবস্থা করেছি।” তবে কোটা যদি পূরণ না হয়, তাহলে শূন্য পদে সাধারণ চাকরিপ্রার্থী মেধাবীদের নিয়োগ দিতে কোটার শিথিলের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ পদ সংরক্ষিত। এছাড়া নারী ও জেলা কোটা রয়েছে ১০ শতাংশ করে। এই কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সরকার সম্প্রতি জানায়, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের মধ্য থেকে সেসব পদ পূরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জনসভায় বলেন, “তাদের (মুক্তিযোদ্ধাদের) আত্মত্যাগের কারণেই তো আজকে চাকরির সুযোগ, আজকের এই স্বাধীনতা, মানুষের উন্নয়ন। যদি দেশ স্বাধীন না হতো তাহলে কোনো উন্নয়ন হত না, কারও কোনো চাকরিও হত না। কোনো উচ্চ পদেও কেউ যেতে পারত না। “এ কথাটা ভুললে চলবে না। তাই তাদেরকে আমরা এই সম্মানটা দিচ্ছি।” দেশে সোলার প্যানেল, পরমাণু ও কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সারাদেশে একশ ইপিজেড করছি। আমরা চাই দেশে কেউ বেকার থাকবে না।”

Top