সফল হচ্ছে না বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা

images.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বাণিজ্যিক ভিত্তিকে গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা সফল হচ্ছে না। অনেক বহুতল ভবনে পার্কিং ব্যবস্থা রাখলেও সেটা বানিজ্যিক ভিত্তিতে কাজে না আসায় অনেকে সেই পার্কিংয়ের জায়গা বন্ধ করে দিয়ে নতুন ভাবে পরিকল্পনা নিচ্ছে সেখান থেকে কিভাবে বাড়তি আয় করা যায়। অন্যদিকে পার্কির জায়গা গুলোতে গাড়ীর আসা যাওয়া করার জন্য সু-ব্যবস্থা না থাকা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নিরাপত্তার ব্যাঘাত সর্বোপরি বেশি টাকার কারনে বানিজ্যিক গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না মত দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সচেতন মহলের দাবী কক্সবাজারের গুরুত্ব বিবেচনা করে গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থাকে বানিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে তোলা গেলে ভাল সফলতা পাওয়া যাবে।
কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকায় মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিজেদের বহুতল ভবনের নীচতলাতে ৫,৬০০ বর্গ ফুটের বেইসমেন্ট পার্কিংএর ব্যবস্থা করেছেন,সেখানে বানিজ্যিক ভিত্তিতে পার্কিং ব্যবস্থা করার জন্য সাইন বোর্ড দিয়েছে এবং মাসিক ২ হাজার টাকা ভাড়াতে গাড়ী পার্কিং করার অনেক প্রচার প্রচারনা চালিয়েছে কিন্তু তেমন সফলতা আসে নি। তিনি জানান,আমি চাইলে ভবনের কিছু অংশ পার্কিং ব্যবস্থা রেখে বাকি অংশ ভাড়াবাসা করতে পারতাম কিন্তু আমার কাছে একটু ভিন্ন চিন্তা ছিল,আমি নিজে অনেক দেশে ঘুরেছি সেখানে দেখেছি শহরের অনেক জায়গাতে গাড়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে সেটা খুব নিরাপদ এবং ভাললেগেছিল সেই ধারনা থেকে আমিও চিন্তা করেছিলাম এখানে কিছুটা বানিজ্যিক ভিত্তিতে পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তুলবো কিন্তু সেটা সফল হয় নি। গত ২/৩ বছর ধরে আমার সাড়ে ৫ হাজার বর্গ ফুটের পার্কিং ব্যবস্থা থাকলেও আমি সে অনুযায়ী কিছুই আয় করতে পারিনি। এখন ভাবছি ভাড়াবাসা দিলেই ভাল করতাম। তিনি বলেন অবশ্য পার্কিং ব্যবসা ভাল না হওয়ার পেছনে আরো কারন আছে আমার ভবনে আসতে রাস্তা খুব সরু গাড়ী ঠিক মত আসা-যাওয়া করতে সমস্যা হয়। তাই হয়তো এখাতে সফল হতে পারি নি।
এ সময় এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ি নজরুল ইসলাম বলেন,আমাদের বার্মিজ মার্কেট এলাকাতে অন্তত ৫০/৬০ টি বহুতল ভবন আছে কিন্তু ৯০% ভবনে পাড়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। সবাই রাস্তাতে যে যার ইচ্ছামত গাড়ী পার্কিং করে। আবার সামান্য টাকা দিতে হবে বলে অনেকে পার্কিংএর ব্যবস্থা থাকার পরও রাস্তাতে পার্কিং করে চলে যায়। আবার বেশির ভাগ মানুষ নির্দিস্ট পার্কিংএ গাড়ী পার্ক করা এটাকে বাড়তি ঝামেলা মনে করে আসলে আমাদের মানসিকতা ও পরিবর্তন করা দরকার।
এদিকে কক্সবাজারের প্রধান সড়কের বহুতল ভবন কোরাল রীফ এর নীচে প্রায় ৮ হাজার বর্গ ফুটের পার্কিং ব্যবস্থা ছিল কিন্তু সেটা বর্তমানে বন্ধ করে দিয়েছে কতৃপক্ষ। আলাপ কালে জাকির নামে এক কর্মচারী বলেন,৩ বছর আগে কোরাল রীফ যখন উদ্বোধন হচ্ছিল তখন এটিই ছিল একমাত্র বানিজ্যিক ভিত্তিকে পার্কিং ব্যবস্থা। আমাদের এখানে তখন মটর সাইকেল ১০ টাকা,কার মাইক্রো ২০ টাকা করে রাখা হতো যতক্ষন ইচ্ছা গাড়ী রেখে আমরা একটা টোকেন দিতাম সেটা নিয়ে যখন আসবে তখন যার গাড়ী সে নিয়ে যেত এছাড়া সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা এবং আনুষাঙ্গিক সুবিধা ছিল। কিন্তু কিছুদিন পরে দেখা যাচ্ছে গাড়ী রাখার সংখ্যা কমে গেছে পরে দেখা যাচ্ছে কর্মচারীর বেতন ও আসছে না। মানুষ টাকা দিয়ে গাড়ী রাখতে চায় না,সবাই রাস্তার মধ্যে গাড়ী রেখে চলে যায়। এমনকি আমাদের সামনে গাড়ী পার্কিং করে চলে যায়। অনেক সময় পার্কিং বিষয়ে ঝগড়া ঝাটি হতো তাই আস্তে আস্তে পার্কিং বন্ধ করার সিন্ধান্ত নেয় মালিক কতৃপক্ষ। অবশ্য এখন পেছন দিক থেকে আবারো পার্কিং ব্যবস্থা করা কথা চিন্তা করছে বলে জানা গেছে। এ ব্যপারে কোরাল রীফের ব্যবসায়ি আবুল কালাম বলেন, আমাদের মার্কেটের নীচে আগে বেশ ভাল পার্কিং ব্যবস্থা ছিল কিন্তু এখন লোকসানের কারনে সেটা বন্ধ করে দিয়েছে কতৃপক্ষ আসলে আমাদের দেশের মানুষ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ী কিনতে পারে কিন্তু সেই গাড়ীর নিরাপত্তার জন্য ১০ টাকা খরচ করার মানসিকতা নেই। আর অন্যান্য দেশে আমি দেখেছি রাস্তায় গাড়ী পার্কিং করলেই জরিমানা বা গাড়ীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে রাস্তাতেই গাড়ী পার্কিং করতে সবাই অভ্যস্ত তাই আগে রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং বন্ধ করতে হবে। তার পরে বানিজ্যিক ভিত্তিতে গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা সফল হবে।
এদিকে শহরের ইডেন গার্ডেন সিটির নীচেও এক সময় অনেক প্রসস্থ গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা ছিল যা এখন বন্ধ হয়ে গেছে অবশ্য এখানে গাড়ী পার্কিং তেমন বানিজ্যিক না হলেও বেশ ভাল ভাবেই মানুষ গাড়ী পার্কিং করতে পারতো বলে জানান অনেকে। এ ব্যপারে ভবনের দোতলায় দোকান মালিক জসিম উদ্দিন বলেন,আগে আমাদের মার্কেটের নীচে বেশ প্রসস্থ গাড়ী পার্কিং ছিল এখন সেটা বন্ধ হয়ে আছে।
এদিকে কক্সবাজার শহরের বিশিষ্ঠ আইনজীবি এড. তাপস রক্ষিত বলেন, কক্সবাজারের গুরুত্ব বিবেচনায় বানিজ্যিক ভিত্তিতে গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা সফল হওয়ার কথা কিন্তু আসলে কিছু সমন্নয়হীনতার কারনে এটা সফল হচ্ছে না। এখানে যারা এই কাজ করবে তাদের গুরুত্বপূর্ন জায়গাতে সেটা করতে হবে। আবার মানুষকে কম মূল্যে সেবা দিতে হবে। সর্বোপরি যারা এই কাজ করতে আগ্রহী তাদের প্রশাসনিক ভাবেও সহযোগিতা করতে হবে।
কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোক্তার আহাম্মদ বলেন, আমাদের স্কুলে সামনে দিন রাত বেশ কিছু এনজিওর গাড়ী দাড়িয়ে থাকে এসব গাড়ীর কারনে কোন বড় গাড়ী আসলেই তীব্র যানযট হয়ে পড়ে এতে আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থীদের খুব অসুবিধা হচ্ছে। আমার মতে এনজিওর গাড়ী গুলো বানিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে উঠা পার্কিং ব্যবস্থাতে চলে যাওয়া উচিত। তিনি বলেণ যদি গাড়ী গুলোকে নির্দিস্ট জায়গায় পার্কিং করানোর ব্যবস্থা করা যায় তাহলে শহরের যানযট অনেকাংশে কমে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য খুব উপকারে আসবে।
এ ব্যপারে কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের সদস্য প্রকৌশলী বদিউল আলম বলেন, কক্সবাজার শহর এখন যানযটের শহরে পরিনত হয়েছে। এই অবস্থা উন্নতী করতে হলে রাস্তায় বা যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং সম্পূর্ন নিষিদ্ধ করতে হবে। এ জন্য গাড়ী পার্কিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থা করাটা খুবই জরুরী। আর বানিজ্যিক ভিত্তিতে গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা করতে পারলে খুবই ভাল হতো। এই কাজে যারা এগিয়ে আসবে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

Top