এ অর্জন জনগণের: প্রধানমন্ত্রী

28827650_10155461390474537_8401017765394248675_o.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ না দিলে দেশকে এগিয়ে নেবার সুযোগ হতো না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজের জন্য নয় দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই তার লক্ষ্য।

বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের অভিযাত্রা উদযাপন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ৪৭ বছর পর এ সফলতা অর্জনের পথ সুগম ছিল না।

উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা যাতে আর থেমে না যায় সেজন্য নিঃশর্তভাবে দেশের কল্যাণে সর্বস্তরের জনতাকে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় ৪৭ এর বাংলাদেশ। গেল দশকে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, শক্তিখাতে শুধু বাংলাদেশের অভাবনীয় পরিবর্তনই ঘটেনি, অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, পাল্টে গেছে এ তটের মানুষের জীবনযাত্রাও। গেল ৭ বছর ধরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি, সূচক উন্নয়নের এ ধারায় চলতি বছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৭.২৪ শতাংশ।

মাথাপিছু আয়, মানববসম্পদ উন্নয়ন আর অর্থনৈতিক ভঙ্গরুতা এমন নানা সূচকে  এ সফলতা অর্জনের ফলে অর্ধশতকের স্বল্পোন্নত দেশের তকমা থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির দোরগোড়ায়। তাই দারিদ্র মোচনের এ প্রাপ্তিকে উদযাপনের জন্য বাঙালির এই আনন্দ আয়োজন। বৃহস্পতিবার সকালে যে আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে স্থাপিত জাতির পিতার অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশের স্বলোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ-পত্র হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীকে। এরপর সরকারপ্রধানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র ৩ বছরের মধ্যে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি এনেছিলেন জাতির জনক। এরপর দেশকে উন্নয়নশীল অভিযাত্রায় উন্নীত করার ৪৬ বছরের পথ মোটেই মসৃণ ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের যা কিছু অর্জন তা সবকিছুই জনগণের অর্জন। জাতির পিতা আমাদের স্বল্পোন্নত স্বাধীন একটা দেশ রেখে গিয়েছিলেন আর আমরা সেই দেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি।’ এসময় তিনি বলেন, আমরা বেসকারি খাতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।’ দেশকে এগিয়ে নিতে পেশাজীবী, শ্রমজীবীসহ সকল স্তরের মানুষকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালি জাতিকে যে দাবিয়ে রাখা যাবে না তা আবারো আমরা প্রমাণ হয়েছে। আমরা গর্বিত জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমরা এত সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো। কে অন্যের কাছে হাত পেতে চলবো। কে আমরা পারবো না নিজের পায়ে দাঁড়াতে। আমরা যে পারি সেটা আজ প্রমাণ করেছি।’ এর আগে অনুষ্ঠান থেকে স্মারক ডাকটিকেট এবং উন্নয়ন ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Top