উখিয়ায় উপজাতি পল্লীতে নিরাপত্তাহীনতা

images-1.jpg

উখিয়া প্রতিনিধি :
নিজেদের তিলে তিলে গড়ে তোলা খেত খামারের সম্পদ লুটে বাঁধা দেওয়ায় সংঘবদ্ধ উদ্বাস্তু রোহিঙ্গারা হামলা চালিয়েছে উপজাতি পল্লীতে। কয়েক শতাধিক উগ্র রোহিঙ্গাদের হামলায় ১৩জন উপজাতি আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন সংখ্যালঘু দুইটি উপজাতি পল্লীতে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা উপজাতি পল্লীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
আহত উপজাতি ও গ্রামবাসীরা জানান, গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে তেলখোলা উপজাতি গ্রামের পেঁচামারা চাকমা পাড়ায় ৫০/৬০ জন রোহিঙ্গা স্থানীয়দের পানের বরজ ভেঙ্গে, বসত ভিটার গাছ পালা কাটতে শুরু করে। এ সময় স্থানীয় উপজাতি গ্রামবাসীদের কয়েকজন তাদের বাধাঁ দেয়। কিছুক্ষণ পর কয়েক শত রোহিঙ্গা এসে সংঘবদ্ধ ভাবে পানের বরজ, ঘরবাড়িতে যাদের পেয়েছে তাদের উপর হামলা চালায় বলে স্থানীয় তেলখোলা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাহ জাহান, সিরাজুল ইসলাম, পুতিয়া জানায়। গতকাল দুপুরে উখিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত উপজাতি চু কি নু চাকমা (৩১), কিউতি চাকমা (৪৫) জানায় পানের বরজ, ভিটার গাছ পালা, আদা, হলুদ, ছন খেত নষ্ট করতে নিশেষ করলে কয়েক’শ রোহিঙ্গা দা, কোদাল, কুড়াল, চাবল নিয়ে এসে যাকে সামনে পেছে তাকে বেদম মারধর করে পিটিয়ে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে।
তেলখোলা উপজাতি গ্রামের হেডম্যান বাউ নু চাকমা (৩৫), সাবেক মেম্বার মানিক চাকমা (৪২), বর্তমান মেম্বার তোফাইল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত প্রায় কয়েকমাস ধরে পাশ্ববর্তী তাজনিমারখোলা, জামতলী ও হাকিম পাড়া ক্যাম্পে অসংখ্য রোহিঙ্গা সরকারী বন জঙ্গল উজাড় করে ফেলেছে। গত বেশ কিছুদিন ধরে এসব রোহিঙ্গারা উপজাতিদের বসভিটার গাছপালা কেটে, খেত ও খামারের আবাদকৃত হলুদ, আদা, সিম, ছন ও বরজের পান লুট করে নিয়ে যেতে শুরু করে। গতকাল একই ভাবে এসব সম্পদের পাশাপাশি পানের বরজ ভেঙ্গে খুটি, বাঁশ ও অন্যান্য মালামাল জ্বালানি হিসেবে নিতে শুরু করলে বাঁধা দেওয়ায় রোহিঙ্গারা এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ধরনের আশংকার কথা বিভিন্ন সময় সরকারের বিভিন্ন ফোরামে কয়েক মাস ধরে বলে আসছি। তেলখোলা ও মোছারখোলা উপজাতি পল্লীর আশপাশে জামতলী, শফিউল্লাহ কাটা, হাকিম পাড়া ও তাজনিমার খোলা এলাকায় ৪টি রোহিঙ্গা শিবির রয়েছে। এসব শিবিরে অন্ততঃ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। পাশাপাশি দুইটি উপজাতি পল্লীতে প্রায় ৭হাজারের মত উপজাতি লোকের আদি বাসস্থান। এধরনের আশংকা থাকায় অনেক আগে উল্লেখিত রোহিঙ্গা শিবির গুলো এখান থেকে স্থানান্তর করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবী জানিয়ে আসা হয়েছে। এসব ক্যাম্প গুলো নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ক্যাম্প ইনচার্জ বা ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ সহ বিভিন্ন স্তরের সরকারী দায়িত্বরতরা। রোহিঙ্গারা সব কিছু ফিরে পাওয়ার পরও তাদের ক্যাম্পের বাহিরে যাওয়া রোধ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, গতকাল রোহিঙ্গাদের হামলার ঘটনায় ১০টির মত পানের বরজ, অসংখ্য গাছপালা কেটে নিয়ে গেছে রোহিঙ্গারা। নিরহ উপজাতিরা বাঁধা দিতে গিয়ে হামলার শিকার হতে হয়েছে। উপজাতিরা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প হওয়ার পর থেকে এখানকার উপজাতিরা থাইংখালী হাট বাজার অনেকটা এড়িয়ে অনেক দূর ঘুরে পালংখালী বাজারে যাতায়াত করছে। এরপরও এধরনের হামলায় উপজাতীয়দের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাই লাই মার্মা রোহিঙ্গা কর্তৃক তেলখোলা উপজাতি পল্লীর লোকজনের সম্পদ লুট ও হামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আহতদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। এব্যাপারে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি জানান।

Top