শিক্ষাবৃত্তি পেল প্রবাসীর মেধাবী সন্তানেরা

3.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :
কক্সবাজারের প্রবাসীকর্মীর আট মেধাবী সন্তানকে দেওয়া হয়েছে শিক্ষাবৃত্তি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রবাসীর আট মেবাধী সন্তানের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। শিক্ষাবৃত্তির চেক পেযে সন্তুষ্ট প্রবাসীর মেধাবী সন্তানেরা।
শিক্ষাবৃত্তির চেক দেওয়া হয় জেএসসি ক্যাটাগরিতে তিনজন, এসএসসি ক্যাটাগরিতে তিনজন ও এইচএসসি ক্যাটাগরিতে দুইজন শিক্ষার্থীকে। তাদের ছয়জনকে এক লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসযাপন করছেন উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী গ্রামের নুরুল হাকিম। তাঁর মেয়ে ফারজানা পড়াশোনা করেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সম্মান ৩য় বর্ষে। গতকাল শিক্ষাবৃত্তির চেক পেয়েছেন ফারাজানাও। এনিয়ে দুইবার শিক্ষাবৃত্তির চেক পেয়েছেন তিনি। চেক পেয়ে খুশি এবং বাবার জন্য গর্বিত ফারজানা। তিনি বলেন, তাঁর বাবা বিদেশে শ্রম দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে যাচ্ছেন। এই শিক্ষাবৃত্তিটা শুধুমাত্র টাকা নয়, এটি একটি বড় স্বীকৃতি এবং সম্মানের।
একই অনুভূতি প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সম্মান চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র আজাহারুল ইসলাম। তাঁর বাড়ি পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নে। তাঁর বাবা জেবর মুল্লুক থাকেন সৌদি আরবে।
জেলা শ্রম ও জনশক্তি কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সাল থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে প্রবাসীর কর্মীর মেধাবী সন্তানদের চারটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে প্রতিবছর পিইসিতে প্রতিজনকে ৯ হাজার ৯০০ টাকা, জেএসসি ও সমমানে প্রতিজনকে ১৪ হাজার টাকা, এসএসসি ও সমমানে প্রতিজনকে ২১ হাজার টাকা এবং এইচএসসি ও সমমানের প্রতিজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয় ২৭ হাজার টাকা করে।
সূত্র আরও জানায়, ২০১৭ সালের বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদেও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হচ্ছে ২০১৮ সালে। এখন পর্যন্ত চার ক্যাটাগরিতে ১০৬ জনকে ১৫ লাখ ১৭ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে পিইসিতে ৪০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা, জেএসসি ও সমমানের ৪৩ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে ৬ লাখ ২ হাজার টাকা, এসএসসি ও সমানের ১৭ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং এইচএসসি ও সমমানের ৬ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
জেলা শ্রম ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক রমিয়ন কান্তি দাশ বলেন, পিইসিতে নির্বাচিতরা শিক্ষাবৃত্তি পায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত, জেএসসিতে নির্বাচিত পায় দশম শ্রেণি পর্যন্ত, এসএসসিতে নির্বাচিত পায় এইচএসসি পর্যন্ত। আর এইচএসসিতে নির্বাচিত পায় সম্মান চূড়ান্ত বর্ষ পর্যন্ত। ২০১৭ সালের আরও কয়েকটি চেক এখনও বাকি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের চেক বিতরণের সময় প্রবাসে দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করা দুই কর্মীর পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে ছয় লাখ টাকার আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, এই ধরণের শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাসীর সন্তানেরা পড়াশোনায় আরও বেশি উৎসাহী হবে। এবং তাদের বাবার জন্য তারা গর্ববোধ করবে। তিনি স্বচ্ছতার সাথে সঠিক সময়ে চেক বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।

Top