জেলায় হঠাৎ বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা : ১৩ দিনে ১৩ জনের প্রাণহানি

download-12.jpg

মুহিববুল্লাহ মুহিব :
হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছেন চালক ও আরোহী। অনেকে মানছে না ট্রাফিক আইন। হঠাৎ পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে উদ্বিগ্ন সাধারন মানুষ। তবে বিশিষ্টজনরা বলছেন, অল্প দক্ষ বা অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানোই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি এসব চালক রাস্তা ফাকা পেলে বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালাতে চেষ্টা করে। আর এতেই ঘটে দুর্ঘটনা।
বিশিষ্টজনরা বলছেন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে যাতে জীবনহানি না হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। পরিবার সবসময়ই চায় আপনি এবং আপনার প্রিয় গাড়ি দুটোই থাকুক নিরাপদ। তবে কিছু চালক এখনো বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালায় যার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে এই জেলায়।
মে মাসের প্রথম তের দিনে কক্সবাজার জেলায় ৯ টি দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন, পা হারিয়েছেন ২ জন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।
নিসচা’র প্রতিবেদন অনুসারে, সড়ক দূর্ঘটনায় কক্সবাজার জেলায় ১৩ মে ৩ জন, ১২ মে ২ মে, ১০ মে ২ জন , ৯ মে ২ জন, ৩ মে ২ জন ও ২ মে ২ জন প্রান হারিয়েছেন।
এদিকে টেকনাফ থানার ওসি রনজিৎ বডুয়া বলেন, ১৩ মে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের হোয়াইক্যংয়ের কানঞ্জরপাড়া মসজিদের সামনে ম্যাজিকগাড়ীর ধাক্কায় একই গ্রামের জাফর আলমের ছেলে মোটর সাইকেল আরোহি মেহেদী হাসান (২০) নিহত হয়েছেন।
কুতুবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌস বলেন, ১২ মে দিনগত রাত দুইটায় কুতুবদিয়ার দরবার রাস্তা মাথায় দ্রুতগামী একটি মোটর সাইকেল গাছের সাথে ধাক্কা লেগে উপজেলার উত্তর ধুরং এলাকার গৌরাঙ্গ প্রকাশের ছেলে রঞ্জিত প্রকাশ লালু (৪৫) ও নয়াপাড়া এলাকার শাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. ফারুক (২০) নিহত হন। এসময় রাজীব চাকমা নামে অপর আরেকজন আরোহী আহত হয়।
ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ওসি মিনহাজ উদ্দিন বলেন, গত ১২ মে বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডির কালু ফকির পাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই ইউপি;র ৫ নং ওয়ার্ডের মৃত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী বেগম বাহার (৫০) নিহত হয়েছেন।
মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো.আলমগীর হোসেন বলেন, ১২ মে ভোরে নানা বাড়ি যাওয়ার পথে মিনিট্রাক চাপায় নিহত হন চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ফুলছড়ি গ্রামের মো. মানিকের ছেলে সাকিব (৭)। তিনি আরো বলেন, ১০ মে সকালে চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বালুভর্তি ট্রাকের ধাক্কায় রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভূবনখিল গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে রিফাত উদ্দিন (৮) নিহত হয়। ওই সময় আরো ৫জন আহত হয়েছে। একই দিন বিকেলে খেলতে গিয়ে সদর উপজেলার ইসলামপুর খেলারমাঠ এলাকায় যাত্রিবাহি বাসের ধাক্কায় একই ইউপি’র নাপিতখালী এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী আমান উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ কাউছার (৭) নিহত হন।
পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, ৯ মে রাতে পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যাঘোনা এলাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা উল্টে ৮ মাস বয়সী মো. সামির নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয় তার ভাই মো. আবিদ (২) ও মা শাহেদা বেগম (৩২)।
উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, ৯ মে দুপুরে কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা এলাকায় মিনিবাস-ইজিবাইক) সংঘর্ষে মো. সোলতান নামের এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হন। ওই সময় আহত হন আরো ২ জন।
তিনি আরো বলেন, ৪ মে দুপুর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সড়ক দূর্ঘটনায় আহত কক্সবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সিরাজুল হক ডালিম।
একই ঘটনায় ২ মে বিকেলে উখিয়ার রাজাপালং মাদ্রসার সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি ডাম্পারের সংঘর্ষে নিহত হন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সিরাজুল হক।
টেকনাফ থানার ওসি রনজিৎ বড়–য়া বলেন, ৩ মে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কাস্টম এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মো. নছু মিয়া (১২) ও খালেদ হোসেন (১৬) নামের দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু হন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর কক্সবাজার জেলা সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, ট্রাফিক আইন না মানা, বেপেরোয়া গতি, অদক্ষ চালক সড়কের অসংখ্য বাকের কারণে কক্সবাজারে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরো বলেন, জনগন একটু সচেতন হলেই সড়ক দূর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। এ বিষয়ে নিরপাদ সড়ক চাই ( নিসচা) এর কক্সবাজার জেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, কক্সবাজারে প্রতিদিন যে হারে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ যাচ্ছে তাতে প্রশ্ন ওঠে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি কোথায়? কখনো বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, মুখোমুখি সংঘর্ষ, পথচারীকে সজোরে ধাক্কা, বেপোরোয়া ও অদক্ষ চালকের কারনে সড়কে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে।
তিনি আরো বলেন, নিসচা’র তৈরি প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের সবচেয়ে বেশী সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে মে মাসে। অন্যান্য মাসের গড় মৃত্যু হার ৫ না পেরালেও এমাসের প্রথম তের দিনেই সড়ক কেড়ে নিয়েছে ১৩ জন শিশু, নারী ও পুরুষের প্রাণ।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সহীন চালকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জনগন যদি সচেতন না হয় তাহলে সড়ক দূর্ঘটনা কমবে না।

Top