চকরিয়া হাসপাতালের ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার

Pic-Chakaria-15.05.20182.jpg

চকরিয়া অফিস :
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্প্রসারণ কাজের ৫টি ভবন নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ভবনগুলো নির্মিত হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ ও উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইলিয়াছ মঙ্গলবার সরজমিনে পরিদর্শন করে পাথর, বালি ও রড়ের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠিয়েছেন। এ রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এসব সামগ্রী ব্যবহার না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়; চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ইতোমধ্যে ৫০ শয্যা থেকে ১শত শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসাবে এ বছর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ‘মেক কনস্ট্রাকশন’ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ হাসপাতালের সম্প্রসারণ কাজটির নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। এ প্রকল্পটির অধীনে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১টি হাসপাতাল ভবন, ১টি তত্তাবধায়ক কোয়াটার, ১টি অফিসার্স কোয়াটার, ২টি স্টাফ ও নার্স ডরমেটরি নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে মাটির নিচের পাইল ঢালায়ের কাজ শুরু হয়েছে। এসব পাাইলের নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য পাথর, বালি, রড়সহ নানা সামগ্রী চকরিয়া হাসপাতালের নির্মাণ কাজস্থলে স্তুুপ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে নির্মাণ কাজের শুরুতেই চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী সিলেটি পাথর, বালি ও ৬০ গ্রেড়ের রড় ব্যবহারের কথা থাকলেও এখানে তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে যেসব বালি, রড় ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলো অত্যন্ত নিন্মমানের। ভবনগুলোর মাটির নিচের ভিত্তি নির্মাণে এ ধরণের সামগ্রী ব্যবহার করা হলে তা টেকসই হবেনা বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে কক্সবাজার-১ আসনের সাংসদ ও চকরিয়া উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইলিয়াছ মঙ্গলবার সকালে নির্মাণ কাজ সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি বলেছেন বালি ও পাথরগুলো দেখতেও অনেক নিন্মমানের, গুনগত মান ঠিক নেই। এসব সামগ্রীগুলো রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তিনি সামগ্রীগুলো ব্যবহার না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ‘মেক কনস্ট্রাকশন’র প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেছেন, কোন সামগ্রী নিন্মমানের নয়, সবগুলো সামগ্রী সিড়িউল অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কক্সবাজারের সহকারী প্রকৌশলী মুর্শেদুল আলম বলেছেন, নিন্মমাানের বালি ও পাথর ব্যবহারের কথা আমিও শুনেছি। তবে এগুলো টেস্ট পাইলে ব্যবহার করা হচ্ছে। মূল কাজ যখন শুরু হবে তখন সিলেটি পাথর ও সিলেটি বালি ব্যবহার নিশ্চিত করবেন বলে তিনি জানান।

Top