অবশেষে জেলায় টিসিবি’র পণ্য বিক্রি শুরু

News-2-TCB.docn_.jpg

আজিম নিহাদ ষ
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে জেলায় শুরু হয়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রি। গতকাল বুধবার সদর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হয়। টিসিবি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নি¤œমানের পণ্য সরবরাহের অভিযোগ এনে কক্সবাজার জেলায় কয়েক বছর ধরে বন্ধ ছিল টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রি। এরফলে দরিদ্র মানুষেরা বছরের পর বছর টিসিবির পণ্য ভোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এ নিয়ে গত ৮ মে দৈনিক কক্সবাজারে ‘টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য বঞ্চিত হচ্ছে জেলাবাসী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পরে ডিলার মালিকদের তালবাহনা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়। কয়েকদিন আগে আসন্ন রমজানে টিসিবির পণ্য বিক্রি না করলে কক্সবাজারের সকল ডিলারের নিবন্ধন বাতিলের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
নিবন্ধন বাতিলের ভয় এবং প্রশাসনের জোর প্রচেষ্টায় অবশেষে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রি। গতকাল বুধবার (১৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার টিসিবির নিবন্ধিত ডিলার ‘কাদের এন্টারপ্রাইজে’ ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
টিসিবির পণ্য বিক্রি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নোমান হোসেন প্রিন্স, ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান প্রমুখ।
কক্সবাজার সদর উপজেলায় টিসিবির দুটি ডিলার রয়েছে। একটি বাংলাবাজার এলাকায়, অপরটি ঈদগাঁও বাজারে। কাদের এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল কাদের বলেন, টিসিবির পণ্য বিক্রি করলে নানা বিপদে পড়তে হয়। কারণ এসব পণ্য অনেক সময় বিক্রির উপযোগী থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে ডিলার মালিকেরা টিসিবির পণ্য মজুদ করে না। কিন্তু এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ^াস দেওয়ায় তিনি পণ্য বিক্রি শুরু করেছেন।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নোমান হোসেন প্রিন্স বলেন, সদর উপজেলার দুটির মধ্যে একটি ডিলার পণ্য বিক্রি করছে না। এছাড়াও পৌরসভায় চারটি ডিলার রয়েছে। সেগুলোতেও শিগগিরই পণ্য বিক্রি শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, রমজানে বেশি চাহিদা থাকায় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। এ কারণে সাধারণ মানুষকে সহনীয় দামে পণ্য দিতে টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে ডিলারদের বাধ্য করা হয়েছে। কোন অবস্থাতে ডিলারের ঘাটতি পড়লে টিসিবি’র সাথে দ্রুত যোগাযোগ করে ঘাটতি মেটানো হবে।
টিসিবি সূত্রমতে, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে ডাল, তেল, চিনি, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পাঁচটি পণ্যের দর নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। এবার মাঝারি দানার মসুর ডাল ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করবে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থাটি। বর্তমানে বাজারে এ মানের ডাল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও রমজানে টিসিবির প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮৫ এবং প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ছোলা ৭০ ও খেজুর ১২০ টাকা কেজিতে খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে সদর উপজেলার ঈদগাঁও বাজারের একটি ডিলারে টিসিবি নি¤œমানের পণ্য সরবরাহ করে। এ নিয়ে ক্রেতাদের সাথে বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটে ডিলার মালিকের। পরে ওই ডিলারের মালিক নুরুল আজিম মাষ্টার টিসিবি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ওই ঘটনার পর থেকেই কক্সবাজারের ডিলারেরা টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেয়।
জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. শাহাজান আলী বলেন, মূলত অতি মুনাফার লোভে নি¤œমানের পণ্যের অযুহাত দেখিয়ে টিসিবির পণ্য বিক্রি করেনি ব্যবসায়ীরা। ঈদগাঁও বাজারে সেই সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ছিল একটি ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা। টিসিবি যে, নি¤œমানের পণ্য সরবরাহ করে সেই অভিযোগ সত্য নয়।
জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় প্রায় ২৪ টি টিসিবির ডিলার রয়েছে। এরমধ্যে কক্সবাজার পৌরসভায় রয়েছে চারটি।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, কোন অজুহাত দেখিয়ে এবার টিসিবির পণ্য বিক্রি না করার সুযোগ নেই। গতকাল (বুধবার) একটি ডিলারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হয়েছে। সব ডিলার মালিকদের শিগগিরই পণ্য মজুদ এবং বিক্রির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Top