সাবধান, রমজান উপলক্ষে অফারের নামে প্রতারণা

download-17.jpg

ওমর ফারুক হিরু :
কক্সবাজার শহরের শহীদ স্মরনীস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের অফিস সহকারী মোহাম্মদ বাদশার কাছে (০১৮৬০৩৫২০২০) নাম্বার থেকে একটি ফোন আসে। ফোনে তাকে বলা হয়, ‘প্রিয় গ্রাহক আমি রবি কোম্পানীর ম্যানেজার বলছি। ভাই আপনি’ত বড় ভাগ্যবান ব্যক্তি। রমজান উপলক্ষে আপনার ভাগ্যে ১৪ লাখ টাকার লটারী মিলেছে। আলহামদুলিলাøহ বলুন।’ তার কথা মত মোহাম্মদ বাদশা আলহামদুলিল্লাহ বলেন। বাদশা জানতে চায় ওই টাকা পেতে হলে কি করতে হবে। তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ ১৪ লাখ টাকা যদি পেতে চান তাহলে প্রথমে আপনার নাম, ঠিকানা, ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার এসব তথ্য দেন। বাদশা নাম ঠিকানা বললেও ব্যাংক একাউন্ট বলতে পারেননি। তখন ওপাশ থেকে আবার বলা হয়, ‘ঠিক আছে সমস্যা নাই। আপনি যদি এই টাকা পেতে চান তাহলে নীরব স্থানে চলে যান। কারন আপনি এখন সরাসরি কোম্পানীর মালিকের সাথে কথা বলবেন’। এবার কোম্পানীর হয়ে আরেক যুবক তার সাথে কথা বলেন, ওই যুবক তাকে একটি বিকাশ নাম্বার (০১৭৫৯৬৭৭৪৪৫) দিয়ে বলেন, আপনার মত ভাগ্যবান ব্যক্তিকে অশেষ ধন্যবাদ। আপনি যদি এই টাকা পেতে চান। তাহলে রেজিষ্ট্রেশন ফি হিসেবে দ্রুত এই বিকাশ নাম্বারে ২ হাজার ২ টাকা পাটিয়ে দেন। কিন্তু বাদশা তার কথায় রাজী না হয়ে উল্টো ১ হাজার টাকা তার কাছে চেয়ে বসেন। তখন তারাও বুঝতে পারে বাদশা এই প্রতারনার ফাঁদ সর্ম্পকে জেনে গেছেন। তখনই বাদশাকে তারা খুবই বিশ্রিভাবে গালিগালাজ করে।
এই যাত্রায় বাদশা বেঁচে গেলেও ওই ধরনের প্রতারক চক্রের হাতে ফেসে গেছে শহরের বাহারছড়ার কলেজ পড়ু–য়া এক যুবক।
গত ১১ মে বেলা ১২ টার দিকে একই কৌশলে প্রতারকদের প্রলোভন পড়ে শহরের বাহারছড়া এলাকার অনার্স পড়–য়া এক কলেজ ছাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকা হারিয়েছে। ছাত্রটি শহিদ স্মরনী সড়কে ফুড প্যালেস নামে এক দোকানা থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয় প্রতারক চক্রের হাতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ছাত্র জানান, তাকে এক মেয়ে রবি কোম্পানী থেকে ফোন করে ১৮ লাখ টাকা বোনাস পেয়েছে বলে জানান। ওই টাকা ওঠানোন জন্য তাড়াতাড়ি ১২ হাজার ৫ শত টাকা পাঠাতে বলে। আর যে বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠানো হবে ওই বিকাশ নাম্বারেই বোনাসের টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তাদের কথামত বিকাশে সাড়ে ১২ হাজার টাকা পাঠানোর পরে নাম্বারটি বন্ধ করে দেয়।
শুধু এই দুই ঘটনা নয় কক্সবাজার সদর উপজেলায় এধরণের ঘটনায় পিএমখালীর এক নতুন গৃহবধূর সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হয়ে পড়ে। ঘটনাটি ছিল গত দেড় মাস আগে। ওই সময় মাঝ রাতে এক ফকির বাবা ফোন করে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে ৭ দিনের মাথায় ৩০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে এসব প্রতারক চক্রের দৌরত্ব বেড়ে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারণ লোকজন।
এ ব্যাপারে সচেতন মহল বলছেন, প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পড়ে যারা এই সমস্যার সম্মুখিন হন তারা সচেতন নয়। সচেতন হলে তাদের যাচাই করা উচিত ফোনটি আদৌ কোন মোবাইল বা সিম কোম্পানীর কিনা। এছাড়া এই অপকর্মের জন্য দায়ী ভুয়া রেজিষ্ট্রেশনযুক্ত সীম। ওই ধরনের সীম দিয়েই এই অপকর্ম চলে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সরকারী কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ইমতিয়াজ উদ্দিন বাপ্পী জানায়, এই ধরনের অপকর্মের কথা শুনের আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। এই অপকর্ম চালানোর জন্য প্রতারক চক্র রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া সীমের সহযোগিতা নেয়। তাই এই ধরনের সীম বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে তথ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আলমগীর জানান, কোন মোবাইল বা সীম কোম্পানী এই ধরনের ফোন করে টাকা দেয়না। যেই অফার থাকুকনা কেন তা এসএমএস’র মাধ্যমে জানানো হয়। যদিও অনেক সময় কোম্পানির পক্ষ থেকে কোন সুযোগ সুবিধার অফার থাকলে তা ফোন করে জানায়। আর জানতে চায় ওই অফার গ্রহনে আগ্রহী কিনা। কিন্তু কখনও টাকা বিকাশ করতে বলেনা। তাই সবার সচেতন হওয়া উচিত এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে বাচঁতে।

Top