সদর হাসপাতালে এক ডাক্তারেই চলছে আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্সরে বিভাগ

2-1.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
মাত্র ১ জন ডাক্তার দিয়েই চলছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং (আলট্রাসনোগ্রাফি ওএক্সরে) বিভাগ। রোগিদের আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্সরে করার জন্য আধুনিক সব যন্ত্রপাতি আছে এর মধ্যে রোহিঙ্গা রোগি বাড়ার কারনে আর্ন্তজাতিক সংস্থা থেকে আরো মেশিন সহ যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে কিন্তু তা ব্যবহার করার জন্য ডাক্তার নেই। এতে এসব মুল্যবান পরীক্ষা করার জন্য রোগিদের ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হয় অন্যদিকে দৈনিক ২০০র মত রোগি নিয়ে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একটানা সেবাদিতে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে একমাত্র ডাক্তার। কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে ৬ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বহু বছর ধরে ১ জন ডাক্তার দিয়েই চলছে এই দুটি গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্টান। অবশ্য সম্প্রতি আরেকজন মহিলা ডাক্তার যোগদান করলেও উনি নিজেই বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকেন তাই ছুটি নিয়ে জেলার বাইরে থাকে। সব বিভাগের একাধিক ডাক্তার থাকলেও এই গুরুত্বপূর্ন বিভাগের কোন ডাক্তার না থাকা দুঃখ জনক। তাই দ্রুত এখানে নতুন ডাক্তার নিয়োগ করে শুন্যপদ পূরনের দাবী জানিয়েছে কক্সবাজারের মানুষ।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের নীচতলায় গেলে প্রতিদিনই দেখা মিলে অসংখ্য মানুষের ভীড় বিশেষ করে আলট্রাসনোগ্রাফি রুমের সামনে এবং এক্সরে রুমের সামনে। আলট্রাসনোগ্রাফি রুমের দরজার সামনে মাটিতে লুটিয়ে পড়া রাজিয়া বেগম নামের এক রোগীর কাছে জানতে চাইলে বলেন আমি মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি আছি সেখানে ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করতে দিয়েছে আমি সকাল থেকে এসে বসে আছি এখনো আমার সিরিয়াল আসেনি, এদিকে আমার শরীরে আর শক্তিনাই তাই মাটিতে বসে আছি। পাশেই এক অন্তসত্বা মহিলার ্অবস্থা আরো করুন। এরকম অন্তত ৩০ জনের বেশি রোগি অপেক্ষা করছে। পরে ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে আরো ভীড়। আর টেবিলে ফাইলের স্তুপ। এর মাত্র ১ জন ডাক্তার খুব আন্তরিক ভাবে রোগিদের পরীক্ষা শেষ করছেন। এ সময় ডাঃ ওসমানুর রশীদ বলেন,আপনি নিজেই দেখতে পাচ্ছেন আমার রুমে ৮/১০ জন রোগি, তার উপর টেবিলে ২০ টির মত ফাইল পড়ে আছে,আর এগুলো রোগ নির্নয়ের কাজ তাড়াহুড়া করার কোন সুযোগ নেই। একজন রোগির জন্য কমপক্ষে ১০ মিনিট সময় দরকার। তাহলে দৈনিক ৬০ জনের বেশি(১৫ জনেরমত রোহিঙ্গা রোগিসহ) রোগি আলট্রাসনোগ্রাফি করতে হচ্ছে তার উপর ১৫০ জনের কাছাকাছি রোগির এক্সরে করতে হচ্ছে সব কিছু রিপোর্ট তৈরি করতে হচ্ছে আমি একজন মানুষ কোথায় যাব আপনারাই বলুন। এ সময় পাশের রুমে আরো একটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন ও সিট সহ খালী পড়ে থাকতে দেখে জানতে চাইলে তিনি বলেন এখানে মেশিন বা যন্ত্রপাতির কোন সমস্যা নেই তবে সেগুলো চালানোর জন্য ডাক্তার নেই।
পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে ২জন ডাক্তার থাকার কথা সেখানে বর্তমানে মিনাক্ষী রায় নামে একজন ডাক্তার কর্মরত আছে তবে উনি বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকেন তাই ছুটিতে। ফলে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ ওসমানুর রশীদই একমাত্র ভরসা তিনি দিনরাত কাজ করছেন। তবে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে ৬ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১ জন ডাক্তার। অথচ বাকি সব বিভাগে ৮ থেকে ১০ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন।
এ ব্যাপারে কক্সবাজারের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ নুরুল আলম বলেন,এখন বেশির ভাগ রোগিকে সঠিক রোগ নির্নয় করে চিকিৎসা সেবা দিতে গেলে অবশ্যই পরীক্ষা করাতে হয় বিশেষ করে আলট্রাসনোগ্রাফিটা বেশি জরুরী সেজন্য এই বিভাগে আরো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ করা খুবই জরুরী।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ডাঃ শাহীন আবদুর রহমান বলেন,সকাল ৮ থেকে দুপুর আড়াইটার মধ্যে ২০০ বেশি রোগিকে পরীক্ষা করে রিপার্টে তৈরি করা সত্যি দূরহ কাজ তাও একজন ডাক্তারকে দিয়ে। আসলে ডাঃ ওসমানুর রশীদ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক উনি ইচ্ছা করলে হাসপাতালে এত সময় না দিলেও পারতেন। তবুও তিনি কক্সবাজারের সন্তান হিসাবে মানুষকে সেবা দিচ্ছেন। আরেক ডাক্তার মিনাক্ষী রায় বেশির ভাগ সময় অসুস্থ জনিত ছুটিতে থাকেন বলে জানান তিনি। তবে খুব দ্রুত এ বিভাগে নতুন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া দরকার বলে দাবী করেন তিনি।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ পুচনু বলেন, একজন ডাক্তার দিয়ে কোন ভাবেই এতবেশি রোগির সেবা দেওয়া সম্ভব না। বিষয়টি আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানিয়েছি এবং চিঠিও দিয়েছি।আসা করছি খুব দ্রুত নতুন ডাক্তার পাব।
কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন,বিষটি আসলেই দুঃখ জনক। আমি নিজে উদ্যোগ নেব যাতে এই বিভাগে নতুন ডাক্তার যোগদান করে।

Top