চূড়ান্ত হয়নি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

download-18.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে গত বছরের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়া চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, চুক্তি স্বাক্ষরের দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ৬ মাস পর এখন দুই দেশ বলছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আরো কাজ বাকি আছে। তবে বাকি কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে এবং কখন থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হবে তা ঢাকা-নেপিডোর কোনো কর্মকর্তাই জানাতে পারেনি।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় বৃহস্পতিবার (১৭ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাংলাদেশ-মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মিয়ানমারেরপররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আমরা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করছি। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আরো কাজ করার বিষয় বাকি আছে। আমরা এখন সেগুলো নিয়ে কাজ করবো।’
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কী কাজ করছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মিন্ট থোয়ে বলেন, ‘চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি। এগুলো চিহ্নিত করছি। চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করার পর আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানাব। প্রথমে আমরা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ শেষ করব, তারপর প্রত্যাবাসন শুরু হবে।’
এদিকে, পররাষ্ট্র সচিব মো শহীদুল হক গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘একটি বৈঠকের আলোচ্য বিষয় (মিনিটস) প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রস্তুতি শেষে দুই দেশই এতে স্বাক্ষর করবে, তারপর প্রত্যাবাসন শুরু হবে।’ বৈঠকের আলোচ্য বিষয় (মিনিটস) কবে নাগাদ প্রস্তুত করা হবে এবং কখন দুইদেশ স্বাক্ষর করবে, এমন প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র সচিব মো শহীদুল হক কোনো জবাব দেননি।
বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো শহীদুল হক বলেন, ‘প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে বৈঠকে আলাপ হয়েছে। প্রত্যাবাসনের জন্য আমরা একটি তালিকা পাঠিয়েছিলাম, ওই তালিকা ভেরিফাই করতে কী সমস্যা হয়েছে, আজকের বৈঠকে তা মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জেনেছি, আরো কী প্রয়োজনীয় বিষয় বাকি আছে, সেগুলো নিয়েও কথা বলেছি। দুই পক্ষই খোলামেলা আলোচনা করেছি। আস্তে আস্তে ওনারা (মিয়ানমার) ভেরিফাই করে দেখবে, এভাবেই প্রত্যাবাসন হয়।’
যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্বিতীয় বৈঠকে ঢাকার পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব মো শহীদুল হক এবং মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে নেপিডোর পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। দুই দেশের ১৫ জন করে মোট ৩০ জন সদস্যকে নিয়ে এই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে গত বছরের ২৩ নভেম্বর নেপিডোতে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে গত ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। সঙ্কট সমাধানে গত ডিসেম্বর নেপিডোর সঙ্গে স্বাক্ষর করা চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, ‘৯ অক্টোবর ২০১৬ এবং ২৫ আগস্ট ২০১৭ সালের পর যে সকল রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের ফেরত নিবে মিয়ানমার। চুক্তি স্বাক্ষরের দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখেরও বেশি মানুষ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের একাধিক শিবিরে মিয়ানমারের নাগরিক প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

Top