জেলায় পল্লী বিদ্যুতের অবস্থা নাজুক

download-1-11.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
আকাশে সামান্য কালো মেঘ, বৃষ্টি হতে অনেক বাকি কিন্তু এর মধ্যে চলে যায় বিদ্যুৎ। পরে আকাশ পরিষ্কার হলেও বিদ্যুৎ আসার নাম নেই। অনেক সময় সকালে বিদ্যূৎ গেলে বিকালেও আসে না। আবার রাতে গেলে সকালে ও আসে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যূৎ এলাকায় বসবাসরত মানুষদের অবস্থা খুবই কাহিল। অনেকের দাবী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকে না।এতে নাগরিক জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। তবে বাতাস বা বৃষ্টির সময় গাছের ডাল পালা পড়ে তার ছিড়ে বা ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে জানান কতৃপক্ষ আর সেটা ঠিক করতে সময় লাগছে তাই বৈরি আবহাওয়ার কারনে লোডসেডিং হচ্ছে। এদিকে সামর্থের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার কারনে চাহিদা বেশি হওয়াতেও লোডশেডিং বাড়ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ঘাটকুলিয়া পাড়ার বাসিন্দা শহিদুল আলম বলেন,এখন বর্ষা কাল আকাশে সামান্য কালো মেঘ হলে বা বৃস্টি আসার সম্ভাবনা দেখা দিলে আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়,খুব সম্ভবত বিদ্যুৎ অফিস নিরাপত্তার জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুৎ গেলে আর আসার নাম ধরে না। সকালে গেলে বিকালে ও আসে না,যেমন গতকাল বেলা সাগে ১১ টার সময় বিদ্যুৎ গেছে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত আসে নি।
ঈদগাও জালালাবাদ ইউনিয়নের রেজাউল করিম বলেন,বিদ্যূৎ এত বেশি লোডশেডিং করে জন জীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। আর আকাশে একটু বৃস্টি বা বাতাস হলেই আগে বিদ্যুৎ চলে যায়। আমরা প্রথমে মনে করেছিলাম সেটা অফিস থেকে বন্ধ করে দেয় পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সমস্যা নাকি আমাদের এখানেই হয়। এখন সেই সমস্যা ঠিক করতে বিদ্যুৎ অফিসের মানুষজনকে খোঁজলেও আর পাওয়া যায় না। ফলে আমাদের অন্ধকারে থাকতে হয়,এতে ঘরের অনেক জিনিস পত্র নস্ট হয়ে যায়। ছেলে মেয়েরা ঠিকমত লেখাপড়া করতে পারে না। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ গেলে ঘুমের মারাত্বক অসুবিধা হয়।
উখিয়ার কৃষকলীগ নেতা সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন,পল্লী বিদ্যূৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বেশি খুব জমে আছে,কারন এত বেশি লোডসেডিং যা মেনে নেওয়া যায় না। পরিস্থিতি এতই খারাপ যে মোবাইল পর্যন্ত চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। আর বিদ্যুতের অভাবে অনেক প্রয়োজনীয় কাজ কর্ম করা যাচ্ছে না। যেমন অনেকে কম্পিউটার নিয়ে কাজ করে কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সব কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে থাকে।
ঠিকাদার ছৈয়দ আহামদ বলেন,আমার বাড়ি কক্সবাজার শহরে উখিয়াতে গতকাল একটি টেন্ডার কার্যক্রমে অংশ নিতে এসে একটি কাগজ হঠাৎ করে অনলাইন থেকে নেওয়ার দরকার হয়ে পড়ে কিন্তু কোথাও বিদ্যুৎ না থাকায় আমি কাগজটি বের করতে পারি নি। পরে তাদের কাছ থেকে অনেক কস্টে সময় নিয়ে একটি দোকানে বিকল্প ভাবে কম্পিউটার চালু করে বাড়তি টাকা দিয়ে কাজ করতে হয়েছে। এলাকার মানুষজন বলছে এখানে বিদ্যুৎএর অবস্থা খুবই খারাপ।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের আবদুল কুদ্দুস বলেন,বিদ্যুৎ থাকে না বরং এখন মাঝে মধ্যে আসে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ ঘন্টা ও থাকে কিনা সন্দেহ আছে। বাড়িতে আইপিএস আছে সেটাও চার্জ করতে না পারায় কাল থেকে বন্ধ হয়ে আছে আর দোকানে দিনের বেলায় কোন রকম চলতে পারলেও রাতে আর বসা যায় না। ফলে জীবন মান সহ অর্থনৈতিক ভাবে খুবই সমস্যায় আছি।
এদিকে কক্সবাজার শহরের আইনজীবি এড,আবদুল্লাহ,অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন,উখিয়ার সাংবাদিক গফুর মিয়া চৌধুরী,টেকনাফের আবুল হোসেন রাজু সহ অনেকে বলেন,আমাদের মতে সরকারের কাছে যতটুকু বিদ্যুৎ মজুদ আছে তার চেয়ে সংযোগ বেশি দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ে,সরকারি খাস জমিতে,ঝাউবাগানে,নালার উপর ঝুপড়িতে সব জায়গার মিটার দেওয়া হয়েছে। সে জন্য বিদ্যূতের লোডশেডিং বেশি হচ্ছে বলে আমাদের ধারনা।
এ ব্যাপারে উখিয়া পল্লী বিদ্যূৎ অফিসের ডিজিএম খালিদ মোঃ জোয়ারদার বলেন,বৈরি আবহাওয়ার কারনে লোডশেডিং বেড়েছে। আর বৃস্টি হলে অনেক জায়গায় তার ছিড়ে যায় আবার ট্রান্সফরমার নস্ট হয়ে পড়ে সে গুলো ঠিক করতে সময় লাগে সে জন্য হয়তো একটু দেরী হয়। তবে আমাদের পক্ষ থেকে সব সময় গ্রাহকের সেবার বিষয় আগে প্রাধান্য থাকে।
কক্সবাজার পল্লী বিদ্যূৎ অফিসের জেনারেল ম্যানেজার নুর মোঃ আজম মজুমদার বলেন,আমরা ইচ্ছা করে ১ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ করি না। এটা মানুষের ভুল ধারনা। মুলত ভারী বাতাস বা বৃস্টি হলে গাছের ডাল পালা পড়ে তার নস্ট হয়ে পড়ে,এতে সেই এলাকার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আর আমাদের ৫ হাজার কিলোমিটার লাইন সব কিছু সঠিক ভাবে দেখা শুনা করতে একটু সময়তো লাগেই। তবে আমাদের কাছে যখনি গ্রাহকের কাছ থেকে কোন অভিযোগ আসে আগে সেটাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।
কক্সবাজার বিদ্যূৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,মানুষের সেবা করায় আমাদের প্রধান কাজ। গত কয়েক দিন ধরে রাস্তার পাশে বা ঝুকিপূর্ন লাইনের গাছ কাটা হয়েছে সে জন্য একটু বিদ্যুৎ নিয়ে কিছুটা সমস্যা হয়েছে সেটাও গ্রাহকের ভালর জন্য। কারন গাছ পড়ে তার ছিড়লে ও তখনো আমাদের দোষ হবে আর গ্রাহক কষ্ট পাবে।

Top