এক মাসে ৩৩ লাখ ইয়াবা জব্দ : আটক ১৬ বহনকারী

download-4-3.jpg

সৈয়দুল কাদের :

বেড়েই চলেছে ইয়াবা পাচার। প্রশাসনের তীক্ষè নজরদারীতেও থেমে নেই পাচারকারীরা। গত এক মাসে পৃথক ১৬টি অভিযানে ৩৩ লাখ ইয়াবা প্রশাসন জব্দ করলেও আটক হয়েছে ১৬ জন বহনকারী। যাদের কোন সঠিক ঠিকানা নেই। তারা নিজেরাই জানে না ইয়াবার প্রকৃত মালিক কে। যার ফলে ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়েছে ইয়াবা গডফাদাররা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় পুলিশ,বিজিবি ও পৃথক ১৬টি অভিযানে ৩৩ লাখ ইয়াবা জব্দ করে। এতে আটক করা হয় ১৬ জন ইয়াবা বহনকারী অখ্যাত যুবককে। গত ১১ এপ্রিল টেকনাফের পৌর এলাকা থেকে ৪ লাখ, একই তারিখে আরো ৬ লাখ ৩০ হাজার, ১৩ এপ্রিল সেন্টমার্টিনে ৩ লাখ, ১৬ এপ্রিল কক্সবাজার শহরে ২০ হাজার, একই দিনে কক্সবাজার শহরে ৫ হাজার, ১৭ এপ্রিল টেকনাফে ৯ হাজার, ১৮ এপ্রিল টেকনাফে ৪০ হাজার, ১৮ এপ্রিল সেন্টমার্টিনে এক লাখ, ৪ মে টেকনাফে ৫০ হাজার, ৩ মে উখিয়ায় ৫ হাজার, ৩ মে টেকনাফে ৫০ হাজার, ৩ মে কক্সবাজার শহরে ৩০ হাজার, ২ মে টেকনাফে ৪ হাজার, ১ মে টেকনাফে ৪ লাখ, ১ মে সেন্টমার্টিনে ৩ লাখ, ২৮ এপ্রিল কক্সবাজার শহরে ২৮ হাজার, ২৩ এপ্রিল রামুতে ২০ হাজার, ২০ এপ্রিল সেন্টমার্টিনে ৪ লাখ ও ১৯ এপ্রিল টেকনাফে ৫ লাখ ইয়াবা জব্দ করে আইন শৃংখলা বাহিনী।
ইয়াবার আগ্রাসন অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় জানিয়ে কক্সবাজার সিটি কলেজের প্রভাষক আবুল হাসেম জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী মাদক প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য র‌্যাবকে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি এখন ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে। ইয়াবা পাচারের জন্য নিত্য নতুন পথ ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। এটি সমাজের জন্য এখন বিষফোঁড় হয়ে দাড়িয়েছে। সম্প্রতি ইয়াবা একটি সহজ লভ্য মাদকে পরিণত হয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ দোকানেই বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। এটি ঠেকানো না গেলে নতুন প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পারিবারিক কলহ বাড়বে ও সমাজে অস্থিরতা বাড়বে। ইয়াবা রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, আমরা বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি ইয়াবার আগ্রাসন ঠেকাতে প্রতিনিয়ত সচেতনতামুলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ইয়াবা ব্যবসায়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এটি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। যদি রোধ করা না যায় তাহলে পুরো প্রজন্মই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রথমে মূলহোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ইয়াবা বহনকারীরা আটক হলেও মুলহোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যার ফলে ইয়াবা পাচার রোধ করা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি কক্সবাজারের সৈকত পাড়া থেকে ২৮ হাজার ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া মোজাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন ইয়াবার মালিক কে তা সে জানে না। গত ৬ মাস ধরে ইয়াবা বহনের কাজ করছে সে। অন্তত আরো ২০ বার ইয়াবা বহন করেছে। কিন্তু কার ইয়াবা সে জানে না। একজন লোক টেকনাফে বুঝিয়ে দিলে কক্সবাজারে আরেকজন লোক বুঝে নিয়ে ৩ হাজার টাকা দিত। এটিই তার কাজ।
টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের একজন পরিবহন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুধু সড়ক পথেই প্রতিদিন অন্তত ৫০ লাখ ইয়াবা কক্সবাজার আসছে। যার অধিকাংশই খালস হয় বাসটার্মিনালে। শুধু সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সিন্ডিকেট কাজ করে কমিশনের ভিত্তিতে। প্রশাসন চাইল প্রতিদিন কয়েকটি চালান বাস টার্মিনাল থেকে আটক করতে পারে। ভাঙ্গাড়ী ব্যবসার আড়ালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নিয়ে আসে বড় চালানগুলো। তারপর বিভিন্ন এলাকায় চালান হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানিয়েছেন, ইয়াবা পাচার রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আগামিতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোন তালিকাভুক্ত চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ি ছাড় পাবে না। এতে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। অচিরেই মুলহোতারা আইনের আওতায় আসবে।

Top