হোটেল জোনে অচলাবস্থা

Beder-NEws-Pic.jpg

এম. বেদারুল আলম :
পর্যটন জোন হোটেল মোটেল এলাকায় কাঁদা আর পানিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার ইউজিপ-৩ প্রকল্পের আওতায় চলমান ১৪টি ড্রেন ও উপ সড়কের দুই তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে এহেন অবস্থা বিরাজ করছে। ওশান প্যারাডাইস হোটেলের সামনে থেকে ভেতরের বেভিউ সড়কের সামনের নালা নির্মান কাজের কারনে এমনিতেই নালা বন্ধ থাকায় পানি চলাচল করতে না পেরে সড়কের উপর দিয়ে পানি চলাচল করায় গতকাল বৃষ্টিতে পুরো সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গাড়ি চলাচল বন্ধের পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে উক্ত সড়কের আওতাধীন ১২টি আবাসিক হোটেল ও ৪টি রেস্তোরার ব্যবসা। অনেকটা নিরুপায় হয়ে বন্ধ করতে হয়েছে উক্ত হোটেল সমুহকে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে কলাতলির হোটেল মোটেল জোনের সোয়া ৩ কিলোমিটার নালা নির্মানে ৮ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহন করা হয়। গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় উক্ত নালা ও সড়ক নির্মান প্রকল্প। কাজটি শুরু হওয়ার পর থেকে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।
এদিকে কাজের গতি কম এবং ঠিকাদার শ্রমিক কম নিয়োগ করায় যথাসময়ে কাজ সমাপ্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কয়েকজন পর্যটন ব্যবসায়ি। ঠিকাদারের অবহেলার কারনে পর্যটন মওসুমে চলাচলের রাস্তায় পানি জমে থাকা নিয়ে ও আতংকে রয়েছে ব্যবসায়িরা।
অপরদিকে গতকাল দুপুরের ২ ঘন্টা বৃষ্টিতে পুরো কলাতলির ড্রেনের পচাঁ আর্বজনাযুক্ত পানি সড়কের উপর চলে আসে। পানি চলাচল বন্ধ করে ড্রেনের কাজ চালানোর কারনে পুরো সড়কজুড়ে আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়। সী প্যালেসের সামনের গলিতে হোটেল বেভিউ সড়কটি বন্ধ করে চলছে নির্মান কাজ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ড্রেনটি ও। গতকাল বিকালে সরেজমিনে দেখা গেছে সড়কটির উভয় পাশে পানি তুলে গর্ত করে চলছে ড্রেনের কাজ। ফলে বন্ধ রয়েছে হোটেল বেভিউ, সী নাইট, হাইপেরিয়ান্স, প্রতীক- জিনিয়া, হোয়াইট অর্কিড, ওয়াটার অর্কিডসহ ১২টি বড় বড় আবাসিক হোটেল। মাটি সরিয়ে কাজ করার পর কাজ শেষ হয়েও কিছু অংশ ভরাট করে না দেওয়ায় কয়েকটি আবাসিক হোটেল চালু করা যাচ্ছেনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন হোটেল মালিক জানান, মাটি ভরাট করে দেওয়ার জন্য আমরা ঠিকাদারের নিয়োজিত কর্মচারিদের ৫শ টাকা করে দিয়েছি কিন্তু এখনো ভরাট করে দেয়নি দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রমিকরা।
ব্যবসায়িদের দাবি ঈদের আগে সড়কের কাজ শেষ না হলে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হবে তাদের। ঠিকাদার যেভাবে কাজ চালাচ্ছেন তাতে ২/৩ মাসের মধ্যে ও ড্রেন এবং সড়কের নির্মান কাজ আদৌ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে ব্যবসায়িদের মাঝে শংকা বিরাজ করছে।
এদিকে ক্রমর্বধমান জনসংখ্যা এবং পর্যটন ব্যবসার ক্রম বিকাশের ফলে চলমান ড্রেনের যে পরিমাপ তা অপরিপল্পিত বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়িরা। আগামি ৫ বছর পর উক্ত ড্রেন পর্যটন এলাকার গলার কাঁটা বলে মনে করেন ব্যবসায়িরা। মাত্র ৩ ফুটের প্রস্থের ড্রেনের মধ্যে ৮ ইঞ্চি যদি দেওয়ালের পুরুত্বে চলে যায় ২৮ ইঞ্চির ড্রেন দিয়ে বিশাল হোটেল মোটেল জোনের ময়লা আর্বজনা কিভাবে সমাধান হবে তা নিয়ে খোদ ব্যবসায়িদের মাঝে শংকা বিরাজ করছে। এত টাকা ব্যয় করে শেষ পর্যন্ত পৌর কর্তৃপক্ষ অপরিপল্পিত ড্রেন নির্মান করছে বলে ও অনেকের অভিমত।
কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নুরুল আলম জানান, পর্যটন এলাকা কলাতলিতে ১৪টি সড়কের এবং সড়ক সংশ্লিষ্ট ড্রেনের নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করছে কুমিল্লার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হাসান বিল্ডার্স। তারা কাজের ইতোমধ্যে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সমাপ্ত করেছে বলে জেনেছি। তবে কাজের অনিয়ম হলে তদারকি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৪টি সড়কের নির্মান কাজ তদারকির জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে আরো তদারকিতে কঠোর হওয়া জরুরি। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়মের কারনে যেন পর্যটন এলাকার জরুরি উন্নয়ন কাজ মুখ থুবড়ে না পড়ে।
কলাতলির ১৪টি সড়ক এবং ড্রেনের কাজ যেন দ্রুত বাস্তাবায়ন করা হয় এবং আগামি ঈদের আগে যেন সড়ক সমুহ চলাচল উপযোগি করে উন্মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ব্যবসায়িরা।

Top