টিসিবির ১৯ ডিলারের ১৮ জনই অকার্যকর

download-21.jpg

এম. বেদারুল আলম :
ডিলারদের অবহেলা এবং সরকারি নির্দেশনা না মানায় জেলায় টিসিবির (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) পণ্য বিক্রয়ের সুফল পাচ্ছেনা জেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠি। সরকার ২০০৯ সালের অক্টোবর এবং নভেম্বরে কক্সবাজার জেলায় ১৯ জন ডিলার নিয়োগ প্রদান করেন। সে সময় দলীয় নেতাকর্মীদের তদবিরে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক আবেদনকারিদের মধ্যে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা করবে এমন লোককে বিবেচনায় এনে টিসিবির ডিলার নিয়োগ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে বছর দু’য়েক উক্ত ডিলাররা সঠিকভাবে পণ্য বিক্রি করে সরকারের আস্থার প্রতিদান প্রদান করলে ও বর্তমানে নানা কারনে উক্ত ডিলাররা টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে সরকার দরিদ্র অসহায় মানুষের সুবিধার্থে স্বল্প মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক সদরের পিএমখালীর বাংলাবাজার মের্সাস কাদের এন্টারপ্রাইজ ডিলারের দোকানে টিসিবির পণ্য বিক্রির উদ্বোধন করেন। মূলত জেলায় টিসিবির কার্যক্রম বলতে মাত্র সেই সবেধন লীলমনি কাদের এন্টারপ্রাইজ। জেলায় সরকার ১৯ জন টিসিবির ডিলার নিয়োগ প্রদান করলে ও কার্যক্রম চলছে একটি মাত্র ডিলারের দোকানে। ডিলারদের সবাই দলীয় নেতাকর্মী এবং অনেকে ডাকসাইডে নেতা হওয়ায় সরকারি নির্দেশনা মানছেনা অনেক ডিলার। বার বার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পণ্য বিক্রির নির্দেশনা প্রদান করা হলেও অদ্যাবধি কার্যকর না হওয়ায় সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প টিসিবির কার্যক্রমের সূফল বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ফলে রমজানে সরকারের মহতি কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের জন্য সরকারি ভাবে ১৯ জন ডিলার নিয়োগ প্রদান করা হয়। ২০০৯ সালে নিয়োগ প্রাপ্ত ১৯ জন ডিলার হলেন, কক্সবাজার সদর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বাংলাবাজারের আবদুল কাদেরের কাদের এন্টারপ্রাইজ, শহরের পৌরসভার কুতুবদিয়া পাড়ার ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আতিক উল্লাহ, বিমান বন্দর সড়কের জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোঃ রহিম উদ্দিন বা মের্সাস রহিম ট্রেডার্স, রুমালিয়ারছড়ার আনোয়ার এন্ড ব্রাদার্স, ঈদগাও এর হামিদ এন্ড ব্রাদার্স, পেকুয়া নতুন বাহারছড়ার মের্সাস এনএম ট্রেডার্স, চকরিয়ার কাকারার মের্সাস মুছা এন্ড ব্রার্দাস, কোর্ট বিল্ডিং এলাকার মের্সাস এমএন আফসার, একই এলাকার সজিব এন্ড সন্স, কুতুবদিয়া উপজেলার যথাক্রমে মের্সাস নাহার এন্টারপ্রাইজ, লেমশীখালীর মেসার্স বিছমিল্লাহ ট্রেডার্স, দক্ষিণ ধুরুং এলাকার শাহেদ এন্টারপ্রাইজ, রামুতে মের্সাস মাস্টার বিল্ডার্স, আমিন বানিজ্য সংস্থা, জোয়ারিয়ানালার মের্সাস মাহবুবে ইলাহি, মহেশখালীতে গোরকঘাটায় ফরসুন ভ্যারাইটি ষ্টোর, মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, উখিয়ার কালিয়াপাড়ার মেসার্স ইসহাক ট্রেডার্স, ভালুকিয়ায় মেসার্স ইস্কান্দার হোসেন চৌধুরী।
এদিকে জেলার একমাত্র কার্যকর ডিলার সদরের আবদুল কাদের জানান, টিসিবির পণ্যের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে। সাধারণ ক্রেতারা প্রতিদিন দোকানে পণ্যের জন্য আসছে কিন্তু তাদের চাহিদা অনুযায়ি বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি বলেন এ পর্যন্ত ৭শ কেজি ছোলা, ৭শ কেজি চিনি, ৩শ কেজি মশুর ডাল, ৫শ লিটার সয়াবিন তেল তিনি ক্রেতাদের সরকারি ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করেছেন। শতাধিক ক্রেতাদের মাঝে উক্ত পণ্য বিক্রি করা হলে ও বাজারে পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে কিন্তু বরাদ্দ বৃদ্ধি জরুরি।
এদিকে টিসিবির পণ্য মানসম্পন্ন নয় অজুহাতে ডিলাররা পণ্য বাজারে আনছেনা এমন অভিযোগ মানতে নারাজ ডিলার আবদুল কাদের। ৪ বছর আগে নি¤œমানের সয়াবিন তৈল দিয়েছিল টিসিবি কিন্তু এখন যে মালামাল দিচ্ছে তা খুবই মানসম্পন্ন এবং পরিস্কার। সুতরাং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প শুধুমাত্র ডিলারদের অবহেলার কারনে ভেস্তে যেতে বসেছে।
সদর উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মোঃ নোমান হোসেন প্রিন্স জানান, সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম টিসিবির পণ্য বিক্রিকে মাঠে সচল রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে ডিলারদের। তবু যারা অবহেলা করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর থাকবে।
এদিকে ১৮ জন ডিলারদের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর এনডিসি ( ভারপ্রাপ্ত) একেএম লুৎফর রহমান বলেন, টিসিবির কার্যক্রম খুবই দরকারি একটি কর্মসূচি । এটিকে কার্যকর করার জন্য গত ৭ মে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যে সব ডিলার টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেনা তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি বলেন – তাদের লাইসেন্স বাতিলের জন্য শীগ্রই চিঠি দেওয়া হবে। হয়ত চলতি মাসের মধ্যে তাদের লাইসেন্স বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
সরকার আপদকালিন সময়ে বা জরুরি সময় বিবেচনায় টিসিবির পণ্য বিক্রি করে অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠির কষ্ট লাগবে এ প্রকল্প গ্রহন করলেও ডিলারদের অবহেলা এবং অনিয়মের কারনে তা সফলভাবে মাঠে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে সরকারের দূর্নাম করতে দলের নেতারা যারা ডিলারশীপ নিয়েছিলেন তারাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ অনেক নেতাকর্মীর। সরকারের মহতি উদ্যোগ টিসিটির কার্যক্রম সফল করতে অলস ও অনিয়মকারিদের বাতিল করে পুনরায় ডিলার নিয়োগ প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন উপকারভোগিরা।

Top