ইয়াবা মজুদের নিরাপদ আশ্রম কলাতলীস্থ গেস্ট হাউজ!

Dcox-02.jpg

ঢাকায় আটক শামীম গেস্ট হাউজের ভাড়াটে মালিক সহ অন্যান্যর।

কক্সবাজার রিপোর্ট ॥

কক্সবাজার শহরে পর্যটন ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা মজুদের নিরাপদ আশ্রম তৈরী করেছে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। মোটা অংকের টাকায় আবাসিক গেস্ট হাউজ ভাড়া নিয়ে মাদকের এ আখড়া তৈরী করা হয়েছে। দফায় দফায় ঢাকায় বিপুল অংকের ইয়াবা সহ কয়েকজন আটক হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার  হওয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের নজরেও এসেছে বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বলছে, আবাসিক গেস্ট হাউজ ভাড়ায় নিয়ে মাদকের ব্যবসার বিষয়টি নজরধারীর আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

র‌্যাব ২ এর তথ্য মতে, গত ১৫ মার্চ রাজধানী ঢাকায় লক্ষাধিক ইয়াবা সহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে কলাতলীর সুগন্ধার মোড় সংলগ্ন এলাকার শামীম গেস্ট হাউজের ভাড়াটে মালিক হোসেন আলীও। কিন্তু র‌্যাবের কাছে হোসেন আলী তার প্রকৃত নাম গোপন রেখে মোহাম্মদ আলম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

র‌্যাব তাদের সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এ মোহাম্মদ আলম (প্রকৃত হোসেন আলী) পড়াশোনার সুযোগ তেমন মেলেনি। মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। ছিলেন মাদকাসক্ত। চিংড়ি মাছের পোনা, কটেজ ব্যবসা, একটি পত্রিকার সাবেক পরিচালক, জমি-জমা বিক্রিতেও আসেনি কাঙ্খিত পরিমাণ টাকা। এরপর দ্রুত বিত্তশালী হবার স্বপ্নে পা বাড়ান ইয়াবা ব্যবসায়। গত ৪ বছরে তিনি গড়ে তোলেন ইয়াবার বড় একটি সিন্ডিকেট। এক লাখ পিস কমে কখনও ইয়াবার চালান কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আনতেন না তিনি। নিজ রেন্ট-এ-কারের ব্যবসার সুবিধা নিয়ে নিজস্ব গাড়িতে শুধু ঢাকা নয় পার্শ্ববর্তী জেলাতেও ইয়াবার চালান করতেন।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকার হাজী সামশুল আলমের ছেলে হোসেন আলী এর আগেও একবার ইয়াবা সহ আটক হয়েছিল।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য মতে, গত ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর এক কোটি টাকা নগদ জামানত দিয়ে কলাতলি বি ব্লকের ৮নং প্লটের উপর গড়ে তোলা শামীম গেস্ট হাউজের চারতলা বিশিষ্ট ৪১টি কক্ষ ভাড়া নেয় হোসেন আলী। ‘শামীম গেস্ট হাউজ’কে ইয়াবা মজুদের জন্য ব্যবহার করেন তিনি। সেখান থেকে মূলত নিজস্ব রেন্ট-এ কারের মাধ্যমে, কখনও পিকআপ, ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবার চালান করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে র‌্যাবকে জানিয়েছে, এক লাখ পিসের নিচে কখনও তিনি ইয়াবার চালান ঢাকায় আনেননি। যতবার তিনি ইয়াবা সফলভাবে ঢাকায় পাঠিয়েছেন ততবারই পরিবর্তন হয়েছে মোবাইল ফোন নম্বর। সুত্র জানিয়েছে, এই ইয়াবা ব্যবসায় একই সিন্ডিকেটে শামীম গেস্ট হাউজ কেন্দ্রিক একটি বড় সিন্ডিকেট জড়িত।

এর আগে ৪ মার্চ ঢাকায় ইয়াবা সহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযান ইয়াবা সহ আটক হন বিএনপি’র যুগ্ন মহাসচির সালাহ উদ্দিন আহমদের মালিকানাধিন কলাতলীস্থ মেরিন প্লাজার ভাড়াটে মালিক মাহমুদুল হক। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তথ্য মতে, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে রয়েছে তাঁর হোটেল। এর বাইরে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে নিয়মিত ঢাকা-কক্সবাজার যাতায়াত করতেন। কক্সবাজারে সবাই তাঁকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে জানে। এই পরিচিতির আড়ালে তিনি ঢাকা-কক্সবাজারে গড়ে তুলেছেন ইয়াবার নেটওয়ার্ক। মাহমুদুল হক (৫১) নামের ওই ব্যবসায়ীকে রাজধানীর সেগুনবাগিচার নিউ ইয়র্ক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কলাতলীস্থ অর্ধশতাধিক আবাসিক গেস্ট হাউজ ভাড়া নিয়ে ইয়াবা আখড়া গড়ে তুলেছে একাধিক সিন্ডিকেট। মুলত ইয়াবা ব্যবসাকে পুঁজি করে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। সরকারি দায়িত্বশীল সংস্থার তথ্য মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের তালিকাভূক্ত টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার হাজি সাইফুল করিমেরও আবাসিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে কলাতলীতে। একাধিক চিহ্নিত গডফাদার এবং নব্য ইয়াবা গডফাদার আশ্রম গড়ে তুলেছে কলাতলীতে। এসব আবাসিক প্রতিষ্ঠানে পাইকারি ও খুচরা ইয়াবা বিক্রির আখড়া তৈরী হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল জানান, দফায় দফায় ঢাকায় ইয়াবা সহ আটকের ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। ইয়াবা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কিছু আবাসিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করার বিষয়টি পরিষ্কারও। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে নজরধারীর আওতায় আনা হচ্ছে।

Top