শুভ জন্মদিন সাকিব

image-27831-1521853074.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক ॥

১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ খুলনার মাগুরা জেলায় মা শিরিন রেজার কোল আলো করে পৃথিবীতে আসেন সাকিবুল হাসান নামের এক ছেলে সন্তান। নাম সাকিবুল হলেও পরে সেটা পরিবর্তন করে সাকিব আল হাসান করা হয়।

এদিকে বাবা মাশরুর রেজা পেশায় ছিলেন ফুটবলার। ফুটবল প্রেমি পরিবারে জন্মগ্রহন করেও সাকিবের ছিলো ক্রিকেটের প্রতি গভীর আগ্রহ। আর সেই আগ্রহের প্রতিফলন হিসাবে ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক হয় তার।

সাকিব বামহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার। সাকিব ছিলেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাঁর খেলার মান আর ধারাবাহিকতা তাঁকে নিয়ে গেছে এক নতুন উচ্চতায়, হয়েছেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একজন খেলোয়াড়-“দ্য ওয়ান ম্যান আর্মি”। দলের খারাপ সময়ে একাই বোলিং ব্যাটিং দুই ফরম্যাটে আলো ছড়িয়েছেন।

এছাড়াও তাঁর রয়েছে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হওয়ার কৃতিত্ব। সাকিব ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম বারের টেস্ট, ওডিআই ও টি২০ প্রত্যেক ক্রিকেট সংস্করণে এক নম্বর অল-রাউন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন| সাকিব প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে ৪,০০০ করার গৌরব অর্জন করেন। তিনি টি২০তে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০০০ রান পূর্ণ করেন ৷ এছাড়া দ্বিতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে টি২০তে ১০০০ রান ও ৫০ উইকেট লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনালগ্নে: ২০০৬ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে সাকিব প্রথমবারের মত বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। একই ট্যুরে ওয়ানডে অভিষেক হয় ফরহাদ রেজা ও মুশফিকুর রহিমের। সাকিব ও রেজাকে তখন “দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণ প্রতিভা” হিসেবে গণ্য করা হত, সকল ডিপার্টমেন্টে যাদের দক্ষতা অসামান্য। তৎকালীন” একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় সাকিবের প্রথম শিকার হন এলটন চিগুম্বুরা। ৩৯-১, এই ছিল তাঁর সেদিনকার বোলিং ফিগার। ব্যাট হাতে তিনি ৩০ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। শাহরিয়ার নাফিস সেদিন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতাতে ভূমিকা রাখেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ আয়োজিত ২০০৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপ এ হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন ১৫ জনের বাংলাদেশ স্কোয়াডে ডাক পান সাকিব। টুর্নামেন্টের দ্বিতীর পর্বে যেতে সক্ষম হয় এই দল এবং ৭ নম্বর টিম হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করে। শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে দলটি বড়সড় রকমের অঘটনের জন্ম দেয়। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব– এ তিনজনের হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে বাংলাদেশ সহজেই ১৯২ রানের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায়। টুর্নামেন্টে সাকিব ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরেকটি হাফ সেঞ্চুরি করেন। ৯ ম্যাচে তিনি ২৮.৮৫ গড়ে ২০২ রান করেন। সাকিব ৪৩.১৪ গড়ে ৭টি উইকেটও নেন। সে বছরই মে মাসে দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডে’র এক সফরে ভারত বাংলাদেশে আসে। মে মাসের ১৮ তারিখ সাকিবের টেস্ট অভিষেক হয় ভারতের বিপক্ষে।

টেস্ট ম্যাচ সাকিবের কিছু রেকর্ড: সপ্তম উইকেট জুটিতে মাহমুদউল্লাহকে সাথে নিয়ে সর্বোচ্চ সংগ্রহ: ১৪৫ বনাম নিউজিল্যান্ড, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০।
এক ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান: ৭/৩৬ বনাম নিউজিল্যান্ড, ১৭ অক্টোবর ২০০৮। বাংলাদেশের সেরা বোলিং গড় (কমপক্ষে ১৫টি উইকেট প্রাপ্ত বোলারদের মধ্যে) ২১ ম্যাচে ৭৫ উইকেট, ৩২.১৩ গড়ে।

এমন কোনো বড় বিদেশী লীগ নেই যেখানে সাকিব ডাক পাননি। বিশ্ব ক্রিকেটে সর্বত্র বিচরণ করেছেন সাকিব আল হাসান।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ(আইপিএল)
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগ(সিপিএল)
বিগ ব্যাশ লীগ (বিগ ব্যাশ)
পাকিস্তান সুপার লীগ(পিএসএল)

এ সকল বিদেশী লীগে খেলেছেন সাকিব।।বর্তমানে সাকিব ওয়ানডে এবং টেষ্টের ১ নাম্বার অলরাউন্ডার এবং টুয়েন্টিতে ৩ নাম্বার।

আজ দ্যা রেকর্ড আল হাসান ৩১ বছরে পা দিলেন। অর্থ্যাৎ আজ তার ৩১ তম জন্মদিন। তার জন্মদিনে অনেক শুভকামনা রইলো।

Top