পর্যটকের বেশে অভিনব কায়দায় দোকান চুরি চক্রের ৯ সদস্য ট্যুরিস্ট পুলিশের হাতে আটক

News-PIc-Monotosh.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :
ওরা পর্যটকের বেশ ধরে সাগর পাড়ের দোকানগুলোতে চুরি করে। কোলের শিশুসহ দুই জন নারী দোকানদারের সাথে মালামাল নিয়ে দরদাম করেন। অপর দুই নারী ঘেটেঘুটে দেখেন দোকানের জিনিসপত্র। দোকানদাররা ক্রেতার সাথে ব্যস্ত হয়ে পড়লে চোর চক্রের পুরুষ সদস্যরা অথবা শিশু ছাড়া আসা দুই নারী কৌশলে মালামাল চুরি করে। আবার ভীড়ের মধ্যে নারীরা টাকা চুরি করতে পারলে টাকা পুরুষ সদস্যদের পকেটে চালান করে দেয়। এই চোর চক্রের ৯ সদস্য গত শুক্রবার কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের হাতে আটক হয়েছে।
আটকরা হলেন, কুমিল্লার তিতাস থানার গৌরিপুর এলাকার মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে মো: জাকির (২১), একই এলাকার মো: জাকিরের মেয়ে আলেয়া আকতার (১৮), জিয়ারকান্দির জালাল সরকারের মেয়ে সুমি আকতার (১৮) ও ফারিয়া আকতার, একই এলাকার মামুন আলীর ছেলে মো: আতাউল (২১), কোতোয়ালি থানার নোয়াপাড়ার মান্নান মিয়ার ছেলে মো: খোরশেদ (৩৫), একই এলাকার মোর্শেদ মিয়ার মেয়ে সেলিনা আকতার (২৭), তিতাস থানার গৌরিপুর এলাকার মো: জাকিরের ছেলে মো: সেলিম (১৮), বাহাদুর খোলার মো: কামালের মেয়ে আমেনা আকতার (১৮)।
পুলিশ বলছে, পর্যটক বেশে আসা এ চোর চক্রের সদস্য সংখ্যা ৮ থেকে ১২ জন। এর মধ্যে নারী সদস্য রয়েছেন ৫ জন। গত ৩/৪ মাস ধরে এই চক্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্টের দোকানগুলোতে এইভাবে চুরি করছিল। যার কিছু ভিডিও ফুটেজ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী সংগ্রহ করছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়হান কাজেমী বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টের হোটেল সী কক্সের ম্যানেজার আমাকে ফোন করে জানান, সুগন্ধা পয়েন্টের কিছু ব্যবসায়ী তার হোটেলের কিছু পর্যটককে তুলে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। আমি তাৎক্ষনিকভাবে কয়েকজন ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যকে নিয়ে হোটেল সী কক্সে যাই। হোটেলে পৌছালে ব্যবসায়ীরা বলেন, ওই পর্যটকেরা তাদের দোকান থেকে চুরি করেছে। তখন আমি আমার মোবাইলে কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ ব্যবসায়ীদের দেখাই। তারা ওই ফুটেজগুলো থেকে কয়েকজনকে সনাক্ত করেন। পরে হোটেল ম্যানেজার ও কয়েকজন ব্যবসায়ীকে নিয়ে হোটেলের চারটি কক্ষ তল্লাশী করে ৫ জন নারী ও ৪ জন পুরুষকে পাওয়া যায়। যার মধ্যে ফুটেজের সাথে ৫ জন চোরের মিল পাওয়া যায়। এরপর শুরু হয় চুরিকৃত মালামাল উদ্ধারের পালা। সব কক্ষ, ওয়ারড্রোভ, আলমারী, ব্যালকনী, খাটের নিচে তল্লাশী করে শুধু চুরির ২ টি ব্যাগ পাওয়া যায়। পরে ফলস ছাদ এবং গোসলখানার উপর গিজার্ডের বক্স কক্ষ তল্লাশী করে চুরির ব্যাগ, গয়না, চশমা, শো-পিচ, খেলনা, টাকা ও আচার উদ্ধার করা হয়। আটক ৯ জন চোরকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

Top