কক্সবাজার পৌর মেয়র সমীপে

picture-for-paper.jpg
॥ অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন ॥
কক্সবাজার পৌরসভার এ পর্যন্ত যত সমস্যার কথা উঠে এসেছে এর মধ্যে আলোচিত বাজারঘাটা নালা উন্মুক্তকরণ প্রথমে সবার চোখে পড়ে। শুধু তাই নয় এটি মানুষের অনেক দিনের প্রাণের দাবি। গণচীনের দুঃখের হোয়াংহো নদীর মতো এই নালাটিও ছিল আমাদের  অন্যতম দু:খ। বৃষ্টি ও পচা দুর্গন্ধময় পানির প্রবল ঢেউ এসে পথচারীর যাতায়াত বন্ধ করতো। মানুষ অসহায় হয়ে প্রশাসনের দিকে চেয়ে রইতো। কিছুই হতো না। আমার জন্মের পর থেকে কতবার রাস্তা উঁচু করা থেকে কতকিছু হলো, কিছুই এই নালার উন্নয়ন কাজে কেউ সফলতা আনতে পারেনি। একমাত্র বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র জনাব মাহবুবুর রহমান তা পেরেছেন। শুধু তাই নয় জেলা প্রশাসন থেকে সবাই তার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। এরপর তিনি অনেকগুলো উন্নয়নের কাজে সফলতা এনেছেন। তাঁর দৃঢ় পদক্ষেপগুলো মানুষকে উজ্জীবিত করেছে। অনুপ্রাণিত করেছে। আমি একথাগুলো বলছি একারণে যার হাত দিয়ে এতোগুলো সফলতা এসেছে, তিনি পৌরসভার বাকি দুরূহ কাজগুলোতে হাত দিলে বোধকরি সফলতা আসবে। মাননীয় শেখ হাসিনা এবারে মাদকের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন। মানুষ তা দেখতে পাচ্ছে। মাননীয় মেয়রকে অনুরোধ করবো তিনি যেন এবার যানজট এবং রাস্তায় হকার অবমুক্তকরনে নেমে মানুষের ভালোবাসায় আবার সিক্ত হন।
আসলে পৌরসভার একমাত্র প্রধান সড়কটি খুব একটি দুরত্ব নিয়ে অবস্থান করে না। সমস্যা সংকুল পি টি স্কুল বাজার থেকে কালুর দোকান, পাবলিক লাইব্রেরি হয়ে বনবিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। একটি মাত্র প্রধান সড়ক। মানুষ, গাড়ী, গরু সব এক রাস্তা দিয়ে চলে। ফুটপাতে নানা দখলবাজ দোকানী পসরা সাজিয়ে বসেছে। আমরা দেখেছি ওয়ান এলিভেনের সময় এসব রাস্তায় দুপাশে গজিয়ে উঠা দাঁড়ি-মুচ ছেঁটে দেওয়া হয়েছিল। মাননীয় মেয়রকে আমি শুধু ফুটপাত দখল এবং রাস্তার দুপাশে নালা সমস্যা নিয়ে বলতে চাই। মানুষ হাঁটতে পারছে না ফুটপাতের অভাবে। ফুটপাত না থাকলেও যে জায়গাটুকু রাস্তার দুপাশে রয়েছে তাতে নানা দোকান বসে গেছে। একসময় মাননীয় মেয়র রাস্তার দুপাশে সান্ধ্যকালীন মাছবাজার উচ্ছেদ করেছেন তাও আমরা জানি। এসব আবার মৌসুমী ফলের দোকানসহ নানা ফেরিওয়ালা দোকান খুলে বসেছে। এতে কেউ ভালভাবে দাঁড়িয়ে গাড়িতে উঠতে পারছেনা। চলাফেরা করতে পারছেনা। আমি জানি মেয়র সাহেব রাস্তার দু’পাশে অনেক পাকা নালা করে দিয়েছেন। এখন কিছু কিছু দোকানীরা সেই তৈরীকৃত পাকানালার উপর দোকানের পসরা সাজিয়েছেন। আমার মনে হয় এসব পৌরসভা ঠিকমতো মনিটরিং করলে ঠিক হয়ে যাবে। পাবলিক লাইব্রেরির পার্শ্বে কাপড়ের ফেরিওয়ালা দোকানগুলো দিনে দিনে রাস্তার উপর উঠে আসছে। মানুষের হাটার জায়গাটা পর্যন্ত নেই। বনবিভাগের সামনে নালার উপর ফলের দোকান। এখানেও গাড়ি মানুষ একসাথে চলে। মানবসৃষ্ট এসব  কাজ কিন্তু সহজেই চোখে পড়ে। কালুর দোকানেও সেই একি অবস্থা। র্স্তাার উপর দোকান চলে এসেছে। মানুষ পথ চলতে পারছে না। রাস্তার উপর অবস্থান করে। বঙ্গবন্ধু সড়কটি প্রশস্থ হয়ে উঠতে না উঠতেই মুচিরা আস্তে আস্তে রাস্তা দখল শুরু করে দিয়েছে।ককসবাজার পৌরসভার রাস্তায় রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের প্রাণান্তকর চেষ্টা কে না জানে। পৌরসভা এতে কাজ করে যাচ্ছে নিরবিচ্ছিন্নভাবে।
আমার মতে পৌরসভার রাস্তায় যানজট নিরসনে কয়েকটি পয়েন্টে ট্রাফিক মনিটরিং খুব জরুরি। একটি বৌদ্ধ মন্দির ও বার্মিজ স্কুল পয়েন্টে, বাজারঘাটা, আইবিপি রাস্তার মাথা, ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন হাসপাতাল রোড এবং পানবাজার রোড।
এছাড়া আর কোথাও তেমন যান জট হয়না বললেই চলে। দু একজন ট্রাফিক পুলিশ এবং কমিউনিটি পুলিশ দিয়ে এসব নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয়। এসব জায়গায় যানজট সবসময় লেগে থাকে। এমনকি রাত এগারটার পরেও। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে রাস্তার উভয় পার্শ্বে যে জায়গাটুকু আছে তা চলাচল অযোগ্য। তা সমান করে দিলে লোকজন অন্তত হাটতে পারবে। এতে যানজট নিরসনে সুবিধা আসতো। অধিকাংশ জায়গা এবড়ো থেবড়ো। কোথাও নালা পরিষ্কার করে স্লেভগুলো এলোমেলো ফেলে রেখে গেছে। তাই মাননীয় মেয়র মহোদয়কে বলবো এসব বিষয়ে আপনার দৃঢ় পদক্ষেপ মানুষের কাজে আসবে। মানুষ উপকৃত হবে।
Top