পানি থাকে না পৌরসভার লাইনে

images-1-1.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :
কক্সবাজার পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দিন দিন ভেঙ্গে পড়ছে। ফলে বেশির ভাগ সময় পৌরসভার লাইনে পানি থাকে না। ১৯৯০ সালেও পৌরসভার নাগরিকদের মাঝে পানি সরবরাহের জন্য ছিল ৬টি পাম্প এখনো সেই পরিস্থিতি, ২৮ বছর পরও এখনো ৬টি পাম্প দিয়েই চলছে এত বিপুল সংখ্যক জনগনের মাঝে পানি সরবরাহের কাজ। দীর্ঘ ২৮ বছরে বেড়েছে পৌরসভার পরিধি বেড়েছে লোক সংখ্যা কিন্তু বাড়েনি পৌরসভার নাগরিক সুবিধা। বিশেষ করে পানি সরবরাহ প্রকল্প নিয়ে পৌরসভার নাগরিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবশ্য ইতিমধ্যে নতুন আরো ৭ টি পাম্প বসানোর কাজ চলছে বেশির ভাগ শেষ পর্যায়ে তবে তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফাইল জটিলতায় পড়ে আছে তাই কাজ শেষ করা যাচ্ছে না বলে জানান পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা। আর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে,গরমের সময় পানির স্তর নীচে নেমে যায় ফলে পানি নিয়ে একটু সমস্যা দেখা দেয়। তবে খুব দ্রুত নতুন পাম্পের কাজ শেষ হলে পৌরসভার পানির সমস্যা অনেকাংশে কেটে যাবে।
কক্সবাজার পৌর এলাকার টেকপাড়ার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, আমরা বহুবছর থেকে পৌরসভার পানির উপর নির্ভরশীল,বাড়ি রান্নাবান্নার সমস্ত কাজ হয় পৌরসভার পানি দিয়ে তবে খাবার পানি গুলো বাইরে থেকে আনি। পৌরসভার পানি নিয়ে আমাদের কষ্টের সীমা থাকে না,বেশির ভাগ সময় লাইনে পানি থাকে না,যেমন সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত লাইনে পানি থাকে,আর বিকাল ২ টার পরে কিছু পানি আসে। আর সারা দিন পানি আসে না। তবে সম্প্রতি গরমের সময় পানির ব্যবহার বেড়ে গেছে আর পৌরসভার লাইনে পানি নেই। যখন পানির বেশি প্রয়োজন তখন লাইনে পানি নাই এভাবেই চলছে।
বাহারছড়া এলাকার গৃহীনি শামসুন্নাহার বলেন, আমাদের বাড়ির প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ পানি পৌরসভার লাইনের। পানি নিয়ে আমি তেমন অসন্তুষ্ট না তবে ইদানিং বেশ সমস্যা করছে। লাইনে পানিই থাকে না। অবশ্য তাদের পরামর্শে মটর দিয়ে পানি টেনে তুলি সেখানেও দেখা যাচ্ছে পানি আসে না। আর বেশিক্ষন মটর চালালে পানি আসে খুব দূর্গন্ধযুক্ত। আসলে পৌরসভার পানির ব্যবস্থাপনাটা আরো উন্নত হওয়া দরকার।
এদিকে কক্সবাজার পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে ১৯৯০ সালে কক্সবাজার পৌরসভা এলাকায় পানি সরবরাহ করার জন্য পাম্প ছিল ৬ টি আর বর্তমানে ২৮ বছর পর ও সেই অবস্থা অর্থাৎ ৬টি পাম্প দিয়েই চলছে পৌরএলাকায় পানি সরবরাহের কাজ। এর মধ্যে কয়েকটি পাম্প অনেক পুরুনো যা পানি উঠাতে অনেকটা অক্ষম। জানা গেছে কক্সবাজার পৌরসভা অফিসের পাশে পুরাতন পাম্পটি বর্তমানে অকেজো আর নতুন আরেকটি পাম্প বসানো হলেও সেটা চালু করা সম্ভব হয় নি। আর পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের পুরাতন পাম্পটি বন্ধ আর নতুন ২০১৫ সালে বসানো পাম্প দিয়ে বর্তমানে পানি আসে ঘন্টায় ৬ হাজার গ্যালন। এছাড়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের পাশের পুরাতন পাম্পটি বন্ধ আর নতুন বসানো পাম্পটি চালু আছে। মোহাজের পাড়া এলাকায় পাম্পটি বসানো হয়েছিল ২০০১ সালের দিকে ফলে এই পাম্পটি অকেটা অকেজো ঘন্টায়। ২ হাজার গ্যালনও পানি উঠাতে পারে না। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের পাসের পাম্পটি বসানো হয়েছিল ২০১৫ সালের দিকে সেটি ঘন্টায় ৭ হাজার গ্যালন পানি উঠাতে পারে। আর গোলদিঘীর পাড় এলাকার পাম্পটি বসানো হয়েছিল ২০০৫ সালে সেটিও ঘন্টায় ২ হাজার গ্যালন পানি উঠাতে পারে। হাসেমিয়া মাদ্রাসার পাশের পাম্পটি বসানো হয়েছিল ২০১০ সালে সেটিও মোটামুটি ঘন্টায় ৫ হাজার গ্যালন পানি উঠাতে পারে মোট কথা পৌরসভার ৬ টি পাম্পে প্রায় ঘন্টায় ২৫ হাজার গ্যালন পানি উঠে কিন্তু পৌরসভার নাগরিকদের জন্য প্রয়োজন হয় ৪০ হাজার গ্যালন।
কক্সবাজার পৌরসভার পানি শাখার কর্মকর্তা মোঃ আবদুল্লাহ বলেন,গরমের সময় পানির একটু সমস্যা দেখা যায়, এছাড়া বিদ্যূৎ না থাকার কারনে পাম্প চালানো যায় না,ফলে পানি উঠানো না গেলে লাইনে পানির সংকট হয়ে পড়ে। তবে এখন পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আগের চেয়ে ভাল বলে দাবী করেন তিনি। এ সময় তিনি অনেক গ্রাহক ঠিক মত বিল আদায় না করায় কাজের ব্যাঘাত হচ্ছে বলেও জানান।
কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলার হুমায়রা বেগম বলেন,পৌরসভার পানি সমস্যা নিয়ে নাগরিকদের কাছ থেকে প্রায় সময় অভিযোগ শুনতে হয়। আমার মতে পৌরসভাতে আমরা জমির ব্যবস্থা করে দিয়ে আরো নতুন ৭টি পাম্পে বসানোর জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সেখানে যতটুকু জানি কাজও কিছুটা হয়েছে কিন্তু কাজে এত বেশি ধীরগতি সেটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। আমি মনে করি জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজের ধীরগতির কারনে সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।
কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন,নতুন ভাবে পৌরসভা অফিসে,হাসেমিয়া মাদ্রাসার পাশে,বাসটার্মিনাল এলাকা,বিজিবি মসজিদের পাশে,খাজা মঞ্জিল মসজিদের পাশে,সার্কিট হাউজ কবরস্থানের পাশে মোট ৭ টি নতুন পাম্প বসানো হয়েছে সেগুলো খুব দ্রুত সচল হওয়ার পাথে। নতুন এসব পাম্প চালু হলে আশা করি পানির সমস্যা অনেকাংশে কেটে যাবে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ঋত্বিক চৌধুরী বলেন জানান,গরমের সময় পানির স্তর নীচে নেমে যায়। ফলে স্বাভাবিক ভাবে পানির একটু সংকট দেখা দেয়,বৃস্টি হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। আর নতুন পাম্প গুলো সচল করার ব্যাপারে আমরা চেস্টায় আছি,আসলে সব কাজেন জন্য এক সাথে আমরা বরাদ্ধ পাই না তাই ধাপে ধাপে কাজ করতে হয়। তবে আমি চাই মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সে জন্য খুব দ্রুত কাজ শেষ করতে।

Top