স্পেনে সরকার পতন, ক্ষমতা নিচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা

download-3.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :
স্পেনের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে পদচ্যুত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতা নিচ্ছেন বিরোধীদলীয় স্যোশালিস্ট নেতা পেদ্রো সানচেজ। শনিবারই তিনি শপথ নিতে পারেন। দেশটির ক্ষমতাসীন দল পিপলস পার্টি (পিপি) বড় ধরনের দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকায় প্রধানমন্ত্রী রাখয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন স্প্যানিশ স্যোশালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি (পিএসওই) নেতা সানচেজ। শুক্রবার পার্লামেন্টে ভোটের আগে তিনি বলেছিলেন, “আমরা দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছি।”
স্পেনে চার দশকের গণতন্ত্রের ইতিহাসে মারিয়ানো রাখয়ই পার্লামেন্টের ভোটে পদচ্যুত হওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ওদিকে, সানচেজের মধ্য-বাম স্যোশালিস্ট পার্টির জন্যও এ এক বিরল সাফল্য। রক্ষণশীল পিপলস পার্টি নেতা রাখয় ২০১১ সাল থেকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। শুক্রবার পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মত বিতর্ক চলার সময়ই তিনি পরাজয়ের মুখে রয়েছেন বলে স্বীকার করে নেন। ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ১৮০ জন এমপি, বিপক্ষে পড়ে ১৬৯ ভোট এবং একজন ভোটদানে বিরত ছিলেন। অন্যদিকে, স্যোশালিস্ট নেতা সানচেজ বৃহস্পতিবারই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ছয়টি ছোট দলের সমর্থন পেয়ে যাওয়ায় দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।
ভোট কেন ডাকা হয়েছিল? : পেদ্রো সানচেজের অভিযোগ, মারিয়ানো রাখয় দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে তার দলের জড়িত থাকার দায় নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। গত সপ্তাহে স্পেনের ন্যাশনাল কোর্ট ব্যবসায় জড়িত ২৯ ব্যক্তির সঙ্গে পিপি কর্মকর্তাদেরকেও বিভিন্ন অপরাধের মধ্যে জালিয়াতি, কর ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে মোট ৩৫১ বছরের জেল দিয়েছে। এছাড়া, রাখয়ের দল অবৈধভাবে সংগ্রীহিত তহবিল থেকে সুবিধা ভোগ করেছে বলেও বেরিয়ে এসেছে। এ কারণে দলটিকে ২ লাখ ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়। এসব কারণে ক্ষুন্ন হয়েছে পিপলস পার্টির (পিপি) সুনাম।
এরপরই বিরোধীদলীয় নেতা সানচেজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয়কে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান এবং তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। রাখয় পদচ্যুত হওয়ায় এখন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়ল স্পেন। নেতৃত্বে শূন্যতা ঠেকাতে সানচেজ অবিলম্বে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়ে আগামী সপ্তাহেই মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ৩৫০ আসনের পার্লামেন্টে মাত্র ৮৪ আসন থাকায় আইন পাসের জন্য হিমশিম খেতে হবে সানচেজ সরকারকে।

Top