অতিথি কলাম : ঘুষ-দুর্নীতি বহাল রেখে মাদক দমন অসম্ভব

1-5.jpg

॥ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এডভোকেট  ॥
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত যুদ্ধ দেশের প্রায় সকল মানুষই সমর্থন করেন। কেন সমর্থন করবেন না? এখন মাদকাসক্তি জাতির অন্যতম প্রধান সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছেন,প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে মাদকাসক্তি। ঠিক কত সংখ্যক মানুষ মাদকাসক্ত তার কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে বছরে বছরে তা দ্রুতগতিতে বাড়ছে,তার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় মাদকদ্রব্য,বিশেষ করে ইয়াবা বড়ি আটকের হিসাবের দিকে তাকালে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে শুধু ইয়াবা বড়ি আটক করা হয়েছে ৪ কোটি পিস। এটা আগের বছরের তুলনায় ১ কোটি ১০ লাখ পিস বেশী এবং ২০১০ সালের তুলনায় ৫০ গুণ বেশী। অর্থাৎ গত ৭/৮ বছরে এ দেশে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা ও সেবন বেড়েছে প্রায় ৫০ গুণ। সাধারণভাবে আটক মাদকদ্রব্যের পরিমাণকে প্রকৃত চোরাচালানের ২০ ভাগের এক ভাগ হিসাবে অনুমান করা হয়। সেই হিসাবে ২০১৭ সালে দেশে প্রায় ৮০ কোটি পিস ইয়াবা বড়ি কেনাবেচা হয়েছে। এ থেকেই অনুমান করা যায়, ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা কি বিশাল ও ভয়ংকর। চরম উদ্বেগের বিষয়, কারণ মাদকসেবীরা মুলত তরুণ বয়সী যারা দেশের ভবিষ্যৎ। মাদক শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে একটা প্রজন্মকে, সমস্ত জাতিকে পঙ্গু করে ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে মাদকবিরোধী এ অভিযানে ’বন্দুকযুদ্ধে’ সারা দেশে ১২৭জন কথিত মাদকব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবী করে এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন নিহতের স্ত্রী আয়েশা খাতুন। কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত একরামকে সম্পূর্ণ নির্দোষ,কোনভাবেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না দাবী করা হয়েছে এবং একটি অডিও টেপও প্রকাশ করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। কাউন্সিলর একরামের পরিবারের দেওয়া অডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে র‌্যাবের পক্ষে মিডিয়াকে জানানো হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বন্দুকযুদ্ধে হত্যার মত কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার পরও প্রকৃত গডফাদাররা মিয়ানমারে বা অন্য দেশে পালিয়ে গিয়ে বা দেশের মধ্যে আত্মগোপন করে থাকলেও ইয়াবা আমদানী বন্ধ হয় নাই। তা প্রমাণ হয় এখনও আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনীর হাতে পাচারকারীসহ ইয়াবা জব্দের ঘটনা থেকে। অর্থনীতির ধর্ম অনুযায়ী চাহিদা থাকলে বৈধ বা অবৈধ পথে সরবরাহ আসবেই। সকল ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হত্যা করা হলেও যদি দেশে চাহিদা বা মাদকসেবন ব্যাপকভাবে অব্যাহত থাকে তবে সরবরাহ আনার জন্য ঝুকি থাকলেও লাভের জন্য নতুন ব্যবসায়ী সৃষ্টি হবেই।
কোন সমস্যা স্বীকার না করলে তা সমাধান হয় না। যেমন দীর্ঘ দিন পর প্রশ্নপত্র ফাঁস এর কথা সরকার স্বীকার করার সাথে সাথে এই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা শুনা যায় নাই,আপাতত বন্ধ হয়েছে প্রতীয়মান হয়। সরকার সফল হয়েছে। দেশের সকল ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতি থাকার কারণে বিগত ৭/৮ বছরে অবৈধ পথে ইয়াবার আমদানী ও ব্যবহার বা সেবন মারাত্মকভাবে ৫০গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক বছরে ইয়াবার চোরাচালান, বেচাকেনা ও সেবন বেপরোয়াভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পিছনের কারণগুলোও উদঘাটন করে তা দুর না করলে শুধু ’বন্দুকযুদ্ধ’ দিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ী হত্যা করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। দেশে লাখ লাখ ইয়াবা ও মাদকের মামলা বছরের পর বছর বিচারাধীন থাকলেও তার বিচার শেষ না হওয়া ও জামিনে গিয়ে আবার ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত হওয়া একটি কারণ। বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক প্রথমআলো পত্রিকায় প্রকাশিত এক কলামে লিখেছেন, ” তারিখের পর তারিখ পড়ে,সাক্ষী আসে না, জব্দতালিকার সাক্ষী সম্পূর্ণ লাপাত্তা,তদন্তকারী কর্মকর্তা ইতিমধ্যে বদলি হয়ে গেছেন তিনবার তিন জেলায়,আর তাই বছরের পর বছর তারিখ পড়ে। বিচার হয় না শাস্তিও হয় না। সরকারী কৌশলীদের নিয়োগ সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে, প্রধানত রাজনৈতিক বিবেচনায়,দক্ষতা-যোগ্যতা যাচাইয়ের কোন বালাই নেই। মামলা শেষ হলো কি হলো না, তাতে তাঁদের কিছু যায় আসে না। সরকার বদল হলে তাঁদের চাকরি শেষ। দুই-চার বছরে যা পাওয়া যায় উপরিসহ সেটাই মূখ্য।” সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তিনি বিগত বছরগুলোতে দেশের সকল জেলা থেকে ইয়াবা মামলায় জামিনপ্রাপ্ত আসামীদের জামিন বাতিল চেয়ে কয়টা আপিল সরকারপক্ষে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা হয়েছে বা হয় নাই তাও উল্লেখ করলে পাঠকদের জন্য ও সরকারের নীতি নির্ধারকদের জন্য আরো ভাল হতো। ইয়াবা আনা,পাচার ও বেচাকেনাসহ বিচার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ঘুষ-দুর্নীতি বহাল রেখে ইয়াবার ভয়াবহতা দমন সম্ভব নয়। শুধু মতবিনিময় সভা করে কুকুরের লেজ সোজা করা যাবে না। শুধু ইয়াবা ব্যবসায়ী কেন সংশ্লিষ্ট সকলের হঠাৎ বেড়ে যাওয়া সম্পত্তির হিসাব নিয়ে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতিকেও ’জিরো টলারেন্স’ বলতে হবে। দুর্নীতিবাজদেরও ধরতে হবে বিচারের আওতায় আনতে হবে। মানুষ দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকে আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তার ভয়ের কারণে ও রাষ্ট্রীয় আইনে বিচারে শাস্তির ভয়ে। সুতরাং ফাঁদ মামলা দিয়ে দুর্নীতিবাজদের হাতেনাতে ধৃত করতে হবে ব্যাপকভাবে। যারা ঘুষ নিতে অভ্যস্থ হয়ে গেছেন তারা দুর্নীতিবিরোধী মতবিনিময় সভায় গরম বক্তৃতা দেওয়ার পরদিনই আবার ঘুষ নেন। পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখেও ঘুষ নেওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। তাদের যুক্তি আমরা কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নিই না। খুশী করে দিলে নিই। তা ঘুষ-দুর্নীতি হবে না। যারা যে কাজ করার জন্য জনগণের টেক্সের টাকা থেকে সরকারী বেতন/ভাতা নেন তারা তাদের সরকারী পদমর্যদা ব্যবহার করে নেওয়া উপরী টাকা অবশ্যই ঘুষ-দুর্নীতি। সর্বস্থরে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে অবশ্যই ইয়াবা আমদানী,পাচার ও সেবন বন্ধ হবে।
দেশের মধ্যে ইয়াবা তথা মাদক সেবন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যারা ইতোমধ্যেই ’এডিকটেড’ বা মাদকাসক্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার মাধ্যমে ভাল করতে হবে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবনকারীদের হাতেনাতে ধৃত করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দন্ডিত করতে হবে। মাদক ব্যবহারকারীদের সব সময় ভীতির মধ্যে রাখতে হবে। আজকে (শনিবার) পত্রিকায় প্রকাশিত এক সংবাদে জানা যায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। এখন থেকে ৩৩৩ নাম্বারে কল করে মাদকের বিরুদ্ধে সহজেই ডিসিকে অভিযোগ করা যাবে। সেই ধরনের একজন সাধারণ নাগরিকের কলের ভিত্তিতে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের জুমছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ও জুয়ার আসর থেকে ১০ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি দিয়েছেন। বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলায় এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন সারা বছর ধরে অব্যাহত রাখলে ইয়াবা তথা মাদক সেবন অবশ্যই কমে যাবে। ব্যবহার কমে গেলে মাদকের চাহিদা কমবে। চাহিদা কমতে কমতে এক সময় বন্ধ হলে ইয়াবা আমদানীও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থনীতির ধর্ম অনুযায়ী বন্ধ হয়ে যাবে। তখন বন্ধুকযুদ্ধে বিনাবিচারে মানুষ হত্যার অপবাদ সরকারকে আর নিতে হবে না।
বহুল আলোচিত দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) বিল,২০১৬ গত ৯ জুন সংসদে পাস হয়েছে। আইনটি রাষ্ট্রপতির সম্মতিলাভের পর বিগত ২১ জুন ২০১৬ বাংলাদেশ গেজেটে সর্ব সাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশিত হয়েছে। এখানে উল্লেখ প্রয়োজন যে , আইনের মূল প্রস্তাবটি বিগত ১২/৮/১৪ইং তারিখ কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভায় কক্সবাজার জেলার দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হিসেবে আমার দেওয়া। যাতে ২০১৩ সালে সংশোধিত দুদক আইনের তপশীল আরো সংশোধন করে ’পাবলিক মানি’ ও ’পাবলিক সার্ভেন্ট’ জড়িত না থাকলে দন্ডবিধির ৪২০,৪৬৭,৪৬৮,৪৭১ ও ৪৭৭এ ধারার অপরাধ দুদককর্তৃক তদন্তযোগ্য হবে না,বরং আগের মত পুলিশকর্তৃক তদন্তযোগ্য ও ম্যাজিষ্ট্রেটকর্তৃক বিচারযোগ্য হবে। আমার দেওয়া প্রস্তাব গ্রহন করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে,আইন মন্ত্রণালয় পরীক্ষানিরীক্ষা করে তা মন্ত্রীপরিষদে প্রেরণ করলে মন্ত্রীসভা তা পাস করে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করার অনুমতি দিলে তা সংসদে উপস্থপিত হয়ে পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে তা গেজেটে প্রকাশিত হয়।
ভবিষ্যৎ বংসধরকে মাদকমুক্ত করার উদ্দেশ্যে সরকারকে প্রতিরোধমূলক আরো কার্যক্রম গ্রহন করতে হবে। এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে সারা দেশের স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা সংঘ গঠন করা হয়েছে যার মাধ্যমে সততার শিক্ষা দেওয়া হয়। সততা সংঘের মাধ্যমে ধুমপান ও মাদকের মারাত্মক কুফল সম্পর্কে অবহিত করে শিক্ষার্থীদের ধুমপান ও সকল প্রকার মাদককে ধৃণা করতে শিক্ষা দিতে হবে। শিশু বয়স থেকে সততায় অভ্যস্থ করার জন্য অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুদকের উদ্যোগে ও অর্থায়নে ’সততা স্টোর’ খোলা হয়েছে। ’সততা স্টোরে’ বিক্রয়ের জন্য শিক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী থাকবে যাতে ন্যায্য মূল্য লেখা থাকবে, কিন্ত কোন বিক্রেতা থাকবে না। শিক্ষার্থী-ক্রেতা নির্দিষ্ট স্থানে নির্ধারিত মুল্যের টাকা রেখে দ্রব্যটি ক্রয় করে নিয়ে আসবেন। কোন বিক্রেতা ছাড়া স্টোরে টাকা না দিয়েও দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে আসার সুযোগ থাকলেও শিক্ষার্থী-ক্রেতারা নির্ধারিত মুল্য নির্ধারিত স্থানে প্রদান করেই মালামাল নেবেন। এতেই সততা শিক্ষা ও অভ্যাস করা হচ্ছে। সরকার দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুদক ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মাধ্যমে ’সততা সংঘ’ গঠন ও ’সততা স্টোর’ প্রতিষ্ঠা বাধ্যতামূলক করতে পারে। এতে মনে হয় দেশব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে যত খরচ হচ্ছে তার চেয়ে বেশী বাজেট লাগবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধকে প্রকৃত জনযদ্ধে পরিণত করতে হবে। মাদকাসক্ত প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মত সরকারী/বেসরকারী চাকুরীতেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে এবং ছাত্রজীবনে সততা সংঘের সদস্য হিসেবে ধুমপান ও মাদককে ঘৃণা করা সহ সততা চর্চা করেছে মর্মে সার্টিফিকেট উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও সরকারী/বেসরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে মর্মে সরকারের আইন করা ও তা ব্যাপকভাবে প্রচার করা জনস্বার্থে ও দেশের স্বার্থে এখনই আবশ্যক বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
লেখকঃ একজন কলামিষ্ট, সাবেক সভাপতি কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি, সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটার, বহু বইয়ের প্রণেতা এবং কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন সিনিয়ার আইনজীবী।

Top