সাকিবদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জের আফগান সিরিজ

download-1-2-e1528010944513.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে শনিবার। আগের রাতে বৃষ্টি বাধায় যখন দেরি হচ্ছে প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু হতে, ড্রেসিং রুমে গলা ফাটিয়ে গান গাইছেন বাংলাদেশ দলের সবাই। তবে সেই ফুরফুরে সেই ভাব পরে রূপ নিয়েছে অস্বস্তিতে। দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে হেরে গেছে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচে হারের সেই অস্বস্তিকে সঙ্গী করেই বাংলাদেশ পা রাখছে মূল সিরিজে। রোববার দেরাদুনে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়। এই ম্যাচ দিয়েই ভারতের ২১তম টি-টোয়েন্টি ভেন্যু হিসেবে আন্তর্জাতিক অভিষেক হতে যাচ্ছে দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানদের উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেসব দিনকে বেশ পেছনে ফেলে এসেছে আফগানিস্তান। র‌্যাঙ্কিং তার বড় প্রমাণ। টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের দুই ধাপ ওপরে আফগানরা। বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান যে কারণে আফগানদের ফেভারিট মেনেই শুরু করছেন সিরিজ। আফগানদের এগিয়ে চলার একটি প্রমাণ শুক্রবারের প্রস্তুতি ম্যাচও। ঝড়-বৃষ্টির কারণে দেশে বাংলাদেশের প্রস্তুতি পর্ব বাধাগ্রস্ত হয়েছে বারবার। সুখবর মেলেনি দেরাদুন গিয়েও। রশিদ খান, মুজিব উর রেহমানদের ছাড়াই প্রস্তুতি ম্যাচের আফগান দল উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ দলকে।
ইতিহাস মনে রাখলে অবশ্য প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশের খুব বেশি কাতর না হওয়ারই কথা। প্রস্তুতি পর্বে কাঙ্ক্তি ফলটা প্রায়ই ধরা দেয় না বাংলাদেশের। ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে তো সিডনির ক্লাব দলগুলোর কাছে হেরেছিল চারটি ম্যাচ। মূল টুর্নামেন্টে ঠিকই দেখা গিয়েছিল ভিন্ন চেহারা। এরকম উদাহরণ আছে আরও। এবারও তেমন কিছু হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বাংলাদেশের সবচয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নি:সন্দেহে সময়ের আলোচিত দুই স্পিনার রশিদ খান ও মুজিব উর রেহমান। সঙ্গে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবিকে নিয়ে গড়া আফগান স্পিন আক্রমণ টি-টোয়েন্টিতে সত্যিকার অর্থেই দুন্দান্ত। তবে বাংলাদেশের শক্তির জায়গাও ব্যাটিং। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সাকিবদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং অর্ডারের সামর্থ্য আছে ওই স্পিন আক্রমণের জবাব দেওয়ার।
সবশেষ শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শেষ বলে হেরে যাওয়া ম্যাচের একাদশ থেকে একটি পরিবর্তন নিশ্চিতই। চোটের কারণে এই সিরিজে নেই ম্স্তুাফিজুর রহমান। তার বদলে একাদশে ঢুকবেন হয়ত আবু জায়েদ কিংবা আবু হায়দারের একজন।
পরিবর্তন আসতে পারে আরও একটি। ওই টুর্নামেন্টে ফর্মের খোঁজে মিডল অর্ডারে নামিয়ে দেওয়া সৌম্য সরকারের ওপর এবার পড়তে পারে কোপ। মোসাদ্দেক হোসেন যে একাদশে ফেরার অপেক্ষায়। মাত্র দুই সপ্তাহ পরই আফগনিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় উপলক্ষ্য। ভারতের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুতে খেলবে তারা নিজেদের অভিষেক টেস্ট। তার আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলাই বিস্ময়কর। এই সিরিজ হওয়ার কথা ছিল ওয়ানডের। ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের গুছিয়ে নেওয়ার শুরুও হতে পারত এটি। কিন্তু বিস্ময়করভাবে বাংলাদেশ পরে বেছে নেয় টি-টোয়েন্টি। বিসিবি প্রধানের যুক্তি ছিল, টি-টোয়েন্টি খুব বেশি খেলার সুযোগ পায় না বাংলাদেশ।
সেদিক থেকেও দায়টা বেশি বাংলাদেশের। সিরিজের যৌক্তিকতা প্রমাণের দায়। টি-টোয়েন্টিতে এগিয়ে চলার যে প্রমাণ শ্রীলঙ্কায় রেখেছে বাংলাদেশ, সেটি ধরে রাখার দায় আছে। বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের টি-টোয়েন্টি খুব আলোচিত হয়েছিল সেই সিরিজে। সেই ব্র্যান্ডকে আরও উজ্জ¦ল করার দায়ও আছে। আর যতোই র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্যবধান থাকুক কিংবা সাকিব এগিয়ে রাখুক প্রতিপক্ষকে, আফগানদের কাছে সিরিজ হারলে সমালোচনা ঝড় তীব্র হওয়ারই কথা। সব মিলিয়ে এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। যেখনে পাওয়ার আছে সামান্যই, তার চেয়ে বেশি আছে হারানোর।

Top