২০৩ কোটি টাকায় প্রাণ পাচ্ছে বাঁকখালী

34392937_300923640444216_686388808156971008_n.jpg

এম. বেদারুল আলম :
চীনের দুঃখ বলা হয় যেমন ‘হোয়াংহো’ নদীকে তেমনি কক্সবাজারের দুঃখ বাঁকখালী নদী। অবশেষে সেই দুঃখ দুর করতে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প বাঁকখালী নদী ড্রেজিং এবং রক্ষাবাধ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০৩ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে জেলার ২ উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ১৯ হাজার ৪শ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। বন্যা থেকে রক্ষা পাবে রামু সদরের ৩ লাখ মানুষ। পাশাপাশি নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রেহায় পাবে ২ হাজার পরিবার।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মোঃ সবিবুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প বাঁকখালী নদীর ড্রেজিং এবং রক্ষাবাধের জন্য ২০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০১৭-১০১৮ অর্থ বছরের বাজেট থেকে উক্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছ্।ে এটি বাস্তবায়িত হলে রামু এবং কক্সবাজার সদরের ২১ ইউনিয়না বন্যার কবল রক্ষা পাবে পাশাপাশি ১৯ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে নির্বিগ্নে চাষাবাদ করতে পারবে কৃষকরা। এ প্রকল্পের আওতায় নদী ড্রেজিং হবে ২৮ কিলোমিটার এবং বাঁকখালীর রক্ষাবাধ নির্মান করা হবে ৩৮ কিলোমিটার। এটি কস্তুরা ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে খনন আরম্ভ হয়ে শেষ হবে রামুর বাঁকখালী নদীর হাইটুপি অংশে। এর খনন কাজ শেষ হলে কক্সবাজারবাসির নদী নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরাজমান সমস্যা কেটে যাবে। চাষাবাদে জাতীয় উৎপাদনে জেলার ২০ হাজার হেক্টর আবাদ যোগ হবে।
বাঁকখালী নদী ড্রেজিং প্রকল্পের ব্যবস্থাপক শাহাজাহান সরকার জানান, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আশাকরি উক্ত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এ প্রকল্পে বন্যা ,সেচ, জানমালের ক্ষয় নিরোধক অর্থাৎ নদীর তীরে রক্ষা বাধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য ৩৮ কিলোমিটার জুড়ে রক্ষাবাধ নির্মান করা হচ্ছে। আর সিসি ব্লক ইতোমধ্যে পিএমখালীর নয়াপাড়া, ঘাটকুলিয়াপাড়া, রামুর মিঠাছড়ির ওমখালীসহ বিভিন্ন অংশে বসানো হয়েছে। শহরের বিআইডাব্লিই ঘাট থেকে ৪ কিলোমিটার উপরের অংশ থেকে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া ৬টি উপ নদীর মুখ থেকে নব্যতা সংকট কাটানোর জন্য ও রয়েছে নদী শাসন তথা খনন । রয়েছে নদীর মুখে পানি চলাচল সহজীকরনে ৫টি কালভার্ট নির্মান। প্রকল্পের উপরের অংশে অর্থাৎ রামুর হাইটুঁপি অংশে ৮০ মিটার এবং নিচের দিকে অর্থাৎ বাকঁখালীর মোহনার দিকে ৪০ মিটার পর্যন্ত গভীরে খনন করা হবে জানিয়েছেন টিকাদারের নিয়োজিত সুপাইভাইজার।
এদিকে বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গনের মুখেপড়ে গত বছর ক্ষতিগ্রস্থ হয় কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার সাড়ে দুই সহ¯্রাধিক পরিবার। সদর উপজেলার পিএমখালী , ঝিলংজার ৮’শ পরিবার এবং রামু উপজেলার রাজারকুল, ফতেখারকুল, মিঠাছড়ির প্রায় ১২’শ পরিবারের গত কয়েক বছর যাবৎ জীবন কাটছে চরম উৎকন্ঠায়। গত কয়েক বছরে বর্ষা মওসুমে প্রবল জোয়ারের তোঁড়ে বিলীন হয়েছে বাঁকখালীর বাংলা বাজার, নয়াপাড়া, মুক্তারকুল, ঘাটকুলিয়াপাড়া, চাঁন্দের পাড়া, রামুর রাজারকুল, ফতেখারকুল নদীর পাড়। অব্যাহত ভাঙ্গনের কারনে হুমকির মুখে পড়ে রামু-সদরের চাষাবাদের একমাত্র অবলম্বন বাঁকখালী রাবার ড্যাম। বাঁকখালী নদীর নয়াপাড়া ও বাংলাবাজার অংশ এবং মুক্তাকুল থেকে নদী ভাংগনের কারনে ৭৫টি পরিবার গৃহহারা হয়ে আশ্রয় নেয় বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায়। গত বছরের দু’দফা বন্যা ও জোয়ারের তোড়ে বিলীন হওয়া পিএমখালীর বাংলাবাজার নয়াপাড়ার অসহায় পরিবার সমুহ হল আবদুল্লাহ, শের আলী ও তার ভাই মেহের আলী, আবুল হোসেন, আলী আহমদ, মনসুর আলী। নতুন করে ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে মাষ্টার আবু বক্করের বাড়ি, মোহাম্মদ আলী, নুরুল ইসলাম মেম্বার, সিরাজুল মোস্তফা, নুরুল আবছার, হেলাল উদ্দিন, ডালিম, নুরুল হকের বাড়ি। বিলিনের পথে ঝিলংজার পশ্চিম মুক্তারকুলের শতাধিক পরিবার। ইতোমধ্যে বিলিন হয়েছে ৫০টির মত পরিবার। পশ্চিম মুক্তারকুলের অর্ধ বিলিন হওয়া বাড়ির মালিকরা হলেন জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মনিরুল আলম চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, আলী আকবর, মাস্টার মাহবুব, আমান উল্লাহ , হাবিব উল্লাহ, ফরিদুল আলম, শফি উল্লাহ, মোহাম্মদুল হক, ওবাইদুল হালিম, মৌলানা আনোয়ার, আজিজুল হক, জাফর আলম, মুজিব বাবুর্চি, বদি আলম, রমিজা খাতুন, আবুল কালাম, আবদুল আজিজ, নুরুল ইসলাম, এড.নুরুল আলম, অধ্যাপক আনোরুল হক,মাঃ সৈয়দ আকবর, রাশেদুল আলম, নুরুল হক, মনসুর আলম প্রমুখ।
ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করতে পারবনা। কেননা বাঁকখালীর এ প্রকল্পটি যদি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিতেন তাহলে ২ উপজেলার ৪ হাজারমত বাড়িঘর বিলীন হয়ে যেত চলতি বর্ষায়।
অপরদিকে গত বছর বাঁকখালীর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এর আগে জোট সরকারের সময় মেজর অবঃ হাফিজ উদ্দিনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। দ্রুত বাঁকখালীর তীরবর্তী পরিবারের সুরক্ষায় প্রকল্প বাস্তবায়ণের আশ্বাস প্রদান করলে ও তা কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করায় প্রাণ পেয়েছে ২ উপজেলার ৩ লাখ উৎকন্ঠিত জনসাধরণের। সবার একটাই চাওয়া প্রকল্পটি যেন যথাসময়ে যথাযথভাবে শেষ হয়।

Top