মাহে রমজানের সওগাত

images-2.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

আজ পবিত্র মাহে রমজানের ২০ তম দিন। আজ সুর্যাস্তের পূর্বেই সৌভাগ্যবান মুসল্লিরা ইতিকাফে অবস্থান করবেন। ‘ইতিকাফ’ আরবি শব্দ আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোন স্থানে আটকে পড়া বা আবদ্ধ হয়ে থাকা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় রমযান মাসের শেষ দশদিন অথবা অন্যকোন দিন জাগতিক কাজকর্ম ও পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইবাদতের নিয়তে মসজিদে বা ঘরে নামাযের স্থানে অবস্থান করা বা স্থির থাকাকে ইতিকাফ বলে।
ইতিকাফ তিন প্রকার: ১. ওয়াজিব ইতিকাক, ২. সুন্নাত ইতিকাফ ৩. মুস্তাহাব ইতিকাফ।
১. ওয়াজিব ইতিফাক: কেউ মানত করল যে, আমার যদি অমুক কাজটি হয়ে যায় তাহলে আমি একদিন বা দু’দিনের ইতিকাফ থাকবো, তারপর লোকটির কাজ হয়ে গেলো। এটি ওয়াজিব ইতিকাফ যা পালন করা জরুরী। স্মরণ রাখা চাই যে, ওয়াজিব ইতিফাকের জন্য রোযা শর্ত। রোযা বিহীন ইতিকাফ সহীহ নয়। (দুররে মুখতার, ২: ১২৯)
২. সুন্নাতে মুয়াক্কাদার ইতিকাফ: এই ইতিকাফটি রমযানুল মোবারকের শেষ দশকে। অর্থাৎ রমযানের বিশ তারিখের সূর্য ডুবে যাওয়ার আগে ইতিফাকের নিয়তে মসজিদে প্রবেশ কবরে অত:পর ত্রিশ তারিখ সূর্যাস্তের পর বা ঊনত্রিশ রমযান চাঁদ দেখা যাওয়ার পর মসজিদ থেকে বের হবে। স্মরণ রাখতে হবে, সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ইতিকাফ কিফায়া অর্থাৎ যদি মহল্লার সকল বাসিন্দা ইতিকাফ ছেড়ে দেয় তাহলে সবাই আখেরাতের জবাবদিহিতায় গ্রেফতার হয়ে যাবে। আর যদি একজন লোকও ইতিফাকে বসল তাহলে সবাই আখেরাতের ধরা থেকে বেঁচে যাবে। এই ইতিফাকেও রোযা শর্ত, তবে রমযানে রোযাই যথেষ্ট।
৩. মুস্তাহাব ইতিফাক: মুস্তাহাব ইতিকাফ হলে দিনে বা রাতের যে কোন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে তখন ইতিকাফের নিয়ত করবে; যতক্ষণ ধরে মসজিদে অবস্থান করবে ইতিকাফের সাওয়াব পবে। নিয়তের জন্য অন্তরে শুধু এতটুকু খেয়াল করা ও মুখে বলা যথেষ্ট যে, আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে মসজিদের ইতিকাফের নিয়ম করলাম
রাসুলুল্লাহ (দ:) নিয়মিতভাবে প্রতি বছর রমযান মাসের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবায়ে কিরামগণও ইতিকাফ করতেন। নবী করীম (দ:) ইতিকাফের এত বেশী গুরুত্ব দিতেন যে, কখনো তা ছুটে গেলে ঈদের মাসে আদায় করতেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) এর হাদীস সূত্রে জানা যায়, ‘রাসুলুল্লাহ (দ) প্রতি রমযানের শেষ দশ দিন (মসজিদে) ইতিকাফ করতেন। এ আমল তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত কায়েম ছিল। নবী করীম (দ:) এর ওফাতের পর তার বিধিগণও এ নিয়ম পালন করেন।’ (বুখারী ও মুসলিম)।
পার্থিব কর্মকান্ড থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে মহান আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগের জন্য পুরুষদের মসজিদে এবং নারীদের জন্য গৃহে অবস্থান শর্ত। স্ত্রী লোকেরা মসজিদে ইতিকাফ করা মাকরূহ। ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে, যেখানে তিনি নামায আদায় করেন সেখানেই ইতিকাফ করবেন। বাড়ির নির্দিষ্ট স্থান না থাকলে যে কোন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে ইতিকাফ করবেন এবং ঈদের চাঁদ উদয় না হওয়া পর্যন্ত ইতিফাকের স্থান ত্যাগ করবেন না। ইতিকাফকালে ইতিফাককারীরা সর্বদা জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, পবিত্র কুরআন তিলওয়াতসহ ইবাদত বন্দেগীতে রত থাকতে হবে।
রমযান মাসের শেষ দিন ইতিকাফ করার মধ্যে অসাধারণ ফজিলত রয়েছে। নবী করিম (দ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রমযানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করবে, তার জন্য দুই হজ্ব ও দুই ওমরার সওয়াব রয়েছে। (বায়হাকী। ইতিফাকের ফজিলত সম্বন্ধে অন্য হাদিসে রয়েছে- যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক দিনের ইতিকাফ করল, আল্লাহ পাক তার ও দোজখের মধ্যখানে এমন তিনটি পরিখা তৈরী করে দেবেন, যার একটি থেকে অপরটির দূরত্ব হবে পূর্ব ও পশ্চিমেরও বেশি। (তিরমিযি ও বায়হাকী)। বিশেষত মাহে রমজানের শেষ দিন ইতিকাফ অবস্থায় থাকায় ‘লাইলাতুল কদর’ বা ভাগ্যের রজনী লাভের সৌভাগ্য হতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র মাহে রমযানে মসজিদে ইতিকাফ করার মাধ্যমে গুনাহর পাপরাশি থেকে বেঁচে থেকে অশেষ নেকি লাভের মোক্ষম সুযোগ দান করুন। আমিন।

Top