মাহে রমজানের সওগাত

images-2.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

মাহে রমজানের আজ একুশতম দিবস। পবিত্র মাহে রমজান হচ্ছে আল-কুরআনের মাস। কুরআন নাযিলের মাস। আর পবিত্র কুরআন হচ্ছে আম্বিয়ায়ে কেরামের উপর নাযিলকৃত আল্লাহর সর্বশেষ কিতাব ও বিধান। কোরআন আল্লাহর কালাম এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ। এর মাধ্যমেই তিনি মানুষকে আইন ও জীবন ব্যবস্থা দিয়েছেন। তাই, আল্লাহর পবিত্র কোরআন যে মাসে নাযিল হয়েছে সে মাসটিও সর্বাধিক বরকতময় মাস। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন ঃ ‘রমযান মাসে কোরআন নাযিল করা হয়েছে। এতে রয়েছে মানুষের জন্য হেদায়াত এবং পথ চলার নির্দেশিকা ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করার সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ।’ (সূরা বাকারা-১৮৫)
এই আয়াতে রমাযান মাসে কোরাআন নাযিল করার কথা বলা হয়েছে এবং এও বলা হয়েছে যে, এ হচ্ছে মানুষের জীবন বিধান ও পথ চলার নির্দেশিকা। কোরআন না পড়ে কিংবা না বুঝে শুধু চুমু খেলে অথবা সুন্দর গিলাফ পরিয়ে ভালভাবে তাকে সাজিয়ে রেখে দিলে হেদায়াত পাওয়া যাবে না। কোরআনকে বুঝতে হবে এবং তা থেকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান খুঁজে নিতে হবে। সূরা কদরে বলা হয়েছে ঃ আমি এই কোরাআন কদরের রাত্রে নাযিল করেছি। আর কদরের রাত হচ্ছে রমযান মাসে। অর্থাৎ হেরা গুহায় যে দিন প্রথম কোরআন নাজিল হয় সে দিনটি ছিল রমজান মাসেরই একটি দিন। হজরত জিবরীল রমজান মাসে প্রতি রাতে রাসূলুল্লাহ (সা)-কে কোরআন শিক্ষা দিতেন।’ হযরত ফাতেমা (রা) থেকে অপর এক বর্ণনায় এসেছে: ‘হযরত জিবরীল (আ) প্র্রতি বছর রমজানে একবার রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে কোরআন অবতীর্ণ করতেন। কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের বছর দু’বার রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে কোরআন পেশ করেন।’ পবিত্র কোরআনের কারণেই মাহে রমযানের মর্যাদা। তাছাড়া অন্যান্য কয়েকটা আসমানী কিতাবও এই রমযান মাসেই নাযিল হয়েছে। এদিক থেকে রমযানের মর্যাদার উৎস একাধিক। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন ঃ রমজানের ১ম রাত্রে হযরত ইবরাহীম (আ)-এর উপর সহীফা, ৬ই রমজান হযরত মূসা (আ)-এর উপর তাওরাত, ১৩ই রমযান হযরত ঈসা (আ)-এর উপর ইঞ্জিল, ১৮ই রমযান হযরত দাঊদ (আ)-এর নিকট যবুর এবং ২৪শে রমজান (দিবাগত রাত) কোরআন নাযিল হয়েছে। অর্থাৎ এই রমযান মাসেই অতীতের উম্মতগুলোর কাছেও আল্লাহর হেদায়াতের বাণী এসেছিল। এদিক থেকে রমযান হচ্ছে মহা কল্যাণ, পুরস্কার ও হেদায়াতে ভরা মওসুম। তাইতো রমযানে কোরআন পড়া ও শেখা আরো বেশী উত্তম। কোরআন সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন ঃ তোমরা কোরআন পড়। হাশরের দিন কোরআন নিজ সাথীদের জন্য সুপারিশ করবে।
আমরা কোরআন পড়া বলতে বুঝি শুধু তেলাওয়াত করা। অর্থ ও ব্যাখ্যা বুঝার কোন প্রয়োজন অনুভব করি না। অথচ সাধারণ যুক্তিতেও দেখা যায় যে, আমরা যে কোন ভাষায় কোন কিছু পড়ি তা বুঝার জন্যই পড়ি। না বুঝার জন্য কেউ পড়িনা। অথচ সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআন পড়ার ক্ষেত্রে অসহায় ও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ি। আমরা এজন্য নিজেদের শক্তি-সামর্থের সদ্ব্যবহার করি না। কোরআন না বুঝে পড়লেও সওয়াব হবে। কিন্তু কোরআনের প্রতি এই জুলুম কেন? কেন আমরা কোরআন বুঝে পড়ার চেষ্টা করি না এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধের সাথে সরাসরি পরিচিত হই না?
পবিত্র কোরআন আমাদের বলছে ঃ আমরা আপনার নিকট যে কিতাব নাযিল করেছি তা বরকতপূর্ণ। লোকেরা যেন এর আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে এবং জ্ঞানী লোকেরা যেন অবশ্যই তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোআনের অর্থ না বুঝলে এর ব্যাখ্যা বুঝবে কিভাবে এবং কিভাবে চিন্তা-ভাবনা করবে কিংবা গবেষণা করবে ? যারা কোরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না আল্লাহ তাদেরকে কঠোর ভাষায় প্রশ্ন করেছেন ঃ তারা কি কোরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, নাকি তাদের অন্তরে তালা লেগে আছে ? কোরআনের অর্থ, ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য নিয়ে চিন্তা না করা বদ্ধ অন্তর কিংবা তালাযুক্ত অন্তরের পরিচায়ক। অর্থ না বুঝে তেলাওয়াতকারীরা কি এই আয়াতে বর্ণিত প্রশ্নের সম্মুখীন নয় ? আল্লাহ আমাদের অন্তরকে খুলে দিন ও তালামুক্ত করুন।
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন ঃ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে কোরআন শিখে ও শিক্ষা দেয়। এখানেও শিখা ও শিক্ষা দেয়ার অর্থ শুধু তেলাওয়াত নয়, বরং আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যাও এর অন্তর্ভুক্ত। তাই শিক্ষা বলতে শুধু কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কোরআন সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন ঃ যদি আমি এই কোরআনকে পাহাড়ের উপর নাযিল করতাম, তাহলে তুমি দেখতে যে পাহাড় আল্লাহর ভয়ে বিনীত হতো ও ফেটে চৌচির হয়ে যেতো। (সূরা হাশর)
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা যারা কোরআন পড়ি তাদের অবস্থা কি বিনয়ী পাহাড়ের মতো হয় ? কেন হয় না ? নাকি আমাদের অন্তর পাথর কিংবা এর চাইতেও আরো বেশী কঠোর। কোরআন পাঠ করলে যদি আমাদের অন্তরে আকাংখিত ভয়-ভীতি ও আশাবাদ না জাগে তাহলে কোরআন পাঠের পদ্ধতির পুনর্বিন্যাস করে দেখতে হবে। কোরআন এসেছে মানুষকে সহজ-সরল পথ দেখাতে। কোরআন হচ্ছে অন্তরের চিকিৎসা ও আলো এবং জ্ঞান ও দলীল। কোরআন হচ্ছে সৌভাগ্য ও সওয়াবের বিষয়। কোরআন হচ্ছে আল্লাহর শিক্ষা ও চিরন্তন শাসনতন্ত্র। তাই এ কোরআনকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ ও অনুধাবনের চেষ্টা চালাতে হবে।

Top