মহেশখালী থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু এ মাসেই

download-8.jpg

মনতোষ বেদজ্ঞ :
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মহেশখালীতে একটি ভাসমান সংরক্ষণাগার ও একটি পুন:গ্যাসায়ন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। অপর একটি ইউনিট খুব শিঘ্রই স্থাপন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের জুন মাস হতে ৫০০ এমএমসিএফডি (মিলিয়ন কিউবিক ফিট পার ডে) এবং অক্টোবর ২০১৮ নাগাদ আরও ৫০০ এমএমসিএফডি সমতুল্য এলএনজি পাইপ লাইনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং পটুয়াখালীর পায়রাতে দুটি স্থলভিত্তিক এলএনজি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তাঁর বাজেট বক্তৃতায় এইসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে ক্রমশ বাড়ছে জ্বালানির চাহিদা। দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। ফলে বিকল্প জ্বালানির উৎস সন্ধান করতে হচ্ছে।’
২০৪১ সালের মধ্যে ‘সমৃদ্ধ দেশ’ গড়তে ৭ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। এবারের বাজেটে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিপরীতে ২৪ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে গ্যাসের সংকট মোকাবেলায় ২০১০ সালে সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। আমদানী করা তরল গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রথমে ভাসমান টার্মিনালে আনা এবং পরে সিএনজিতে রূপান্তরিত করে সারাদেশে সরবরাহের পরিকল্পনা করে সরকার। এই গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারার মধ্য দিয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে গত ২৪ এপ্রিল বিকেলে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রথম চালান নিয়ে মহেশখালী উপকূলে ভিড়ে ‘এক্সিলেন্স’ নামের একটি জাহাজ। যুক্তারাষ্ট্রের মালিকানাধীন এই জাহাজটিতে রয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার তরল গ্যাস। প্রতিদিন জাহাজে করে ৫’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আনার পরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিকভাবে কাতার থেকে এলএনজি আমদানীর চুক্তি করে বাংলাদেশ। যার আওতায় মহেশখালিতে পৌঁছে এলএনজি বহনকারী জাহাজ ‘এক্সিলেন্স’। এটি ব্যবহৃত হবে ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিকে ১৫ বছর ভাড়া দেয়া হলেও এরপর এটি বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় চলে আসবে।
সূত্রমতে, এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের জন্য মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
এদিকে একাধিক উৎস থেকে ‘জি টু জি’ ভিত্তিতে ওমান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) ক্রয়ের লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা এবং ওমান ট্রেডিং কর্পোরেশনের (ওটিআই) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পেট্রোবাংলার সম্মেলন কক্ষে গত ৬ মে ১০ বছর মেয়াদী এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তিতে বলা হয়, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান চাহিদা ৩ হাজার ৬ শত এমএমসিএফডি। ২০১৮ সালে দৈনিক গ্যাসের উৎপাদনের পরিমাণ ২ হাজার ৭ শত ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এ উন্নীত করা হলেও ২০৪১ সাল নাগাদ সকল সেক্টরের সম্মিলিত গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৮ হাজার এমএমসিএফডি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের তুলনায় এ চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় এ ঘাটতি পূরণে লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে এলএনজি টার্মিনালসমূহে প্রতিবছর নূন্যতম ১ দশমিক ৮ হতে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন হারে এলএনজি সরবরাহের জন্য কাতারের ‘রাসগ্যাস’ এর সাথে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এই এলএনজি সরবরাহের পরিমাণ হবে ইইবিএল এর টার্মিনাল চালু হওয়া সাপেক্ষে বছরে শূন্য দশমিক ৫ মিলিয়ন টন হারে এবং সামিট এলএনজি টার্মিনাল কো. (প্রাইভেট) লিমিটেড এর টার্মিনাল চালু হওয়া সাপেক্ষে বছরে আরো শূন্য দশমিক ৫ মিলিয়ন টন হারে অর্থাৎ সর্বমোট বছরে ১ মিলিয়ন টন।

Top