মুক্তিযুদ্ধে কুতুবদিয়া জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয় ১৭ সংখ্যালঘুকে

Mukti.docl_.jpg

এম. এ মান্নান :
কুতুবদিয়ায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ না হলেও নানা নির্যাতন ছিল ব্যাপকহারে। আর এর পেছনে ছিল স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র। তৎকালীন সময়ে (বর্তমানে ৬টি) ৩ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সহ সমাজপতিদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল পিচ কমিটি। এ ছাড়াও থানা কমিটি সহ মোট ৪টি পিচ কমিটি ছিল সক্রিয়। তাদের সহায়তায় ১৯৭১ সালের এপ্রিলের প্রথম দিকে পাকবাহিনী প্রবেশ করে কুতুবদিয়ায়।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপজেলা কমান্ড সূত্র জানায়, দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধকালীন সময়ে পাক বাহনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি যুদ্ধহয়নি। তবে পাকবাহিনী ও স্থানীয় দোসরদের নির্যাতন ছিল অপরিসীম।
পাক বাহিনীর হতে হত্যা,ধর্ষন,লুট,বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ ইত্যাদির বেশির ভাগই ছিল সংখ্যা লঘু তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর। এসময় স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধীরা জোরপূর্বক ১৭ জন সংখ্যালঘুকে ধর্মান্তরিত করে। ১২ জন হিন্দু যুবতী-নারী ধর্ষিত হয় পাক সেনাদের হাতে। এদের কেই কেউ এখনো বেঁচে আছে। পৃথক পৃথক ভাবে গুলিকরে হত্যা করা হয় বড়ঘোপ কৈর্বত্যপাড়ার সুধর্ণ জলদাশকে। একই পাড়ার মহিলা অনন্তবালা দাশকে ঘরের ভেতর রেখে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। কৈয়ারবিলের নিরানন্দ নাথকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
আলী আকবর ডেইল ও বড়ঘোপ ইউনিয়ন সহ পুরো থানায় প্রায় ১১৪টি বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। অন্তত: একহাজার দোকান-পাটে লুটতড়াজ চালানো হয়। পাড়া-মহল্লা থেকে গরু-ছাগল জোর করে নিয়ে ভ’ড়িভোজ করে পাকবাহিনীরা। মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই প্রশিক্ষণ বা প্রতিবেশী থানায় দায়িত্ব পালন করায় হানাদার মুক্ত হতে দেরী হয় কুতুবদিয়ায়। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুতুবদিয়া উপজেলা কমান্ড এর সভাপতি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ কুতুবী (মরহুম) । মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপজেলা কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার তৎকালীন সংগ্রাম কমিটির সেক্রেটারী ও উপজেলা আ‘লীগের সেক্রেটারী বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুচছাফা বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত ও চাহিদা মোতাবেক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা সংঘটিত বেশ কিছু তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে। পাক হানাদেরে নৃশংস নির্যাতনের দু‘টি বধ্যভ’মি সনাক্ত করা হয়। এদের মধ্যে কৈয়ারবিলে সমুদ্র সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। অপরটি বড়ঘোপ জেটিঘাটের উত্তরে শ্বশানের পাশে একটি। তবে এগুলো এখনো সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তথ্যমতে প্রায় দু‘শ এর মতো রাজাকার সক্রিয় ছিল যুদ্ধের সময়। আলবদর ২ জন তালিকাভুক্ত হলেও এরা ৫ জন হবে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলায় ৬জন মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত থাকলেও বর্তমানে এর সংখ্যা ১৬। যারা প্রত্যেকেই মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ভোগ করছেন। তিনি আরো বলেন ১৬ ডিসেম্বর সংগ্রাম কমিটির তিনি নেতৃত্ব দিয়ে কুতুবদিয়া থানা দখল করেন। তৎকালীন সময়ে থানার ওসি ছিলেন আজগর আলী। অবশ্য তিনি থানা দখলের আগেই পালিয়ে যান। যাবার আগে মামলায় তাকে প্রধান আসামী করে ২৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জসীট প্রদান করেন সেই ওসি।
পরবর্তীতে পাকসেনাদের দোসরদের অনেকেই গা ঢাকা দেন। পরে ফিরে এলেও রক্তপাত এড়াতে তিনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

Top