জি-৭ সম্মেলনের আগে ট্রুডো-ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ট্রাম্পের বাকযুদ্ধ

Trump-to-skip-climate-portion-of-G7-after-Twitter-spat-with-Macron-and-Trudeau-350x197.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক আরোপ করে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে সমালোচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনের আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়েছেন। শিল্পোন্নত দেশগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের এ গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় সরকারপ্রধানদের এ বাদানুবাদ দু’পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়াবেই বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। শুক্রবার থেকে কানাডার কেব্যাকে শিল্পোন্নত সাতটি দেশের দুইদিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলন শুরু হচ্ছে বলে জানিয়ে বিবিসি। সম্মেলন থেকেই সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে উড়ে যাবেন ট্রাম্প। সেখানে ১২ জুন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা তার।
শিল্পোন্নত দেশগুলোর এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক ছাড়াও ইরান ও প্যারিস চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনের বেরিয়ে যাওয়া নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বাধ্য হলে ট্রাম্পকে ছাড়াই নিজেদের মধ্যে চুক্তি করবেন তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি ‘বিচ্ছিন্ন থাকতে চান’ তাহলে বাকিরা নিজেদের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, মন্তব্য ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর।
“এই ছয়টি দেশ প্রতিনিধিত্ব করে মূল্যবোধের, প্রতিনিধিত্ব করে এমন এক অর্থনৈতিক বাজারের যার ইতিহাসের ওজন আছে। এটি (ছয় দেশ) এখন একটি সত্যিকারের আন্তর্জাতিক শক্তি,” টুইটারে বলেন ম্যাক্রোঁ। উত্তাপ ছড়িয়েছেন আয়োজক দেশের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও। অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে ট্রাম্পের ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ দোহাইকে ‘হাস্যকর’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি।
পাল্টা আক্রমণ করতে দেরি করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্টও। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ট্রুডোর আচরণকে ‘বিরক্তিকর’ অ্যাখ্যা দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর শুল্ক আরোপ ও বাণিজ্যে বাধা দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। “শুল্ক ও বাধা সরিয়ে নাও, নাহলে তোমাদের চেয়ে বেশিই করবো,” হুমকি ট্রাম্পের।
ব্রেক্সিট নিয়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শুল্কের পাল্টায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতির ৬০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণকারী ৭টি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও জার্মানির শীর্ষ নেতৃত্বের এ সম্মেলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন কয়েকশ আন্দোলনকারী। বৃহস্পতিবার রাতের ওই বিক্ষোভে বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি জি-৭ভুক্ত দেশগুলোর পতাকাও পড়ানো হয়।

Top