স্টিভ রোডসের সামনে পাঁচটি চ্যালেঞ্জ

f4f324a5461f6a3d4729b9200599a7d9-5b1a41351e221.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :
বাংলাদেশের নতুন কোচ এখন স্টিভ রোডস। সাকিব-মাশরাফিরা তার অধীনে দ্রুত ফল পাবেন এই প্রত্যাশা সবার। স্বাভাবিকভাকে এই প্রত্যাশার চাপের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হবে ইংলিশ কোচকে। ২০১৯ ও ২০২০ সালের দুটি বড় আইসিসি ইভেন্টে হবে তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তাছাড়া রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। আগামী দুই বছরে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন রোডস, সেগুলোর একটি তালিকা করেছে ক্রিকইনফো-
আত্মবিশ্বাসের সঙ্কট ঃ বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লেগেছে গত বছরের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। তারপর তো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজ আরও হতাশ করেছে তাদের। মার্চে নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি জয় কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছিল কিন্তু সেটা বেশিদিন টেকাতে পারেনি। সবশেষ আফগানিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের শোচনীয় লজ্জা পেতে হলো বাংলাদেশকে। আফগানদের কাছে হারের ক্ষত তাড়াতাড়ি সারার নয়। কিন্তু ২০১৫ সালের সেই আত্মবিশ্বাসকে ফিরিয়ে আনার কারিগর হতে হবে রোডসকে। পাঁচ সিনিয়র খেলোয়াড়কে তার মতো করে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জও আছে। বিশ্বকাপের এক বছরও নেই। এই অল্প সময়ের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন ও সৌম্য সরকারের মতো তরুণ ক্রিকেটারকে প্রস্তুত করতে হবে ইংলিশ কোচকে।
বেশি বেশি অ্যাওয়ে ম্যাচ
২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের উত্থানের অন্যতম কারণ ছিল অনেকগুলো হোম ম্যাচ। নিজেদের উঠোনে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল তারা। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বেশির ভাগ ম্যাচ তারা খেলবে বিদেশে। পরের সিরিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। তারপর এই বছর এশিয়া কাপ খেলতে ভারত যাবে তারা। আর আগামী বছর নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফর করবে বাংলাদেশ। নতুন ভবিষ্যত সফর সূচি (এফটিপি) অনুযায়ী ২০২০ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির আগে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডে খেলবে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে দারুণ ফর্মে থাকলেও বাংলাদেশের কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে বিদেশে গিয়ে। সামর্থ্যরে প্রমাণ হবে সেখানেই। আর এই কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে হবে রোডসকে।
বোর্ড প্রধানের সংশ্লিষ্টতা
বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্য কোনও সময় হলে বোর্ড প্রেসিডেন্টকে নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হতো না রোডসকে। কিন্তু বর্তমান প্রধান নাজমুল হাসান পাপন দলের সমালোচনা, প্রশংসা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্টবাদী। কেউ কেউ একে হস্তক্ষেপ বললেও নাজমুলের দৃঢ় বিশ্বাস, পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন তিনি। এখন দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে টিম মিটিংয়েও নাজমুলকে দেখা যায়। নির্বাচকরা তাদের বাছাই করা দল জমা দেওয়ার পরও খেলোয়াড় নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট। প্রধান কোচ হিসেবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে অনেক স্বাধীনতা দিয়েছিলেন নাজমুল, কিন্তু বিসিবি ও কয়েক জন খেলোয়াড় সেটা মেনে নেয়নি। কিন্তু রোডস এটা উপভোগ করবেন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে রোডসের চ্যালেঞ্জ হবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কোচিং করানোর পাশাপাশি বিসিবির সমর্থন ও প্রধানের ‘হস্তক্ষেপে’ ভারসাম্য রাখা।
ভালো করার স্বল্প মেয়াদী বাসনা
রোডসকে নিশ্চিত করতে হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে তরুণ ক্রিকেটারদের ভালো করার ক্ষুধাটা টিকিয়ে রাখা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দারুণ আবির্ভাবে কুড়ান তরুণরা, অভিভূত করেন সবাইকে। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা খুব বেশি খেলোয়াড়রা ধরে রাখতে পারে না। সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন তার অন্যতম উদাহরণ। তাছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান ও সাব্বির রহমানের দারুণ আবির্ভাব হয়েছিল। কিন্তু ধারাবাহিকতা এখন আর দেখা যাচ্ছে না তাদের মধ্যে। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দিয়ে জাতীয় দলে ঢুকে তারকা হওয়ার বাসনা দেখা যায় অনেকের মধ্যে। এখন নিজের কৌশল ব্যবহার করে এই তরুণ ক্রিকেটারদের মনে কীভাবে অদম্য বাসনা ঢুকিয়ে দিতে পারেন রোডস, সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ।
ওয়ানডে খেলুড়ে দেশের তকমা
রোডস ভালো করেই জানেন বাংলাদেশ ওয়ানডেতে যতটা ভালো পারফরম্যান্স করে, টেস্ট কিংবা টি-টোয়েন্টিতে ততটা নয়। মাশরাফি মুর্তজার নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে ওয়ানডেতে বেশ শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে তৈরি হচ্ছে তারা। এখন রোডসের চ্যালেঞ্জ টি-টোয়েন্টি ও টেস্টে সাকিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিদ্বন্দি¦তাপূর্ণ দল তৈরি করা। বর্তমানে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের উন্নতি চোখে পড়ার মতো নয়। ২০ ওভারের ক্রিকেটার তৈরির জন্য প্রতি বছর বিপিএল আয়োজন করলেও আগ্রাসী ব্যাটসম্যান বা বোলারের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না সেভাবে। আর ২০১৬ সালের পর থেকে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু পুরো টেস্ট ম্যাচে এক নাগাড়ে পরিণত বোলিং করার মতো পেসার পাওয়া যায়নি। এই দুটি ফরম্যাটের দুর্বলতা কাটিয়ে শক্তিশালী দল গড়াই হবে রোডসের আরও একটি চ্যালেঞ্জ।

Top