মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধের তৎপরতা : সাড়ে ৩ শ’ কোটি টাকার মিশন

download-9.jpg

নুপা আলম :
মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সরকার দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে কক্সবাজার সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার বন্ধ হচ্ছে না কোনভাবে। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায়ও টেকনাফে ১৭ হাজার ৮০০ শত ইয়াবা সহ একজনকে আটক করেছে বিজিবি। ইয়াবা পাচার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান বন্ধের অপচেষ্টা চালাচ্ছে চিহ্নিত গডফাদাররা। সরকারি দায়িত্বশীল সংস্থার তথ্য মতে, সাড়ে ৩ শত জনের একটি ইয়াবা গডফাদার সিন্ডিকেট সাড়ে ৩ শত কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সংগ্রহ করে অপচেষ্টার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এ সিন্ডিকেট কৌশলে বিভিন্ন পেশার মানুষকে ভিন্ন কৌশলে মাঠে নামিয়ে আন্দোলন, একশ্রেণীর অসাধু সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টাও চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশব্যাপী চলমান মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো কক্সবাজারেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে কক্সবাজারে প্রাণহানি ঘটনা ঘটেছে ৭ জনের। এরপর কক্সবাজার জেলার চিহ্নিত ইয়াবা গডফাদাররা আত্মগোপনে গেলেও কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না ইয়াবা পাচার। এর মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া উত্তর পাড়া থেকে ১৭ হাজার ৮ শত ইয়াবা সহ শাহাবুদ্দিন (২৭) নামের এক যুবককে আটক করেছে বিজিবি। এসময় জব্দ করা হয়েছে ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত একটি পিকআপও। আটক শাহাবুদ্দিন (২৭) কক্সবাজারের রামু উপজেলার খরুলিয়া বাজার এলাকার নাজির আহমদের পুত্র।
বিজিবি’র টেকনাফস্থ ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল মোঃ আছাদুজ-জামান চৌধুরী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। বিজিবির খুরেরমুখ চেকপোষ্টে কর্মরত হাবিলদার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন এর নেতৃত্বে একটি টহলদল পিকআপটি তল্লাশীকালীন পিকআপ এর চালকের সীটের নীচে অভিনব পদ্ধতিতে লুকানো অবস্থায় ইয়াবা ভর্তি ৮৯ টি নীল রংয়ের প্যাকেট উদ্ধার করে। যেখানে ৫৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার মূল্যমানের ১৭ হাজার ৮০০ ইয়াবা পাওয়া যায়। এব্যাপারে মামলা করে আটক ব্যক্তিকে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে ৫ জুন ২০ হাজার ইয়াবার আরো একটি চালান আটক করেছে বিজিবি। চলমান বিশেষ অভিযানের পরও ইয়াবা পাচার বন্ধ না হওয়া নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।
সীমান্ত উপজেলার বাসিন্দা এবং কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী আবদুস শুক্কুর জানান, উখিয়া টেকনাফের চিহ্নিত গডফাদাররা অভিযানের পর আত্মগোপনে গেছে। আত্মগোপনে যাওয়া এসব চিহ্নিত গডফাদার হাতে গোনা কয়েকজন। কিন্তু এসব গডফাদারদের পাচারকারিরা এখনো সীমান্তে রয়েছে। এসব পাচারকারিরা পাচার অব্যাহত রেখেছে। এর জন্য সীমান্তে আরো কঠোর নজরদারীর প্রয়োজন রয়েছে বলে মত তার।
বিজিবি’র টেকনাফস্থ ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল মোঃ আছাদুজ-জামান চৌধুরী জানান, অভিযানের পর পাচার কিছুটা কমলেও এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি ইয়াবা পাচার। এর জন্য সীমান্তে সব ধরণের নজরদারীতে আনা হয়েছে। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের যে যুদ্ধ ঘোষনা এটা বাস্তবায়নে বিজিবি সর্তকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে, দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান বন্ধ করতে অপতৎপরতা শুরু করেছে কক্সবাজারের চিহ্নিত ইয়াবা গডফাদাররা। সরকারি দায়িত্বশীল সংস্থার তথ্য মতে, কক্সবাজার জেলায় মাদকের তালিকায় রয়েছে ১১৫১ জনের নাম। যার মধ্যে টেকনাফ কেন্দ্রিক ইয়াবা গডফাদারের সংখ্যা ৬০ জন। অভিযান শুরুর আগেই চিহ্নিত এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগ আত্মগোপনে চলে যায়। আত্মগোপনে থাকাকালিন সময়ে নানা কৌশলে এ অভিযান বন্ধ করতে অপচেষ্টা শুরু করেছে গডফাদাররা। যার নেতৃত্ব দিচ্ছে ইয়াবা জগতের দাউদ ইব্রাহিম খ্যাত টেকনাফের এক ব্যক্তি। চট্টগ্রামে অবস্থান করে সিন্ডিকেটভূক্ত সাড়ে ৩ শত ইয়াবা ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করে এ ব্যক্তি সাড়ে ৩ শত কোটি টাকার এক তহবিল সংগ্রহ করে। এরপর শুরু হয় নানা অপচেষ্টা। এ অপচেষ্টার অংশ হিসেবে বিশেষ কিছু ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ শুরু করা হয়। এসব ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে এ অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা আন্দোলনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিদেরও ম্যানেজ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গে কক্সবাজারের মাদক বিরোধী আন্দোলনের নেতা দিদারুল আলম রাশেদ জানান, মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কৌশলী। এরা টাকার মিশন নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে স্বাভাবিক। এটা মাথায় রেখে সরকার এবং আইন প্রয়োগকারি সংস্থাকে কৌশলে এগিয়ে যেতে হবে। কক্সবাজার জেলাবাসি ইয়াবা আগ্রাসন থেকে মুক্তি চায়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, অভিযান চলবে। মাদক যেকোন মূল্য বন্ধ করা হবে।

Top