সাগরপথে ফের মানবপাচার

download-1-6.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক :
প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারো কক্সবাজারের বিভিন্ন উপকুলের সাগরপথে মানবপাচার শুরু করেছে একটি চক্র। ৭ জুন (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টায় টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর নৌঘাট দিয়ে আছারবনিয়ার জনৈক মমতাজের ট্রলারে করে ৫০ জনের একটি দল মালেয়শিয়ায় পাড়ি জমায়।
এ বিষয়ে বাহারছাড়া ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা আলী বলেন, বৃহস্পতিবারে রাত দালালদের সহযোগীতায় ৪ জন স্থানীয় কিশোর ও যুবক এবং ৪০/৪৫ জন রোহিঙ্গা নারী পুরুষের একটি দল শামলাপুর থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে মালেয়শিয়ার উদ্দ্যেশে যাত্রা করেছে। বিষয়টি আমি জানতে পেরে সেদিন রাতেই পুলিশকে অবহিত করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি আরো বলেন, উত্তর শীলখালির সৌদি প্রবাসী আনোয়ারুল ইসলামের স্ত্রী শামলা বেগম ও শামলাপুরের আছার বনিয়ার রহমত উল্লাহ’র সহযোগীতায় একই এলাকার মমতাজের ট্রলারে করে দলটি সাগরপথে মালেয়শিয়ার উদ্দ্যেশে রওয়ানা দিয়েছে। বাহারছড়া ইউডি’র সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য আনোয়ারা বেগম বলেন, পাচার হওয়াদের ৫ জন স্থানীয় যুবক ছিল। এদের মধ্যে একজন ফেরত এসেছেন। বাকিরা হলেন উত্তর শিলখালীর আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে আজিজুল ইসলাম বাবুল (১৭), নুরুল ইসলাম প্রকাশ আব্দু শুক্কুরের ছেলে রহিম উদ্দিন (২২) নুরুল কবিরের ছেলে মুফিজুর রহমান (১৮), মোজাহারের ছেলে ধলইয়া (১৫)।
স্থানীয় চৌকিদার নুরুল হক প্রকাশ লেইট্টা বলেন, সেদিন রাতে পাচার হওয়া ওই ৪ যুবকের সাথে আমার রাস্তায় দেখা হয়। তাদের সাথে আরো ৬/৭ জন লোক ছিল। তখন তারাঁ আমাকে বলেছিল, তারা পাসপোর্ট করতে চট্টগ্রাম যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি আমার সন্দেহ হলে আমি তাদের পিছু লই। তাদেরকে ট্রলারে উঠতে দেখি। পরে আমি বিষয়টি মেম্বারকে অবহিত করি।
বাহারছড়ার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক কাঞ্চন কান্তি দাশ বলেন, খবর পেয়ে আমি সেদিন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ কাউকে পায়নি।
তিনি আরো বলেন, দেখুন মানবপাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স রয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। মাস চারেক আগেও মানবপাচারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, শামলাপুর থেকে পাচারের বিষয়টি তারা জানা ছিল না। তিনি খোঁজ নিয়ে এবিষয়ে ব্যবস্থা নিবে।

Top